আব্দুর রাজ্জাক ও শাহরিয়ার নাফীস এখনও ২২ গজ রাঙাচ্ছেন ব্যাট-বল হাতে। জাতীয় দলে না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও অনেক দিন খেলার ইচ্ছা তাদের। তবু লেভেল-১ কোচিংটা সেরে রাখছেন তারা। শুধু তারা নন, এখনও খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন এমন আরও বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় করতে যাচ্ছেন এই কোচিং কোর্স।
কিন্তু কেন তাদের এই তাড়াহুড়ো? আসলে অবসর সময়টাকে কাজে লাগাতে চাইছেন তারা। বৃহস্পতিবার গেম ডেভেলপমেন্টের তত্ত্বাবধানে শুরু হতে যাওয়া কোচিং কোর্সে অংশ নেবেন ক্রিকেটাররা। গেম ডেভেলপমেন্টের তত্ত্বাবধানে আগামী ৫ দিন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া সেন্টারে লেভেল-১ এর কোচিং কোর্স পোগ্রামটি চলবে।
এ কোর্সে কোচিংয়ের তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এখানে অনেকদিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা ১৬ ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলা ৬ ক্রিকেটার অংশ নেবেন। এর বাইরে আরও কিছু খেলোয়াড় আছেন, যারা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেননি।
বাংলাদেশের হয়ে ১০০ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা নাফীস এখনোই ক্রিকেট ছেড়ে দিচ্ছেন না। তবু তিনি কোচিংটা কেন করছেন, তার ব্যাখ্যা বাংলা ট্রিবিউনকে দিলেন এভাবে, ‘ঘরোয়া ক্রিকেটে আমাদের ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। মাত্রই আমরা প্রিমিয়ার লিগ শেষ করেছি। বিসিবি যেহেতু এই কোর্সটা চালু করেছে, আমার কাছে মনে হয়েছে এই মুহূর্তে লেভেল-১ কোচিং কোর্সটা করে রাখা উচিত। খেলা ছাড়ার পর ভবিষ্যতে কোচিং করালে এটাতো কাজে লাগবেই। আবার নিজের খেলার ক্ষেত্রে আগামী ৫ দিনের শেখা জিনিসগুলো কাজে দেবে। সব মিলিয়ে তাই কোচিংটা করে ফেলার সিদ্ধান্ত। বাইরের দেশে তো প্রথম শ্রেণি খেলা অবস্থাতেই লেভেল-১ কোচিং বাধ্যতামূলকই থাকে।’
জাতীয় দলে খেলা আব্দুর রাজ্জাক, আরাফাত সানি, ইলিয়াস সানি থেকে শুরু করে নাঈম ইসলাম, আরও কয়েক বছর ক্রিকেট খেলে যেতে চান। তবু ভবিষ্যতের সুফলের আশাতেই তারা লেভেল-১ কোচিংটা সেরে রাখতে চান। এর বাইরে অবশ্য সৈয়দ রাসেল, নাজমুল হোসেন, রবিউল ইসলাম শিবলু জাতীয় দলে থেকে অবসর নিয়েছেন। তাদের এখন একটাই লক্ষ্য, কোচ হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করা।
কিছুদিন আগেই ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের হয়ে ৪৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা নাজমুল হোসেন। তিনি আপাতত কোচিংকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল না তার। অবসরের ঘোষণা দেওয়ার পর কোচিংকেই পেশা হিসেবে নিতে চান নাজমুল। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘ক্রিকেট নিয়েই আমাকে থাকতে হবে। যেহেতু খেলা ছেড়ে দিয়েছি, এখন কোচ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।’
কোচিং কোর্সে অংশ নেওয়া ক্রিকেটাররা:
ডলার মাহমুদ, মাহবুবুল আলম রবিন, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ শরীফ, ইলিয়াস সানি, নাজমুল হোসেন, সৈয়দ রাসেল, আব্দুর রাজ্জাক, নাঈম ইসলাম, সজল চৌধুরী, সাজিদ হাসান, জিয়াউর রহমান, রবিউল ইসলাম শিবুল, নাদিফ চৌধুরী, আরাফাত সানি, মুরাদ খান, রেজাউল ইসলাম রাজন, হুমায়ন কবির, আবুল বাশার, তারিক আহমেদ রুবেন, তরিকুল ইসলাম, মোহাম্মদ ফরকান, আসাদুল হাবিব সুজন, মিনহাজ আহমেদ সাফিল, আনোয়ারুল ইসলাম সুমি ও হুমায়ন কবির।








