১০ ওভারের বোলিং কোটা শেষ করে মিড উইকেটে ফিল্ডিং করছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পশ্চিম গ্যালারি তখন ‘মিরাজ’ ‘মিরাজ’ চিৎকারে মুখর। ভক্তদের নিরাশ করেননি তরুণ অফস্পিনার। ওয়ানডেতে নিজের সেরা বোলিংয়ের তৃপ্তি বুকে নিয়ে ভক্তদের উদ্দেশে হাত নাড়লেন তিনি। ওয়ানডে অভিষেকে যেন মিরাজের কীর্তিতে ধন্য সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
গত বছরের মার্চে শ্রীলঙ্কা সফরে ওয়ানডে অভিষেক মিরাজের। টেস্টের মতো ওয়ানডে ক্রিকেটে তেমন সাফল্য পাননি। আজকের আগে ২১ ম্যাচে মাত্র ২০ উইকেট ছিল ঝুলিতে। তবে শেষ ওয়ানডেতে মিরাজের ঘূর্ণিতে লণ্ডভণ্ড ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটিং লাইন-আপ। ২৯ রানে ৪ উইকেট শিকার করে তিনিই বাংলাদেশের সেরা বোলার। গত অক্টোবরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সেরা বোলিং (৩/৪৬) তাই পেছনে পড়ে গেছে।
আজ মিরাজের হাত ধরেই ব্রেক থ্রু এসেছে। নিজের দ্বিতীয় এবং ইনিংসের চতুর্থ ওভারে তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন চন্দরপল হেমরাজকে। খাটো লেন্থের বল কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে মিঠুনের হাতে ধরা পড়েছেন ক্যারিবীয় ওপেনার।
দিনের দ্বিতীয় উইকেটও মিরাজের। চতুর্দশ ওভারে তার ফুলার লেন্থের বল মাঠের বাইরে পাঠাতে গিয়ে বোল্ড হয়ে গেছেন ড্যারেন ব্রাভো।
২৪তম ওভারে আবার মিরাজের আঘাত। এবার তিনি এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেছেন শিমরন হেটমায়ারকে। টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত খেলা হেটমায়ারের সামনে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশের স্পিনার। টেস্টে ২২২ রান করলেও চার বারই ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন মিরাজের বলে। এবারের বাংলাদেশ সফরে ৭ ইনিংসের মধ্যে ৬ বারই মিরাজের শিকার হেটমায়ার।
মিরাজের পরের ওভারেই রোভম্যান পাওয়েল কট বিহাইন্ড। অধিনায়কের বিদায়ে ৫ উইকেটে ৯৯ রানে পরিণত ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। শাই হোপ এক প্রান্ত ধরে রেখে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিলেও ১৯৮ রানের সাদামাটা স্কোর গড়তে পেরেছে অতিথিরা। বাংলাদেশকে সিরিজ জয়ের পথে এগিয়ে দিতে মিরাজের ১০-১-২৯-৪ বোলিং ফিগারের অসীম অবদান। অনুমিতভাবে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে।








