সাউদাম্পটন টেস্ট জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। আগামী মঙ্গলবার হবে পঞ্চম ও শেষ টেস্ট। ওভালের এ লড়াই দিয়ে শেষ হবে অ্যালিস্টার কুকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
রেকর্ড ৫৯ টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া কুক সোমবার নিশ্চিত করেছেন, পঞ্চম টেস্ট খেলে একেবারে ব্যাট-প্যাড তুলে রাখবেন তিনি। রেকর্ড সমৃদ্ধ ক্যারিয়ারের ইতি টানার ঘোষণা দিয়ে কুক বলেছেন, ‘আর কিছু দেওয়ার বাকি নেই।’
১৬০ টেস্টে রেকর্ড ১২,২৫৪ রান ও ৩২ সেঞ্চুরির মালিক আরও যোগ করেছেন, ‘আমি আমার কল্পনার চেয়েও বেশি অর্জন করেছি। ইংল্যান্ডের হয়ে কয়েকজন গ্রেট খেলোয়াড়ের পাশে খেলতে পারা ছিল আমার জন্য বিশেষ প্রাপ্তি।’
সর্বকালের শীর্ষ টেস্ট ব্যাটসম্যানের তালিকায় কুক ষষ্ঠ স্থানে, অধিনায়ক হিসেবে রেকর্ড ১১,৬২৭ রান তার।
কিন্তু এই বছর ব্যাট হাতে বেশ ভুগতে হয়েছে তাকে। ১৬ ইনিংস খেলে গড় মাত্র ১৮.৬২ রান। ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজে নেই একটি ফিফটিও।
এক বিবৃতিতে কুক জানান, গত কয়েক মাসে অনেক চিন্তা ভাবনা ও আলোচনার পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের এই সিদ্ধান্ত নিলেন। তিনি যোগ করেছেন, ‘যদিও এটা দুঃখের দিন, কিন্তু আমি বিদায় নিচ্ছি অনেক খুশি মনে। কারণ আমি জানি সবকিছু দিয়েছি।’
আর কখনও সতীর্থদের সঙ্গে ড্রেসিং রুম ভাগাভাগি করা হবে না ভেবে কষ্ট পাচ্ছেন কুক, ‘ড্রেসিং রুমে আমার সতীর্থদের সঙ্গে আর কখনও থাকা হবে না, এটা আমার জন্য কঠিন ব্যাপার। কিন্তু আমি জানি সময়টা সঠিক। সারা জীবন আমি ক্রিকেট ভালোবেসেছি, শৈশবে বাগানে ক্রিকেট খেলা থেকে শুরু করে। ইংল্যান্ডের জার্সি পরা কতটা বিশেষ, সেটাকে আমি কখনও ছোট করে দেখবো না।’
সবশেষে কুক জানালেন তরুণদের জায়গা করে দিতে চান, ‘পরের প্রজন্মের তরুণ ক্রিকেটাররা সুযোগ দেওয়ার এটাই সময়, যেন তারা আমাদের বিনোদিত করতে পারে। তারা যেন বুঝতে পারে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা কতটা গর্বের।’
বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল হুট করে। ২০০৬ সালে নাগপুরে ভারতের বিপক্ষে শেষ মিনিটে মাইকেল ভনের জায়গায় ঢোকেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে করেন অপরাজিত সেঞ্চুরি। অসুস্থতার কারণে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে খেলা হয়নি কুকের। কিন্তু তারপর থেকে রেকর্ড টানা ১৫৮ ম্যাচ খেলেছেন।
৭টি অ্যাশেজ সিরিজ খেলে চারটি জেতা কুক ২০১০-১১ মৌসুমে ১২৭.৬৬ গড়ে ৭৬৬ রান করেছিলেন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২৪ বছরে প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জেতে ইংল্যান্ড।
২০১২ সালে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের কাছ থেকে অধিনায়কত্ব পান কুক। ২৪ টেস্ট জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি, অধিনায়ক হিসেবে টেস্ট জয়ে তার উপরে কেবল ভন (২৬)। প্রথম বছরেই ভারতে ঐতিহাসিক জয় পায় তার দল। অধিনায়ক হিসেবে ২০১৩ ও ২০১৫ সালে দুটি অ্যাশেজ সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন কুক। কিন্তু মাঝে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জাও পেতে হয়েছে তাকে। সবচেয়ে বেশি ২২ টেস্ট হারের রেকর্ডও অধিনায়ক কুকের।
প্রথম ইংলিশ ব্যাটসম্যান হিসেবে ২০১৬ সালে ১০ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন কুক। যদিও ভারতে ওইবার ইংল্যান্ড ৪-০ তে সিরিজ হেরে যায়। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অধিনায়কত্বে ইস্তফা দেন তিনি।
গত মৌসুমে এজবাস্টনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৪৩ রান করার পর কিছুটা রান খরায় ছিলেন কুক। কিন্তু বক্সিং ডে টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পঞ্চম ডাবল সেঞ্চুরি করে অপরাজিত ছিলেন ২৪৪ রানে। তারপর থেকে আবার ফর্মে ভাটা পড়ে, শেষ ১৬ ইনিংসে মাত্র একটি ফিফটি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে গেলেও কুক খেলে যাবেন কাউন্টিতে। ২০১৯ সালে এসেক্সকে সময় দিতে চান পুরোপুরি। বিবিসি
কুকের টেস্ট রেকর্ড:
ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান- ১২,২৫৪
ইংল্যান্ডের হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি- ৩২
সর্বোচ্চ ১৫০ এর বেশি রান করা ইংলিশ খেলোয়াড়- ১১
সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা ইংলিশ খেলোয়াড়- ১৬০
টানা সবচেয়ে বেশি টেস্ট খেলা খেলোয়াড়- ১৫৮
সর্বোচ্চ টেস্ট খেলা ইংল্যান্ড অধিনায়ক- ৫৯
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট হার- ২২








