১৪ বছর বয়সে আপনার সর্বোচ্চ রান কত ছিল? হয়তো ৫০ কিংবা ১০০! তবে ভারতের প্রিয়াংশু মলিয়ার ধারেকাছে যে নেই, সেটা নিশ্চিত। বারোদায় মঙ্গলবার দুই দিনের এক ম্যাচে একটি ইনিংসেই অপরাজিত ৫৫৬ রানের বিস্ময়কর স্কোর করেছে এই ভারতীয় কিশোর।
প্রিয়াংশুর দীক্ষাগুরু যে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ী ক্রিকেটার মহিন্দর অমরনাথ! ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা সাবেক ব্যাটসম্যানের প্রতিষ্ঠিত অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ১৪ বছরের এই কিশোর। শ্রী ডিকে গায়েকোয়াড় অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টে যোগী ক্রিকেট অ্যাকাডেমির বিপক্ষে মহিন্দর লালা অমরনাথ ক্রিকেট অ্যাকাডেমির পক্ষে এমন অনবদ্য ইনিংস খেলেছে প্রিয়াংশু।
৪ উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষকে ৫২ রানে অলআউট করার পর প্রথম দিনে শুরু হয় তার জাদুকরী ব্যাটিং। ৩১৯ বলে ৯৮ চার ও ১ ছয়ে ৫৫৬ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিল এই কিশোর। তাতে তার দল করে ৪ উইকেটে ৮২৬ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসেও বল হাতে ২ উইকেট নেয় প্রিয়াংশু। ৮৪ রানে অলআউট হয় যোগী অ্যাকাডেমি। তাতে ইনিংস ও ৬৮৯ রানে জেতে তার দল।
গত বছর একই টুর্নামেন্টে ২৫৪ রান করে প্রিয়াংশু। এবার নিজের সেরা পারফরম্যান্সকে ছাড়িয়ে গেল।
নিজের স্বাভাবিক খেলার কথাই বলেছে প্রিয়াংশু, ‘আমার আগের সেরা পারফরম্যান্স ছিল ২৫৪ রানের, গত বছর একই টুর্নামেন্টে। বোলিং আক্রমণ ছিল ভালো, তারপরও আমি কেবল স্বাভাবিক খেলা খেলেছি। এই ইনিংস তৃপ্তি দিয়েছে আমাকে। কিন্তু এটা সত্যি যে চার থেকে পাঁচবার আউট হতে লেগেছিলাম।
প্রিয়াংশুর বাবা সুরেশ মলিয়া তার ছেলের এমন পারফরম্যান্সের পেছনে কোচ মহিন্দরকে কৃতিত্ব দিলেন। তার পরামর্শেই বারোদায় আসা প্রিয়াংশুর। এই কিশোর আরও যোগ করেছে, ‘নেটে আমার ব্যাটিং সবসময় দেখেন মহিন্দর স্যার। নানা কৌশল ও শট নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলেন। তার নিয়মিত প্রশিক্ষণে আমি অনেক রান পেয়েছি। আমার পারফরম্যান্সে তিনি অনেক খুশি, বলেছেন- চালিয়ে যাও।’
প্রিয়াংশুর মধ্যে অন্যরকম এক প্রতিভা খুঁজে পেয়েছেন মহিন্দর, ‘যখন আমি তাকে প্রথমবার দেখলাম, তখনই বুঝেছি সে বিশেষ একজন। সে দারুণ প্রতিভা এবং আরও বিকশিত হবে। তার আন্তরিকতা ও একাগ্রতা আমার খুব ভালো লাগে।’ মিড ডে, দ্য ক্রিকেটার








