ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের চাই ২৪৮ রান। ডাবলিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই লক্ষ্যে টাইগারদের স্কোর ৩৮ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৭ রান।
প্রথম ম্যাচে ব্যাট করার সুযোগ হয়নি মোহাম্মদ মিঠুনের। ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে সুযোগটা এলো তার। বিশ্বকাপের আগে ‘প্রস্তুতি’র শুরুটাও এই ব্যাটসম্যানের হলো দুর্দান্ত। তবে হাফসেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারলেন না ইনিংসটা। ৪৩ রানে বোল্ড হয়ে গেছেন মিঠুন।
দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে পথে ফেরান তিনি মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে জুটি বেঁধে। হাফসেঞ্চুরির পথেও হাঁটছিলেন মিঠুন। কিন্তু হোল্ডারের চমৎকার বলটা তার ব্যাট ও প্যাডের মাঝখান দিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। ৫৩ বলের ইনিংসে ডানহাতি ব্যাটসম্যান ২ চারের সঙ্গে মেরেছেন ২ ছক্কা।
মুশফিক-মিঠুনের ব্যাটে প্রতিরোধ
দ্রুত ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম ও মোহাম্মদ মিঠুন। সাকিব আল হাসান ও সৌম্য সরকার একই ওভারে প্যাভিলিয়নে ফেরেন অ্যাশলে নার্সের শিকার হয়ে। গুছিয়ে নেওয়া বাংলাদেশ তাতে হঠাৎই এলোমেলো হয়ে পড়ে।
সেই জায়গা থেকে প্রতিরোধ শুরু মুশফিক-মিঠুনের। তারা জুটির ‘ফিফটি’ও পূরণ করেছেন।
সাকিবের ধাক্কা না কাটতেই সৌম্যর বিদায়
সহজ ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন সাকিব আল হাসান। ওই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ফিরে গেলেন সৌম্য সরকার। অ্যাশলে নার্সের শিকার দুজনই। ২১তম ওভারের তৃতীয় বলে সাকিবকে আউট করার পর ক্যারিবিয়ান স্পিনার পঞ্চম বলে আউট করেছেন সৌম্যকে।
শুরুটা দারুণ করেছিলেন আগের ম্যাচে হার না মানা হাফসেঞ্চুরির ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করা সাকিব। তবে ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচে ভালো শুরু করেও ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না তিনি।
অ্যাশলে নার্সের বলে শর্ট কাভাবে সহজ ক্যাচ দিয়েছেন সাকিব। ৩৫ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৯ রান করা বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের ক্যাচটি নিয়েছেন রোস্টন চেস।
তার আউটের পরপরই ফিরে গেছেন সৌম্য। টানা দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। ৬৭ বলে ৪ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় সাজানো সম্ভাবনাময় ইনিসটি শেষ হয় ৫৪ রানে। নার্সের বলে লেগ সাইডে ধরা পড়েন তিনি সুনিল অ্যামব্রিসের হাতে।
বাংলাদেশের হারানো ৩ উইকেটই পেয়েছেন নার্স। ডানহাতি এই স্পিনারের বলেই আউট হন তামিম ইকবাল।
সৌম্যর টানা দ্বিতীয় ফিফটি
ব্যাক টু ব্যাক হাফসেঞ্চুরি তুলে নিলেন সৌম্য সরকার। এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ফিফটি পূরণ করেছিলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৬৮ বলে খেলেছিলেন ৭৩ রানের ঝলমলে ইনিংস। বিশ্বকাপের আগের সিরিজে আবারও জ্বলে উঠে মাইলফলকটি স্পর্শ করেছেন তিনি। ৫৯ বলে সৌম্য পূরণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের নবম হাফসেঞ্চুরি।
দারুণ শুরুর পর তামিম বোল্ড
সৌম্য সরকার ও তামিম ইকবালের ব্যাটে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। তবে সতর্ক ব্যাটিং করেও শেষ রক্ষা হয়নি তামিমের। অ্যাশলে নার্সের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন এই ওপেনার। প্যাভিলিয়নে ফেরার আগে ২৩ বলে ৪ বাউন্ডারি করেন ২১ রান।
এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুরু থেকেই সৌম্য সরকার ছিলেন আক্রমণাত্মক। ডাবলিনে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফিরতি ম্যাচেও জ্বলে উঠেছে সৌম্যর ব্যাট। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে দারুণ শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ২৪৭
ওয়েস্ট ইন্ডিজ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে করেছে ২৪৭ রান। সর্বোচ্চ সংগ্রাহক শাই হোপ। বাংলাদেশের বিপক্ষে এবার সেঞ্চুরি না পেলেও তিনি খেলেছেন ৮৭ রানে চমৎকার ইনিংস। অধিনায়ক জেসন হোল্ডারও আলো ছড়িয়েছেন। পরিস্থিতি বুঝে ব্যাট করে তিনি করেছেন ৬২ রান।
মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ বেশিদূর যায়নি। বাঁহাতি ‘কাটার মাস্টার’ ৯ ওভারে ৪৩ রান দিয়ে পেয়েছেন ৪ উইকেট। মাশরাফি বিন মুর্তজা প্রথম ম্যাচের সাফল্য এই ম্যাচেও ধরে রেখেছেন। ১০ ওভারে ৬০ রান দিয়ে একটু খরুচে হলেও বাংলাদেশ অধিনায়ক তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। সাকিব আল হাসান ১ উইকেট পেলেও ছিলেন খুব হিসেবি। ১০ ওভারে দিয়েছেন মাত্র ২৭ রান।








