কার্ডিফে পা রাখতেই চোখে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের দুটি জয়। আজ থেকে ১৪ বছর আগের এক সোনালি সন্ধ্যায় এখানে আলোর খোঁজ পেয়েছিল বাংলাদেশ। ন্যাটওয়েস্ট সিরিজে সেদিন তারা হারিয়েছিল বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে। ২০০৫ সালে রিকি পন্টিং, ম্যাথু হেইডেন, অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, মাইক হাসি, জেসন গিলেস্পিদের নিয়ে গড়া অস্ট্রেলিয়াকে হারানো সহজ কোনও ব্যাপার ছিল না। কার্ডিফের পরের সুখস্মৃতি দুই বছর আগের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। ওইবার নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনও টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে গিয়েছিল বাংলাদেশ। এবার স্বাগতিক দলকে হারানোর স্বপ্ন নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে কার্ডিফে পা রেখেছেন মাশরাফিরা।
তবে কার্ডিফে পৌঁছালেও বিশ্বকাপের ভেন্যু সোফিয়া গার্ডেনসে এখনও যাওয়া হয়নি মাশরাফিদের। লন্ডন থেকে ৩ ঘণ্টার বাস জার্নিতে কার্ডিফে পৌঁছে সোজা পার্ক প্লাজা হোটেলে উঠেছেন মাশরাফি-সাকিবরা। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় ওয়েলসে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাই কমিশনের দেওয়া নৈশভোজে যোগ দেন মাশরাফিরা। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুরে একবেলা অনুশীলন করে শনিবার স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেনস দুই হাত ভরে দিয়েছে টিম বাংলাদেশকে। যদিও নাম পাল্টে সোফিয়া গার্ডেনস এখন সোয়ালেক স্টেডিয়াম। নাম বদলালেও কি সুখস্মৃতি মুছে ফেলা যাবে? ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই মাঠে মাশরাফিদের আগের দুটি জয় নিশ্চিতভাবেই অনুপ্রাণিত করবে। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার আগে এই ভেন্যুতে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেস্তে গেলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। তাতে কী! তারা আগের দুই জয়ের অনুপ্রেরণা নিয়ে সাফল্যের দেখা পাবে বলেই বিশ্বাস ক্রিকেট ভক্তদের।
২০০৫ সালের ১৮ জুন, ন্যাটওয়েস্ট ট্রফিতে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। র্যাংকিংয়ের ১১ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ দল তখনও নিয়মিত জয়ের দেখা পায়নি। কালেভদ্রে কিছু ম্যাচ হয়তো জিততো। কিন্তু বিশ্ব ক্রিকেটে এমন কোনও দল হয়ে উঠতে পারেনি। সেই বাংলাদেশই রিকি পন্টিংয়ের বিশ্বকাপ জয়ী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে হইচই ফেলে দেয়। বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আগে ব্যাট করা অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে করে ২৪৯ রান। পরের গল্পটা আশরাফুলের। গ্লেন ম্যাকগ্রা, জেসন গিলেস্পি, ব্র্যাড হগদের মতো বোলারদের বিপক্ষে আশরাফুল সেঞ্চুরি তুলে নেন। শেষ দিকে আফতাবের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়া বধের ইতিহাস রচিত হয়।
২০১৭ সালের ৯ জুন, চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে গ্রুপ ম্যাচ নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দারুণ এক মুহূর্ত উদযাপন করে বাংলাদেশ। কার্ডিফের এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে বধ করে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ। ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে হোঁচট খেলেও সাকিব ও মাহমুদউল্লাহর ২২৪ রানের মহাকাব্যিক জুটি দলকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেয়।
সোফিয়া গার্ডেনস বাংলাদেশকে কখনোই খালি হাতে ফেরায়নি। এবারও বাংলাদেশের সমর্থকদের আশা তেমনই। মাশরাফিরাও আগের দুই জয়ের অনুপ্রেরণা নিয়ে মাঠে নামবেন। কাকতালীয় ব্যাপার, দুটি জয়ই ছিল জুনে। আবারও সেই কার্ডিফ, আবারও জুন মাস। এবারও জয় উৎসব করে মাঠ ছাড়বেন মাশরাফিরা, প্রত্যাশা করা যেতেই পারে।








