অনেক দিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা জিয়াউর রহমানের ব্যাটে ‘সাইক্লোন’, আর তাতে বিধ্বস্ত শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ১৮২ রানের কঠিন লক্ষ্যে নামা শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব জয় পেয়েছে অতি সহজে, ১৪ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে। ২৯ বলে ৭টি ছক্কায় অপরাজিত ৭২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে শেখ জামালের জয়ের নায়ক জিয়া বুঝিয়ে দিলেন, এখনও তিনি ফুরিয়ে যাননি।
বাংলাদেশের পেস বোলিং অলরাউন্ডারের অভাব পূরণ করতে পারতেন জিয়া। কিন্তু প্রায় ৭ বছর আগে অভিষেক হলেও জাতীয় দলে থিতু হতে পারেননি। ২০১২ সালের জুলাইয়ে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক। ১৪টি টি-টোয়েন্টি ও ১৩টি ওয়ানডের পাশাপাশি টেস্ট খেলেছেন মাত্র একটি, ২০১৩ সালের এপ্রিলে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। পরের বছর জুনে মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পর আর বাংলাদেশ দলে সুযোগ হয়নি।
দীর্ঘ দিন জাতীয় দলে উপেক্ষিত জিয়া সেই শেরে বাংলা স্টেডিয়ামেই জ্বলে উঠলেন শুক্রবার। শেখ জামালকে ফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার পর জানালেন, ‘আমার জন্য এমন একটা ইনিংস খুবই দরকার ছিল। বেশিরভাগ সময় নিচের দিকে ব্যাট করার সুযোগ পাই। তখন হয়তো ইনিংসের দুই/তিন ওভার বাকি থাকে। তবে আজ ১১ ওভারের মতো ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছি, আর সেজন্যই হয়তো সফল হয়েছি।’
৩২ বছর বয়স হয়ে গেলেও জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন দেখেন জিয়া, ‘আমি জাতীয় ফিরতে চাই, এটা আমার স্বপ্ন। তবে শুধু সেদিকে ফোকাস রাখতে চাই না। জাতীয় দল নিয়ে ভেবে লাভ নেই। আমার ফোকাস এখন নিজের পারফরম্যান্সের দিকে। আজকের ম্যাচে ভালো খেলেছি। ফাইনালে আরও ভালো খেলতে চাই।’
এবারের বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের জার্সিতে ৬ ম্যাচের ৪ ইনিংসে ৩৮ রান করেছেন, সর্বোচ্চ ২১। বিপিএলে ব্যর্থতা নিয়ে জিয়ার ব্যাখ্যা, ‘বিপিএলে ব্যাট করার তেমন সুযোগ পাইনি। শেখ জামালে সতীর্থ থেকে শুরু করে টিম ম্যানেজমেন্ট ভালো খেলার আত্মবিশ্বাস দিয়েছে আমাকে। দলের সবার ভরসাতেই আমার ব্যাটিংয়ে পরিবর্তন এসেছে।’








