বোলিং হোক বা ব্যাটিং, দুই বিভাগেই দক্ষ রুমানা আহমেদ। ছোটবেলায় স্বপ্ন দেখতেন বিজ্ঞানী হওয়ার। মা অবশ্য মেয়েকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। তবে কারও স্বপ্নই বাস্তবে রূপ নেয়নি।
এসএসসি পাস করার পরই রুমানার মনোজগতে ক্রিকেটের প্রবেশ। নর্দার্ন ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী এখন জাতীয় দলের বিশাল সম্পদ। সম্প্রতি তার সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হয়েছে দুর্দান্ত পালক। আইসিসি’র বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলে থাকার সুবাদে তার মাথায় উঠেছে বিশেষ স্মারক ক্যাপ।
ছোটবেলায় ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ থাকলেও ক্রিকেটার হওয়ার ভাবনা ছিল না। কলেজে ওঠার পর মূলত ক্রিকেটের সঙ্গে তার সখ্য। খুলনার স্থানীয় কোচ ইমতিয়াজ হোসেনের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে, অনেক ধাপ পেরিয়ে আজ তিনি জাতীয় দলের অপরিহার্য সদস্য। আজকের অবস্থানে আসার পেছনে দু’জনের কাছে রুমানা কৃতজ্ঞ, ‘ছোটবেলায় ক্রিকেট নিয়ে কোনও স্বপ্নই দেখতাম না। এতদূর আসার কথা কল্পনাতেও ছিল না। ক্রিকেটে আসতে অনুপ্রাণিত করেছেন সালমা আপু (বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক সালমা খাতুন)। কোচ ইমতিয়াজ স্যার তো ছিলেনই। এই দু’জনের অনুপ্রেরণা নিয়েই ক্রিকেটে টিকে আছি।’
গত বছর বাংলাদেশের এশিয়া কাপ শিরোপা জয়ে অনেক বড় অবদান ছিল রুমানার।
আসলে ২০১৮ সালের পুরোটাই দারুণ কেটেছিল তার। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৪ ম্যাচে ৩০ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ২২৯ রান করার পুরস্কার পেতে দেরি হয়নি। আইসিসি’র বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলে প্রত্যাশিতভাবেই রুমানার নাম আছে। এমন অর্জনে তিনি ভীষণ খুশি, ‘গত বছর অসাধারণ কেটেছিল আমার। ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দুই জায়গাতেই সাফল্য পেয়েছিলাম। আর আইসিসি’র সেরা টি- টোয়েন্টি দলে সুযোগ পাওয়া আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন।’
তার ক্রিকেটার হওয়ার পথ মোটেই সহজ ছিল না। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলা চালিয়ে যেতে কষ্ট হলেও ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসায় হাসিমুখে সহ্য করতেন সব প্রতিকূলতা, ‘এইচএসসি পরীক্ষার সময় মোহামেডান ক্লাবে যোগ দিই। পরীক্ষা দেওয়ার সময় প্রিমিয়ার লিগেও খেলতে হয়েছিল। এমনও হয়েছে, খুলনায় পরীক্ষার হল থেকে বের হয়েই খেলার জন্য ঢাকার বাসে উঠতাম। আবার খেলা শেষ করেই বাসে উঠে পড়তাম খুলনায় ফেরার জন্য। অনেক কষ্ট হয়েছে, কিন্তু ভালোবাসার টানে ক্রিকেট থেকে দূরে থাকতে পারিনি।’
ছোটবেলার স্বপ্ন পূরণ না হলেও অখুশি নন তিনি। ক্রিকেটই এখন তার ধ্যান-জ্ঞান, ‘মা আমাকে ডাক্তার বানানোর স্বপ্ন দেখতেন। আর আমি স্বপ্ন দেখতাম বিজ্ঞানী হওয়ার। তবে উচ্চ মাধ্যমিকে কমার্স পড়ায় কারও স্বপ্নই পূরণ হয়নি। এখন অবশ্য আমার ভাবনায় শুধুই ক্রিকেট।’








