এমনিতে ইংরেজদের ক্রিকেট নিয়ে খুব একটা আগ্রহ নেই। তবে বিশ্বকাপ বলে কথা, তার ওপরে উদ্বোধনী ম্যাচে খেলছে নিজের দেশ। মরগানের দলকে উৎসাহ দিতে তাই ওভালে দর্শক-উল্লাস চোখে পড়ার মতো। অবশ্য স্টেডিয়াম এলাকা ছাড়া লন্ডনের অন্য কোথাও বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা খুঁজে পাওয়াই ভার!
দক্ষিণ লন্ডনের কেনিংটনে অবস্থিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম প্রাচীন মাঠ ওভালকে সাজানো হয়েছে বিশ্বকাপের জন্য। মাঠের চারদিকে বিশ্বকাপের লোগো সহ বিলবোর্ড শোভা পাচ্ছে, বিক্রি হচ্ছে জার্সি-পতাকা-ক্যাপ। দর্শক আর বিদেশি সাংবাদিকদের সাহায্য করতে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছে আইসিসি, যাদের বেশিরভাগই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বিশ্বকাপের মতো আসরে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্ব পেয়েও তারা কেমন যেন নির্বিকার! ইংল্যান্ডে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। তার ওপরে ১ জুন চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের দুই জনপ্রিয় ক্লাব লিভারপুল ও টটেনহ্যাম। সেজন্যই বোধহয় ক্রিকেটের সেরা টুর্নামেন্ট নিয়ে ইংরেজদের তেমন উৎসাহ নেই।
ওভালে বাংলাদেশ দুটি ম্যাচ খেলবে। ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার পর ৫ জুন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মুখোমুখি হবে মাশরাফির দল। ওভালের ক্রিকেট ইতিহাস অনেক পুরোনো। দেশের মাটিতে এখানেই প্রথম টেস্ট খেলেছিল ইংল্যান্ড, ১৮৮০ সালে ‘চিরশত্রু’ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আর প্রথম ওয়ানডের আয়োজন ১৯৭৩ সালে, ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ম্যাচ দিয়ে। ২৫ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতার মাঠটি ইংলিশ ক্রিকেট ক্লাব সারের হোমগ্রাউন্ড। ১৮৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সারেতে খেলেছিলেন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান জ্যাক হবস। আধুনিক ক্রিকেটের তারকা কেভিন পিটারসেন, মার্ক বুচার, জেসন রয়দের ঠিকানাও সারে।
স্টেডিয়ামের একপাশে পতাকা, ক্যাপ, জার্সি নিয়ে বসে আছেন অ্যালেন রকিচ। ছবি তুলতে গেলে রহস্য করে বললেন, ‘ছবি তোলা যাবে না, পয়সা দিতে হবে!’ এরপর নিজেই জানালেন, এখনও তেমন বিক্রি হচ্ছে না। তবে কয়েক দিন পর থেকে লাভের মুখ দেখতে তিনি আশাবাদী। জার্সির দাম তেমন বেশি না, ৫ থেকে ১০ পাউন্ডের মধ্যে।
ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়ে শুরু হলো বিশ্বকাপ মিশন। এই ম্যাচ দিয়েই হয়তো প্রাণ ফিরে আসবে ক্রিকেটের আদিভূমিতে। ক্রিকেট ভক্তদের এখন সেটাই প্রত্যাশা।








