কাকতালীয় তো বটেই। চার বছর আগের বিশ্বকাপই যেন ফিরে আসছে কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনসে। ২০১৫ সালের আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে না খেললেও নিজেদের প্রথম ম্যাচেই কিন্তু আবার একে অন্যের মুখোমুখি হচ্ছে তারা!
বিশ্বকাপে আজ (শনিবার) দুটি খেলা। যার প্রথমটিতে কার্ডিফে মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড-শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩-৩০ মিনিটে শুরু হওয়া ম্যাচটি সরাসরি দেখা যাবে মাছরাঙা ও স্টার স্পোর্টস ওয়ানে।
২০১৫ সালের মতো এবারের বিশ্বকাপেও নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। লঙ্কানরাও এই ম্যাচ দিয়েই শুরু করতে যাচ্ছে এবারের আসর। চার বছর আগের লড়াইয়ে ক্রাইস্টচার্চের ম্যাচে ৯৮ রানের দাপুটে জয় পেয়েছিল স্বাগতিক কিউইরা। কোরে অ্যান্ডারসনের ঝড়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ব্রেন্ডন ম্যাককালামরা করেছিল ৩৩১। বিপরীতে কিউই পেস ঝড়ে ৪৬.১ ওভারে মাত্র ২৩৩ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। কার্ডিফের ম্যাচেও তেমন ফলের প্রত্যাশা করছে কেন উইলিয়ামসনরা।
কারণটা তাদের দুর্দান্ত ফর্ম। আত্মবিশ্বাসী হয়ে বিশ্বকাপে নামতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ড। বিপরীতে ছন্দ হারানো শ্রীলঙ্কা নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। বিশ্বকাপ ওয়ার্ম-আপের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারের ধাক্কা আছে কিউইদের। তবে প্রথম ম্যাচে ভারতকে উড়িয়ে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস ঠিকই সঙ্গী পাচ্ছে তারা। ভারতের ভয়ঙ্কর ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিয়ে তাদের অলআউট করেছিল মাত্র ১৭৯ রানে। যে লক্ষ্য ৬ উইকেট হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে নিউজিল্যান্ড।
ওভালের ম্যাচটিতে ভারতকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথে ট্রেন্ট বোল্ট পেয়েছিলেন ৪ উইকেট। তবে নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে বড় পাওয়া ছিল জিমি নিশামের কার্যকরী বোলিং। এই পেসার ২৬ রান খরচায় পেয়েছিলেন ৩ উইকেট। তাছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হারলেও প্রাপ্তির খাতায় যোগ হয়েছে ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা টম ব্লান্ডেলের সেঞ্চুরি।
শ্রীলঙ্কার চিত্রটা একেবারে উল্টো। ওয়ার্ম-ম্যাচ দুটো তো হেরেছেই, সামান্য প্রতিরোধও গড়তে পারেনি দিমুথ করুণারত্নেরা। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে উড়ে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সামনেও একই পরিণতি। তাছাড়া ২০১৯ সালে ওয়ানডেতে সাফল্য নেই বললেই চলে। বিশ্বকাপের আগে দুর্বল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিপরীতে হেরেছে বাকি ৮ ম্যাচে। যার মধ্যে বছরের শুরুতে এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার লজ্জাও আছে।
বিশ্বকাপের আগেও দল হিসেবে নিজেদের গুছিয়ে নিতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। তবে মূল মঞ্চে নিজেদের সেরাটা দিতে প্রস্তুত ১৯৯৬ সালের চ্যাম্পিয়নরা। প্রস্তুতি ম্যাচে অভিজ্ঞ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ ও অধিনায়ক করুণারত্নের হাফসেঞ্চুরিতে ভালো শুরুর প্রত্যাশাও লঙ্কানদের।








