বলা যায়, বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় আছে পাকিস্তান। টানা ১০টি ওয়ানডে হেরে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্ট শুরু করতে যাচ্ছে তারা। সেই ইংল্যান্ডে, যেখানে দুই বছর আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে হারিয়ে হয়েছিল চ্যাম্পিয়নস ট্রফির চ্যাম্পিয়ন। দারুণ সাফল্য পাওয়া সেই দেশেই হারের বৃত্ত ভাঙার লক্ষ্য নিয়ে আজ (শুক্রবার) ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে সরফরাজ আহমেদের দল। নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে বিকাল সাড়ে ৩টায় ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে গাজী টিভি, মাছরাঙা টেলিভিশন ও স্টার স্পোর্টস ১।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থাও যে খুব ভালো সেটা বলা যাবে না। ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ফাইনাল সহ তিন ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপে। গত বিশ্বকাপের পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনও ওয়ানডে সিরিজ জিতেনি তারা। কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবারের টুর্নামেন্ট শুরু করেছে শিরোপা জয়ের আশা নিয়েই। এই ইংল্যান্ডেই তো তাদের পূর্বসূরিরা প্রথম দুইবারের চ্যাম্পিয়ন। তবে ক্যারিবিয়ানদের সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা হলো তারা ফিরে পেয়েছে ক্রিস গেইল ও আন্দ্রে রাসেলকে।
আর তাদের নিয়েই তো বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৪২১ রানের বিশাল স্কোরবোর্ড তৈরি করে এবার ৫০০’র ঘরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে তারা। দুর্দান্ত স্ট্রাইক রেট ধরে রেখে সেই আভাস দিয়ে যাচ্ছেন গেইল ও রাসেলরা। ওপেনার গেইল, আর লোয়ার অর্ডারের ঠিক শুরুতে রাসেল। দুজনে মিলে ঝড় তুলে ভড়কে দিতে পারেন যে কোনও প্রতিপক্ষকে। টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান শাই হোপ এবার বড় তারকা হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন। শেষ পাঁচ ওয়ানডে ইনিংসে তার রান ১৭০, ১০৯, ৩০, ৮৭ ও ৭৪। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘাম ঝরানোর ম্যাচেও করেছেন সেঞ্চুরি।
তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আতঙ্ক ঠিকই হয়ে উঠতে পারে পাকিস্তান। কারণ তারা আনপ্রেডিক্টেবল। গত ২৭ জানুয়ারি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে জিতেছিল দলটি। এরপর শুধুই হারের তেতো স্বাদ পেয়ে গেছে। সেটা ঠেকে গেছে ১০ ম্যাচে। এমনকি আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচও হেরেছে তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বৃষ্টির কারণে গড়ায়নি একটিও বল।
কিন্তু এই ইংল্যান্ডে দুই বছর আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের সুখস্মৃতি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে পাকিস্তানকে। তাছাড়া সাবেক চ্যাম্পিয়নদের দলে আছে একঝাঁক তরুণ। শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ আমির ও ওয়াহাব রিয়াজের অন্তর্ভুক্তি বোলিং লাইনকে করে তুলেছে অভিজ্ঞ। স্পিনে শাদাব খান ও ইমাদ ওয়াসিম আছেন ভরসা হয়ে। ব্যাট হাতে ফর্মে আছেন ইমাম-উল-হক, ফখর জামান, বাবর আজম ও সরফরাজ আহমেদ। ইংল্যান্ডের মাটিতে সবশেষ সিরিজে রান পেয়েছে তাদের প্রত্যেকে। শোয়েব মালিক ও মোহাম্মদ হাফিজের অলরাউন্ড ক্ষমতা ব্যাটিং-বোলিংকে করেছে শক্তিশালী। আর বিশ্বকাপের মুখোমুখি লড়াইয়ে ১০ বারের দেখায় ৭-৩ এ পিছিয়ে থাকলেও উইন্ডিজের বিপক্ষে পাকিস্তানকে এগিয়ে রাখছে নিজেদের দিনে যে কোনও দলকে হারানোর ‘অপ্রত্যাশিত’ উদাহরণ। সেই আশা নিয়েই হারের বৃত্ত ভেঙে বিশ্বকাপটা দারুণভাবে শুরু করতে চায় তারা।








