বুধবার বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছে নিউজিল্যান্ড। অসময়ে আঙুলের চোট পাওয়ায় ১৫ জনের মধ্যে নাম লিখতে পারেননি দ্বিতীয় পছন্দের উইকেটরক্ষক টিম সেইফার্ট। তার ইনজুরিতে কপাল খুলেছে টম ব্লান্ডেলের। নিয়মিত উইকেটরক্ষক টম ল্যাথামের ব্যাকআপ হিসেবে ইংল্যান্ড যাচ্ছেন তিনি, তার অন্তর্ভুক্তি দলে চমকও বটে। নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেললেও বিশ্বকাপ দলে তাকে চমক বলা হচ্ছে কেন? কারণ একটিও ওয়ানডে যে খেলা হয়নি তার!
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫ বার দেশের জার্সি পরলেও তেমন পরিচিত নয় ব্লান্ডেল। তবে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার পর থেকে তিনি এখন আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। এমনটা হওয়া স্বাভাবিক। কারণ বিশ্বকাপে ওয়ানডে অভিষেক হওয়ার তালিকা যে খুব বেশি লম্বা নয়। ড্যানি মরিসন ও অ্যান্ড্রু জোনস সহ নিউজিল্যান্ডের ৮ ক্রিকেটার একদিনের ক্রিকেটে অভিষিক্ত হয়েছেন বিশ্বমঞ্চে খেলে, কিন্তু শেষবার এই ঘটনা ১৯৮৭ সালের আগে। বিশ্বকাপে প্রথম ওয়ানডে খেলেছেন এমন তারকা ক্রিকেটারদের মধ্যে আরও আছেন আন্দ্রে রাসেল, কিয়েরন পোলার্ড, ইমরান তাহির ও অজয় জাদেজা। এবার তাদের সঙ্গে ব্লান্ডেলের নাম যোগ হবে কিনা জানতে অপেক্ষা করতে হবে।
হয়তো আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে খেলা হয়নি ব্লান্ডেলের। তবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তিনি। ঘরের ক্লাব ওয়েলিংটনের হয়ে লিস্ট ‘এ’ খেলছেন ২০১৩ সাল থেকে। তার তিন বছর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অন্য দুই উইকেটরক্ষক ডেন ক্লিভার ও ল্যাথামের সঙ্গে দলে জায়গা পান। ওই টুর্নামেন্টে খেলেন একটি ম্যাচ। ল্যাথামের মতো স্পেশালিস্ট ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেন তিনি, ক্লিভার ছিলেন উইকেটরক্ষক। ২০১২ সালে নিজের দক্ষতা দিয়ে ইংল্যান্ডে এসেক্স লিগে জায়গা পান, পরের বছর ঘরের ক্লাব ওয়েলিংটনে প্লাঙ্কেট শিল্ডে অভিষেক হয়।
তবে প্লাঙ্কেট শিল্ডে দারুণ মৌসুম কাটান ২০১৬-১৭ তে, ১৫ ইনিংসে ৫৪.৬৬ গড়ে ৬৫৬ রান করেন। দলের নির্ভরযোগ্য উইকেটরক্ষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন ২০১৭ সালের নভেম্বরে কেন্টারবুরির বিপক্ষে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ১০ ক্যাচ নিয়ে। ওই বছরের শুরুতে ব্লান্ডেলের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে দলে ডাক পেলেও খেলা হয়নি একটি ম্যাচ। বছরের শেষ দিকে টেস্ট অভিষেক হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। ঘরের মাঠ ওয়েলিংটনে ইনিংস ব্যবধানে জয়ের ভিত গড়ে দেন অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের সঙ্গে ১৪৮ রানের সপ্তম উইকেট জুটি গড়ার পথে ১০৭ রানে অপরাজিত ছিলেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। তাকে নিয়ে ডি গ্র্যান্ডহোমের মূল্যায়ন ছিল, ‘সে খুব শান্ত ছিল, আত্মবিশ্বাসী ও প্রাণবন্ত। ক্রিজে আমার জন্যও কাজ সহজ করে দিয়েছিল সে।’
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বৈচিত্রময় সুইপ খেলে বেশ নজর কেড়েছেন ব্লান্ডেল। ৪০ লিস্ট ‘এ’ তে তার স্ট্রাইক রেট ৭৮.৮৮ আর ৪১ টি-টোয়েন্টিতে ১২৪.৮৩। ২০১৬-১৭ মৌসুমের সুপার স্ম্যাশ শিরোপা জয়ের পথে ৯ ইনিংসে ১৩৪.২৫ স্ট্রাইক রেটে ২৪৩ রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।
এই শিরোপা জয়ের এক দিন পর ব্লান্ডেল প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার ক্যাপ পান। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাউন্ট মাঙ্গানুইয়ে টি-টোয়েন্টি খেলেন তিনি। এরপর আর মাত্র দুটি ২০ ওভারের ম্যাচ খেলেছেন। সম্প্রতি সুপার স্ম্যাশে মিডল ও লোয়ার অর্ডারে আস্থার প্রতিদান দেন ৮ ছয় মেরে। গত মৌসুমে ওয়েলিংটনের হয়ে তার চেয়ে বেশি ছয় মেরেছেন কেবল মাইকেল ব্রেসওয়েল।
অবশ্য একদিনের ক্রিকেট সংস্করণে তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলার মতো নয়। ফোর্ড ট্রফির ওয়ানডে প্রতিযোগিতা খেলতে পারেননি। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির পর একটি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন, গত অক্টোবরে পাকিস্তান ‘এ’ দলের বিপক্ষে। তবে সবশেষ ব্যাট হাতে নেমে গত প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ওটাগোর বিপক্ষে অপরাজিত ছিলেন ১০০ রানে। লম্বা সংস্করণের ক্রিকেটে বেশ নজরকাড়া পারফরম্যান্স, সঙ্গে সেইফার্টের চোট ভাগ্য খুলে দিয়েছে ব্লান্ডেলের।
এবার সুযোগ পেলে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চান সেরাটা দিয়ে, “এখন সবকিছু পাল্টে গেলো। তিনি (কোচ গ্যারি স্টিড) ফোন দিয়ে বললেন, ‘অভিনন্দন, তুমি দলে জায়গা পেয়েছ।’ এটা ছিল বিশেষ মুহূর্ত। আমি দুটি টেস্ট ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলেছি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের স্বাদ আমি পেয়েছি। তাই এটা বড় কিছু নয়। কিন্তু দলে যদি সুযোগ পাই তাহলে মুহূর্তটা উপভোগ করবো, আশা করি ভালো কিছুই হবে।’ ক্রিকইনফো, আইসিসির ওয়েবসাইট








