২০১৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্টে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে জয়ের স্বপ্ন জাগিয়েও ব্যর্থ হয়েছিলেন বিরাট কোহলি। এবারও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লড়াই চালিয়ে গেলেন একা হাতে। তবে এজবাস্টনেও তীরে ভিড়াতে পারলেন না তরী। কোহলির চেষ্টাকে ব্যর্থ করে জয় উদযাপন করেছে ইংল্যান্ড।
১৯৪ রানের লক্ষ্য পেরোতে পারেনি ভারত। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। দ্বিতীয় ইনিংসে ১৬২ রানে অলআউট হয়ে কোহলিরা হেরেছে ৩১ রানে। ভারতীয় অধিনায়কের আউটের পর জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় সফরকারীদের। বেন স্টোকসের চমৎকার বোলিংয়ে জয় দিয়ে রাঙিয়ে নিয়েছে ইংলিশরা তাদের হাজারতম টেস্ট। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে গেল ইংলিশরা।
দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ড ১৮০ রানে অলআউট হওয়ায় ভারতের সামনে জয়ের দারুণ সুযোগ তৈরি হয়। তবে ভারত ৫ উইকেট হারিয়ে ১১০ রানে তৃতীয় দিন শেষ করলে জমে যায় ম্যাচ। যদিও ক্রিজে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান কোহলি থাকায় সফরকারীদের দিকেই জয়ের পাল্লা ভারী ছিল। চতুর্থ দিন তিনি ৪৩ রান দিয়ে শুরু করেন, আর দিনেশ কার্তিক মাঠে নামেন ১৮ রান নিয়ে।
তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে ধৈর্যের পরীক্ষা দিলেও চতুর্থ দিনে সেটা আর ধরে রাখতে পারলে না কার্তিক। নামের পাশে আর মাত্র ২ রান যোগ করে ২০ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। তবে নতুন ব্যাটসম্যান হার্দিক পান্ডিয়া নিয়ে লক্ষ্যের পথে হাঁটতে থাকেন কোহলি। ভারতীয় অধিনায়ক হাফসেঞ্চুরি তুলে নিলে আরও দুশ্চিন্তার মেঘ জমান ইংলিশদের আকাশে।
কিন্তু জয় থেকে ৫৩ রান দূরে থাকার সময় ভুল করে বসলেন ভারতীয় অধিনায়ক। স্টোকসের বলে পা এগিয়ে খেলতে গিয়ে শিকার হন এলবিডাব্লিউয়ের। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ৯৩ বলে ৪ বাউন্ডারি খেলে যান ৫১ রানের কার্যকরী ইনিংস। প্রথম ইনিংসেও ভেঙে পড়া ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারে আলো ছড়িয়েছিলেন কেবল তিনি। সতীর্থদের ব্যর্থতার মাঝে ১৪৯ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও লড়াই করলেন। কিন্তু তার দুটি ইনিংসই বৃথা গেল। পান্ডিয়া ৩১ রান করে আশার প্রদীপটা জ্বালিয়ে রাখলেও স্টোকস তা নিভিয়ে দেন।
৪ উইকেট পাওয়া এই পেসার ৩১ রান করা পান্ডিয়াকে আউট করে নিশ্চিত করেন ইংল্যান্ডের জয়। যদিও ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন স্যাম কারান। প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট পাওয়ার পর ব্যাট হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৩ রান করার পুরস্কার পেয়েছেন এই অলরাউন্ডার। ক্রিকইনফো
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ২৮৭ ও ১৮০
ভারত: ২৭৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৪.২ ওভারে ১৬২ (কোহলি ৫১, পান্ডিয়া ৩১, কার্তিক ২০; স্টোকস ৪/৪০, ব্রড ২/৪৩, অ্যান্ডারসন ২/৫০)।
ফল: ইংল্যান্ড ৩১ রানে জয়ী।
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ১-০তে এগিয়ে।
ম্যাচসেরা: স্যাম কারান।








