এভিন লুইসের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে খুলনা টাইটানসকে ২৩৮ রানের বিশাল টার্গেট দেয় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। মাহমুদউল্লাহরা সেই রানের পাহাড়ে উঠতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেয়েছেন, যার শেষ হয়েছে ওয়াহাব রিয়াজের হ্যাটট্রিকে। পাকিস্তানি পেসার শেষ তিন ব্যাটসম্যানকে টানা ৩ বলে ফিরিয়ে কুমিল্লার ৮০ রানের জয় নিশ্চিত করেন।
টানা দ্বিতীয় জয়ে কুমিল্লা ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে চিটাগং ভাইকিংসকে টপকে বিপিএলের শীর্ষে। সমান খেলে একই পয়েন্টে দুই নম্বরে চিটাগং। ১১ ম্যাচে মাত্র ৪ পয়েন্ট নিয়ে আগের মতোই সবার শেষে খুলনা।
টস হেরে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা। লুইসের ৪৯ বলে ৫ চার ও ১০ ছয়ে সাজানো অপরাজিত ১০৯ রানের ইনিংস তাদের এনে দেয় বিশাল সংগ্রহ। ৫ উইকেটে ২৩৭ রান করে তারা। জবাবে শহীদ আফ্রিদির স্পিন জাদুর পর ওয়াহাবের পেসে ১৮.৫ ওভারে ১৫৭ রানে অলআউট খুলনা।
বিশাল লক্ষ্যে নেমে যেমন উচিত, তেমন শুরু করেছিল খুলনা। জুনায়েদ সিদ্দিক ও ব্রেন্ডন টেলরের ব্যাটে উড়ন্ত সূচনা হয় তাদের। ৫ ওভারে ৫০ রান করে তারা কোনও উইকেট না হারিয়ে। ষষ্ঠ ওভারের তৃতীয় বলে মেহেদী হাসান ভাঙেন এই ৫০ রানের জুটি। ২৪ বলে ২৭ রানে আউট হন জুনায়েদ।
তারপর টানা তিন ওভারে আফ্রিদি ফেরান ডেভিড মালান (১৩), মাহমুদউল্লাহ (১১) ও টেলরকে (৫০)। ৩৭ রানের ব্যবধানে দলের তিন নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি খুলনা।
যদিও কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে খুলনা। তাদের ২৭ রানে বিচ্ছিন্ন করেন থিসারা পেরেরা। ব্র্যাথওয়েট ২২ রানে তার শিকার। পরের টানা দুই ওভারে নাজমুল (১৪) ও আরিফুল হক (২) আউট হন।
এরপর ১৯তম ওভারে উইকেট উৎসব করেন ওয়াহাব। তৃতীয় বলে ডেভিড উইজকে (৮) মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ক্যাচ বানান তিনি। পরের বলে তাইজুল ইসলামকে (১) বোল্ড করেন পাকিস্তানি পেসার। হ্যাটট্রিক বলটি ঠেকানোর দায়িত্ব পান মোহাম্মদ সাদ্দাম। কিন্তু ওয়াহাবের স্লোয়ারে মিড অফে তামিম ইকবালের ক্যাচ হন তিনি।
২.৫ ওভারে ১৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ওয়াহাব। তার সমান উইকেট নেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার আফ্রিদি।
এই বিপিএলে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের দেখা মিললো। এর আগে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ঢাকা ডায়নামাইটসের স্পিনার আলিস ইসলাম হ্যাটট্রিক করে দলকে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ জেতান।
সব মিলিয়ে বিপিএলে এটি চতুর্থ হ্যাটট্রিকের ঘটনা। আল-আমিন, মোহাম্মদ সামি ও আলিসের সঙ্গে এই অর্জনের খাতায় নাম লিখলেন ওয়াহাব।








