ওভালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের স্কোর ৩৮ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮০ রান। ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন।
সাকিব আল হাসানের বিদায়ের পর ক্রিজ আঁকড়ে ধরে ছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন, সঙ্গী ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। দারুণ সব শটে দুজন প্রতিরোধ গড়েন। কিন্তু ম্যাট হেনরির বলে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের ক্যাচ হয়ে শেষ হলো মিঠুনের ইনিংস।
হেনরির শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ডি গ্র্যান্ডহোমের হাতে ধরা পড়েন বাংলাদেশের ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৩৩ বলে ৩ চারে ২৬ রান করেন মিঠুন।
হাফসেঞ্চুরি করে আউট সাকিব
৫৪ বলে হাফসেঞ্চুরি করে বড় ইনিংসের আভাস দিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। কিন্তু সেটাকে লম্বা করতে পারলেন না। গত ম্যাচে ৭৫ রান করা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় ম্যাচে বিদায় নেন ৬৪ রান করে।
হাফসেঞ্চুরির পর আর ১৪ বল খেলেন সাকিব। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে পেছনে টম ল্যাথামের দুর্দান্ত ক্যাচ হন তিনি। তার ৬৮ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার।
সাকিবের টানা হাফসেঞ্চুরি
মাশরাফি মুর্তজা ও মুশফিকুর রহিমের পর তৃতীয় বাংলাদেশি হিসেবে ২০০ ওয়ানডের মাইফলকে পৌঁছালেন সাকিব। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই অর্জনের ম্যাচে ৪৪তম হাফসেঞ্চুরি করলেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ৫৪ বলে ৫ চারে ফিফটির ঘরে পৌঁছান তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও প্রথম ম্যাচে ৭৫ রানের চমৎকার ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন সাকিব। টানা চারটি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হাফসেঞ্চুরির অনন্য কীর্তি গড়েন এই বাঁহাতি। এবার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে পঞ্চাশ ছুঁলেন তিনি।
রান আউট মুশফিক
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৪২ রানের সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়েছিলেন সাকিব ও মুশফিক। দুজনের হাফসেঞ্চুরি এনে দিয়েছিল বাংলাদেশকে রেকর্ড দলীয় রান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও তারা শক্ত জুটি গড়ার পথে ছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হতে হলো মুশফিককে।
৬০ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ক্রিজে একসঙ্গে হন দুজন। ৫০ রানের জুটি গড়ার পরই আউট হন মুশফিক। মিচেল স্যান্টনারের স্পিনে কভারে বল ঠেলে দেন তিনি। এরপর সাকিবকে ডেকেছিলেন রান নেওয়ার জন্য, একই সঙ্গে পিচের মাঝে চলে যান। সাকিব সাড়া দেননি। মুশফিক ফিরে যাওয়ার আগেই মার্টিন গাপটিলের থ্রো থেকে টম ল্যাথাম স্টাম্প ভাঙেন। ৩৫ বলে ১৯ রান করেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।
বাজে শটে আউট তামিম
বেশ দেখেশুনে ব্যাট করছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু লকি ফার্গুসনের এক শর্ট বলে বাজে শট খেলে বিদায় নিলেন বাংলাদেশি ওপেনার। ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার গতির বলটি মারতে না চেয়েও খেলেন তামিম, কিন্তু ব্যাটের মাঝামাঝি লেগে বল অনেক উঁচুতে ওঠে। মিডউইকেটে সহজেই ক্যাচ নেন ট্রেন্ট বোল্ট। ৩৮ বলে ৩ চারে ২৪ রান করেন তামিম। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে তার জুটি ছিল মাত্র ১৫ রানের।
সৌম্য বোল্ড
ম্যাট হেনরির কাছে নবম ওভারে বোল্ড হয়েছেন সৌম্য সরকার। ২৫ রান করেন তিনি ২৫ বল খেলে, তিনটি চার মারেন তিনি। তার আউটে তামিমের সঙ্গে ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে।
গত চার ম্যাচে তিনটি হাফসেঞ্চুরি করা সৌম্য বিশ্বকাপ শুরু করেন ৪২ রানের ইনিংস খেলে। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংস বেশিদূর টানতে পারলেন না এই ওপেনার। নবম ওভারে হেনরির তৃতীয় বলটি তার বাঁ পায়ে লেগে অফ স্টাম্পে আঘাত করে। তাতে আরেকটি আশা জাগানিয়া ইনিংসের সমাপ্তি হয়।
তামিম-সৌম্যর ব্যাটে সতর্ক শুরু
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। ওপেনিং জুটিতে আছেন তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। তৃতীয় বলেই বাউন্ডারি মারলেও সতর্ক শুরু করেন দুই ওপেনার।
ওভালে টস হেরে যায় বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। দিবারাত্রির এই ম্যাচে আগে ব্যাট করছে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১ রানে হারানো দলটি নিয়েই মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ। আর শ্রীলঙ্কাকে ১০ উইকেটে হারিয়ে নিউজিল্যান্ড শুরু করেছিল বিশ্বকাপ। তারাও অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে খেলছে।
ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করছে গাজী টিভি, বিটিভি, মাছরাঙা টেলিভিশন ও স্টার স্পোর্টস ১।
বাংলাদেশ: মাশরাফি মুর্তজা (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান।
নিউজিল্যান্ড: কেন উইলিয়ামসন (অধিনায়ক), মার্টিন গাপটিল, কলিন মুনরো, রস টেলর, টম ল্যাথাম (উইকেটরক্ষক), জেমস নিশাম, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসন, ট্রেন্ট বোল্ট।








