একচ্ছত্র দাপট যাকে বলে, মিরপুরে সেটাই করে দেখাল বাংলাদেশ। রবিবার দুই সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৫ উইকেট ঝুলিতে ভরেছে স্পিনাররা। তাদের টেস্ট ইতিহাসে প্রথমবার প্রতিপক্ষকে ফলো অনে পাঠিয়েছে এবং তারপর ক্ষুরধার স্পিনে ইনিংস ও ১৮৪ রানের অভূতপূর্ব জয়ে সিরিজ নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা।
ঢাকা টেস্টে একপেশে এই লড়াইয়ের পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা গেছে স্বাগতিকদের জন্য অনেক প্রথমের এই জয়:
১ এই প্রথমবার বাংলাদেশ একটি টেস্ট জিতল ইনিংস ব্যবধানে। সব মিলিয়ে এটা তাদের ১৩তম টেস্ট জয়। এনিয়ে দ্বিতীয়বার এক বর্ষপঞ্জিকায় তিন টেস্টে জিতল তারা। এর আগে ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়েকে ৩-০ ব্যবধানে ঘরের মাঠে হারায় বাংলাদেশ। এনিয়ে পাঁচ দিনের ক্রিকেটে তাদের সিরিজ জয় হলো চতুর্থবার, দুইবার করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এই প্রথমবার তারা টেস্টে ফলো অনে পাঠাল প্রতিপক্ষকে।
৩৯৭ কোনও টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের এটাই সর্বোচ্চ রানের লিড। প্রথম ইনিংসে তাদের আগের সর্বোচ্চ রানের লিড ছিল দুই টেস্ট আগে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই ভেন্যুতেই- ২১৮ রানের।
৭/৫৮ টেস্টে এক ইনিংসে তৃতীয় সেরা বোলিং ফিগার মেহেদী হাসান মিরাজের। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাইজুল ইসলামের ৮/৩৯ ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০০৮ সালে সাকিব আল হাসানের ৭/৩৬ শীর্ষ দুইয়ে। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটাই কোনও বাংলাদেশি বোলারের সেরা পারফরম্যান্স। তার আগে এই বছরের শুরুতে কিংস্টনে সাকিবের ও এই সিরিজের প্রথম টেস্টে তাইজুল ছিলেন সেরা পারফর্মার- দুজনেরই বোলিং ফিগার ছিল ৬/৩৩।
১২/১১৭ টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা ম্যাচ ফিগার এটা। নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে গেছেন মিরাজ। দুই মৌসুম আগে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ভেন্যুতেই তিনি ১২ উইকেট নেন ১৫৯ রান দিয়ে। আর উইন্ডিজের বিপক্ষে কোনও স্পিনারের এটা দ্বিতীয় সেরা পারফরম্যান্স, ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমে চেপুকে ভারতের নরেন্দ্র হিরানির বোলিং ফিগার ১৬/১৩৬ সবার উপরে।
১৪ এক ইনিংসে ১১ খেলোয়াড়ের সবাই দুই অঙ্কের ঘরে রান করার ঘটনা ঘটল ১৪তম বার। আর বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে এটাই প্রথম। ৫০৮ রান হচ্ছে পঞ্চম সর্বোচ্চ, যখন ১১ ব্যাটসম্যানই এক ইনিংসে ১০ বা তার বেশি রান করেছেন।
৬১ উইকেট স্পিনাররা নিয়েছেন এই সিরিজে- বাংলাদেশ ৪০, আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২১টি। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে স্পিনারদের দখলে গেছে সর্বোচ্চ ৬২ উইকেট, ২০১৬-১৭ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরে।
৪০ উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনাররা, দুই ম্যাচের সিরিজে কোনও দলের এটাই সর্বোচ্চ। মিরাজ ১৫ উইকেট নিয়ে সবার উপরে। ১০টি তাইজুল ইসলাম, আর সাকিব ৯টি। অভিষেক সিরিজে অফ স্পিনার নাঈম হাসান নিয়েছেন ৬ উইকেট। ক্রিকবাজ








