দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ জিতে শুরু করা মধ্যাঞ্চল টানা দ্বিতীয়বার জয়ের আনন্দে ভাসতে পারতো। আবু হায়দার রনি ৬ উইকেট নিয়ে দলকে জয়ের পথেই রেখেছিলেন। কিন্তু উত্তরাঞ্চল চমৎকার প্রতিরোধে আদায় করল নাটকীয় ড্র।
দ্বিতীয় ড্র করে ৭.৯৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুই নম্বরে উত্তরাঞ্চল। ২ ম্যাচে ১৩.৩২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে মধ্যাঞ্চল।
দিনের আরেক ম্যাচে ফলো অনে পড়া দক্ষিণাঞ্চল ড্র করেছে পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে।
মধ্যাঞ্চল-উত্তরাঞ্চল
বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে ২৮৪ রানের টার্গেট ছিল উত্তরাঞ্চলের সামনে। রনির তোপের মুখে পড়া দলটি চার দিনের ম্যাচ শেষ করে ৯ উইকেটে ২৫৫ রানে।
১ উইকেটে ৭ রানে শনিবার খেলা শুরু করে উত্তরাঞ্চল। দিনের তৃতীয় ওভারে রনি তুলে নেন তার দুই নম্বর উইকেট। তারপর ফরহাদ হোসেন ও সানজামুল ইসলামের দারুণ জুটিতে স্বপ্ন দেখা শুরু তাদের। কিন্তু এক ওভারে জোড়া আঘাত করে রবিউল হক বিরাট ধাক্কা দেন। ৯৮ রানের এই জুটি ভাঙেন তিনি ফরহাদকে ৪৭ রানে ফিরিয়ে। তারপর নাঈম ইসলামকে রানের খাতা না খুলতে দিয়ে নিজের শিকার বানান রবিউল।
এই বড় ধাক্কা উত্তরাঞ্চল সামলে ওঠে সানজামুল আর অধিনায়ক জহুরুল ইসলামের জুটিতে। ২২৭ বল মোকাবিলা করা সানজামুলকে আক্ষেপে ভাসিয়ে আবার ব্রেকথ্রু আনেন রবিউল। ১০ চারে ৯২ রান করে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন উত্তরাঞ্চলের বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
পরের ওভারে জহুরুল ৫২ রান করে রনির শিকার হন। তারপর বাঁহাতি এই মিডিয়াম ফাস্ট বোলারের গতিতে পরাস্ত হতে থাকে উত্তরাঞ্চল ব্যাটসম্যানরা। ৪৩ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে হারের আশঙ্কায় পড়ে তারা। ২৫০ রানে ৯ উইকেট হারানো উত্তরাঞ্চল শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছে সাব্বির রহমান ও এবাদত হোসেনের জুটিতে। ২.৫ ওভার টিকে ছিল দশম উইকেটের এই দুই ব্যাটসম্যান। সাব্বির ২৬ রানে টিকে ছিলেন, ৫ বল খেলে রানের খাতা খোলেননি এবাদত।
২১ ওভারে ৮৬ রান দিয়ে রনি নেন ৬ উইকেট। ম্যাচসেরা হয়েছেন দুই ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়া উত্তরাঞ্চলের পেসার এবাদত।
পূর্বাঞ্চল-দক্ষিণাঞ্চল
কোনও উইকেট না হারিয়ে ১৩৫ রানে শেষ দিন খেলতে নামে দক্ষিণাঞ্চল। পূর্বাঞ্চলের ৪৭৩ রানের জবাবে ২৫৮ রানে গুটিয়ে গিয়ে ফলো অনে পড়া দলটি দ্বিতীয় ইনিংসে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে। তাতে ৫ উইকেটে ৩৭৭ রানে তারা দিন শেষ করলে ম্যাচ ড্র হয়। তাদের লিড ছিল ১৬২ রানের।
রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে দক্ষিণাঞ্চলের চমৎকার দ্বিতীয় ইনিংসে কার্যকরী ভূমিকা রাখেন শাহরিয়ার নাফীস ও এনামুল হক বিজয়। ইনিংস সেরা ১৩৩ রান করেন এনামুল। ৮১ রান আসে নাফীসের ব্যাটে। এছাড়া ৪১ রান করেন তুষার ইমরান।
পূর্বাঞ্চল ৯ জনকে দিয়ে বল করিয়েও নাটকীয় কোনও ফল আনতে পারেনি।








