কঠিন লক্ষ্যের ইঙ্গিত ছিল। উইকেটই যে পাচ্ছিল না বাংলাদেশ! তবে ঠিক মুহূর্তে মাশরাফি বিন মুর্তজা জ্বলে ওঠায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান বেশিদূর আর যায়নি। বাংলাদেশি অধিনায়কের পথ ধরে অন্য বোলাররা অবদান রাখলে ডাবলিনের ওয়ানডেতে ক্যারিবিয়ানরা নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে করতে পেরেছে ২৬১ রান।
মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছেন শাই হোপ (১০৯)। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে শতক পূর্ণ করা এই ব্যাটসম্যান আরেকবার জ্বলে উঠলে বড় সংগ্রহের ভিত পায় ক্যারিবিয়ানরা। কিন্তু মাশরাফি (৩/৪৯), মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (২/৪৭), সাকিব আল হাসান (১/৩৩) ও মেহেদী হাসান মিরাজের (১/৩৮) নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বেশিদূর যেতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২ উইকেট নিতে ৮৪ রান খরচ করা মোস্তাফিজুর রহমান বাদে বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশের সব বোলারের প্রস্তুতিটা হয়েছে দারুণ।
ক্যারিবিয়ানদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার রোস্টন চেস করেছেন ৫১ রান। এছাড়া সুনিল অ্যামব্রিস ৩৮ ও অ্যাশলে নার্স করেন ১৯ রান।
মাশরাফির তোপে পথে ফিরেছে বাংলাদেশ
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে খুব একটা সুযোগই দিচ্ছিলো না ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের সেই প্রতিরোধ ভাঙে মাশরাফি বিন মুর্তজার তোপে। বাংলাদেশি অধিনায়ক অল্প ব্যবধানে ৩ উইকেট তুলে নিলে চাপে পড়ে ক্যারিবিয়ানরা।
শাই হোপের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে নিয়েছিলেন রোস্টন চেস। ফিফটি পূরণ করা এই ব্যাটসম্যানকে দিয়ে শুরু মাশরাফির উইকেট উদযাপন। বাংলাদেশি অধিনায়কের শর্ট বল পুল করতে গিয়ে শর্ট ফাইন-লেগে মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে ধরা পড়েন চেস। ৬২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় করেন তিনি ৫১ রান।
নিজের পরের ওভারে আরও ভয়ঙ্কর মাশরাফি। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূরণ করা শাই হোপকে ফেরান এবার। মোহাম্মদ মিঠুনের হাতে ধরা পড়ার আগে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান ১৩২ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় খেলে যান ১০৯ রানের কার্যকরী ইনিংস।
হোপকে ফেরানোর এক বল পরই আবার উইকেট উদযাপন মাশরাফির। বাউন্ডারি মেরে ইনিংস শুরু করা জেসন হোল্ডারকে (৪) শুরুতেই ফেরান তিনি উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দী করে।
বল হাতে দারুণ দিন পার করেছেন মাশরাফি। ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে তার শিকার ক্যারিবিয়ানদের গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট।
মাশরাফির পথ ধরে সাফল্য পান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনও। এই পেসার বেশিদূর যেতে দেননি অভিষিক্ত শেন ডাওরিচকে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে ডাওরিচ মাত্র ৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সৌম্য সরকারের হাতে ধরা পড়ে।
হোপের টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি
বিশ্বকাপের আগে আবারও চেনা রূপে শাই হোপ। আয়ারল্যান্ডের পর বাংলাদেশের বিপক্ষেও সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই ব্যাটসম্যান। টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেয়েছেন তিনি।
গত বছর বাংলাদেশ সফরে ব্যাটে রানের বৃষ্টি ঝরিয়েছিলেন হোপ। ‘প্রিয়’ সেই প্রতিপক্ষকে সামনে পেয়ে আবারও জ্বলে উঠলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। মঙ্গলবার টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের আগের ম্যাচে হোপ খেলেছেন ১৭০ রানের ঝলমলে ইনিংস। পারফরম্যান্সের ধারা সচল রেখে বাংলাদেশের বিপক্ষেও শতক পূরণ করেছেন তিনি। ১২৬ বলে পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি।
মিরাজের পর সাকিবের আঘাত
ব্রেক থ্রু এনে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার পথ ধরে সফল সাকিব হাসান হাসানও। এই দুই স্পিনারের আঘাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পরপর হারায় ২ উইকেট।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা জন ক্যাম্পবেল পিঠের চোটে ছিটকে যান। তার জায়গায় ওপেনিংয়ে নামা সুনিল অ্যামব্রিসকে নিয়ে দারুণ শুরু এনে দেন শাই হোপ। তাদের উদ্বোধনী জুটি কিছুতেই ভাঙতে পারছিল না বাংলাদেশ।
অবশেষ টাইগারদের কাঙ্ক্ষিত ব্রেক থ্রু এনে দেন মিরাজ। বোলিংয়ে এসে নিজের দ্বিতীয় বলেই ফেরান তিনি অ্যামব্রিসকে। তার এই উইকেটে কৃতিত্ব পাবেন মাহমুদউল্লাহ। শর্ট লেগে দারুণ এক ক্যাচ নিয়েছেন তিনি। আউট হওয়ার আগে অ্যামব্রিস ৫০ বলে ৪ বাউন্ডারিতে করেন ৩৮ রান।
তার আউটের পরপরই ফিরে যান ড্যারেন ব্রাভো। পরের ওভারে তাকে ফেরান সাকিব। চমৎকার বোলিংয়ে মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসবন্দী করান তিনি ১ রান করা ব্রাভোকে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের দারুণ শুরু
ডাবলিনের ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পিঠের চোটে এই ম্যাচ থেকে ছিটকে গেছেন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আগের খেলায় সেঞ্চুরি পাওয়া ওপেনার জন ক্যাম্পবেল। তার জায়গায় শাই হোপের সঙ্গে ওপেনিংয়ে নামেন সুনিল অ্যামব্রিস। তাদের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় ক্যারিবিয়ানরা।
বাংলাদেশ নেমেছে বিশেষজ্ঞ দুই পেসার- মাশরাফি বিন মুর্তজা ও মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে। তাদের সঙ্গে আছেন পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। আর সাকিব আল হাসানের সঙ্গে স্পিনার হিসেবে একাদশে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
বাংলাদেশ নেমেছে শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ নিয়ে। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গে সৌম্য সরকার। এরপর সাকিব, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে ভারসাম্য ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার জন্য আছেন সাব্বির রহমান ও সাইফউদ্দিন।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশ: শাই হোপ, সুনিল অ্যামব্রিস, ড্যারেন ব্রাভো, জেসন হোল্ডার, জনাথন কার্টার, শেন ডাওরিচ, রোস্টন চেস, অ্যাশলে নার্স, কেমার রোচ, শেলডন কট্রেল, শ্যানন গ্যাব্রিয়েল।








