এজবাস্টনে ভারতের দেওয়া ৩১৫ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের স্কোর ২৯ ওভারে ২ উইকেটে ১১৬।
ব্যাটে বসন্ত চলছে সাকিব আল হাসানের। বিশ্বকাপে আরেকটি হাফসেঞ্চুরি পূরণ করলেন তিনি। ভারতের বিপক্ষে পেয়েছেন চলতি আসরের চতুর্থ ফিফটির দেখা।
২৮তম ওভারে হার্দিক পান্ডিয়ার শেষ বলে ২ রান নিয়ে হাফসেঞ্চুরি পূরণ করেন সাকিব। ৫৮ বলে পান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৪৬তম ফিফটির দেখা। এবারের বিশ্বকাপের ‘রানমেশিন’ আফগানিস্তানের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও খেলেছিলেন ৫০ ছাড়ানো ইনিংস। চার হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে সাকিব বিশ্বকাপে করেছেন দুটি সেঞ্চুরিও।
পারলেন না মুশফিক
দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকারকে হারানোর পর হাল ধরেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিম। তাদের ব্যাটে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে সেটা ধরে রাখা হলো না মুশফিকের বিদায়ে।
ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার কাছে প্রত্যাশা ছিল অনেক। কিন্তু পারলেন না মুশফিক। যুজবেন্দ্র চাহালের শিকার হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি ২৪ রান করে। শুরুটা ভালো হলেও চাহালের বলে সুইপ করতে গিয়ে মোহাম্মদ সামির হাতে ধরা পড়েন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। আউট হওয়ার আগে সাকিবের সঙ্গে গড়েন যান ৪৭ রানের জুটি।
বাজে শটে আউট সৌম্য
শুরুটা ধীরে হলেও দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। কিন্তু ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না বাংলাদেশ ওপেনার। বাজে শট খেলে ২৬ রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তিনি।
হার্দিক পান্ডিয়ায় খাটো লেন্থের ওয়াইড ডেলিভারি খেলতে অনেকটা সময় পেয়েছেন সৌম্য। এরপরও ঠিকঠাক খেলেতে পারেননি তিনি। এক্সট্রা কভারে বলের ঠিক সোজা দাঁড়িয়ে থাকা ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির তালুবন্দী করতে কোনও অসুবিধাই হয়নি। হার্দিকের বাজে বলে বাজে শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছেন সৌম্য।
তামিম বোল্ড
পারলেন না তামিম ইকবাল। বিশ্বকাপে আরেকবার হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হলো এই ওপেনারকে। তার আউটে বাংলাদেশ হারিয়েছে প্রথম উইকেট। ৩১ বলে ২২ রান করেছেন তিনি।
ভারতের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিংয়ে সতর্ক শুরু করেছিল বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার সাবধানী ব্যাটিং করলেও তামিম ছিলেন কিছুটা আক্রমণাত্মক। রোহিত শর্মার ক্যাচ মিস করার শাপমোচনের সুযোগ ব্যাটিংয়ে থাকলেও পারলেন না তিনি। মোহাম্মদ সামির বলে বোল্ড হয়ে গেছেন তামিম। বল তার ব্যাটে লেগে আঘাত করে স্টাম্পে।
বাংলাদেশের লক্ষ্য ৩১৫
তামিম ইকবালের ‘সৌজন্যে’ পাওয়া ‘দ্বিতীয় জীবন’ কাজে লাগিয়ে রোহিত শর্মা পেলেন এবারের বিশ্বকাপের চতুর্থ সেঞ্চুরি। তার সঙ্গে লোকেশ রাহুলের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় ভারত। যদিও মোস্তাফিজুর রহমানের চমৎকার বোলিংয়ে বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়ালে সেটা হয়নি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ভারত করতে পেরেছে ৩১৪ রান।
এজবাস্টনের ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য বাঁচা-মরার। সেমিফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে হলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া কোনও পথ নেই। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে রোহিত-লোকেশের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটি থেকে ভারত পায় ১৮০ রান। রোহিতের সেঞ্চুরির (১০৪) সঙ্গে লোকেশ (৭৭) পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। এরপরও প্রত্যাশামতো স্কোর পায়নি ভারত মোস্তাফিজের ৫ উইকেট প্রাপ্তিতে।
বাংলাদেশি পেসারের শিকার বিরাট কোহলি (২৬), হার্দিক পান্ডিয়া (০), মহেন্দ্র সিং ধোনি (৩৫), দিনেশ কার্তিক (৮) ও মোহাম্মদ সামি (১)। মোস্তাফিজের বলেই ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। এক ওভারে এই পেসার কোহলি ও হার্দিককে প্যাভিলিয়নে ফেরালে আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় টাইগাররা। যে আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে সাফল্য পেয়েছেন সাকিব আল হাসান (১/৪১) ও রুবেল হোসেন (১/৪৮)। বাংলাদেশকে প্রথম সাফল্য এনে দেওয়া সৌম্য সরকার ৩৩ রান দিয়ে পেয়েছেন রোহিতের উইকেটটি।








