শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যুব এশিয়া কাপ শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। টিকে থাকতে পাকিস্তানের বিপক্ষে জিততেই হতো। সোমবার ৩ উইকেটে জিতেছেন তৌহিদ হৃদয়রা।
চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে পাকিস্তানকে ১৮৭ রানে অলআউট করে বাংলাদেশ। ৪৫.২ ওভারে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনআপ। জবাবে ৪৭.২ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯১ রান করে বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা শুরুতে গতি বাড়াতে পারেননি। তাদের ৩০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ১২.৪ ওভারে। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে অভিষেক দাস ফেরান ওপেনার মোহাম্মদ মহসীন খানকে।
সাইম আইয়ুবের সঙ্গে অধিনায়ক রোহেল নাজির ৪৩ রানের দ্বিতীয় জুটি গড়েন। ২৩তম ওভারে রিশাদ হোসেন জোড়া আঘাত করলে আবার চাপে পড়ে পাকিস্তান। রোহেল ২৩ রানে আউট হওয়ার পর রানের খাতা না খুলে বিদায় নেন শাদ খান।
ওয়াকার আহমেদ ও সাইমের ৪৭ রানের জুটি আবার প্রতিরোধ গড়ে। ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে রান আউট হন সাইম। ৭৭ বলে ৪৯ রান করেন তিনি। অভিষেক ম্যাচে রাকিবুল হাসান বোল্ড করে ফেরান মোহাম্মদ আসিফকে।
১৩২ রানে ৫ উইকেট হারানো পাকিস্তান শক্ত প্রতিরোধ গড়ে ওয়াকার ও জুনাইদ খানের ব্যাটে। ২৪ রানে জুনাইদকে ফিরিয়ে তাদের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখোমুখি করেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। ৫২ রানের এই জুটি ভাঙার পর ৩ রানের ব্যবধানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।
রিশাদ সবচেয়ে বেশি ৩ উইকেট নেন বাংলাদেশের পক্ষে। ২টি পেয়েছেন শরিফুল ইসলাম।
জবাব দিতে নেমে দ্বিতীয় বলেই ওপেনার তানজিদ হাসান আউট হন। ১১তম ওভারের মধ্যে সাজিদ হোসেন ও অধিনায়ক তৌহিদ ফিরে যান। ৪২ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেন প্রান্তিক নওরোজ নাবিল ও শামীম হোসেন।
৯৭ রানের জুটি গড়েন তারা দুজন। ৯৩ বলে ৪টি চারে ৫৮ রান করে আউট হন নাবিল। আকবর আলীর সঙ্গে ৩০ রানের জুটি গড়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন শামীম। দলীয় ১৬৯ রানে তিনি ক্রিজ ছাড়েন ৫টি চার ও ২ ছয়ে ৬৫ রান করে।
জয় থেকে ১৪ রান দূরে থাকতে ছোট ব্যাটিং ধসের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। ১০ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারায় তারা। আকবর আলী ১৭ ও অভিষেক ৪ রানে ক্রিজে থেকে দলকে জয়ের বন্দরে নেন।
‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে আগামীকাল মঙ্গলবার হংকংয়ের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে এই ম্যাচ জিততেই হবে তাদের। আর প্রার্থনা করতে হবে যেন শ্রীলঙ্কা হারায় পাকিস্তানকে। ২ ম্যাচ শেষে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের সমান ২ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে বাংলাদেশ। ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে শ্রীলঙ্কা। অবশ্য পাকিস্তান লঙ্কানদের হারালেও হংকংয়ের সঙ্গে জিতে শেষ চারে উঠতে পারবে বাংলাদেশ, সেজন্য রান রেটে এগিয়ে থাকতে জিততে হবে বড় ব্যবধানে।








