কলম্বোর প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩১৫ রানের লক্ষ্যে বাংলাদেশের স্কোর ৩২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৫।
আরেকবার চাপের মুখে দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। সময় উপযোগী ব্যাটিংয়ে দলের সঙ্গে ব্যক্তিগত স্কোর বাড়িয়ে নিয়েছেন তিনি। চমৎকার ব্যাটিংয়ে তুলে নিয়েছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৬তম হাফসেঞ্চুরি।
ঠাণ্ডা মাথার ব্যাটিংয়ে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়েছেন রান। বাউন্ডারির চেয়ে সিঙ্গেলসের ওপর জোর দিয়ে খেলেছেন মুশফিক। সে কারণেই ৬১ বলে ফিফটি পূরণ করার পথে তার বাউন্ডারির সংখ্যা ছিল মাত্র চারটি।
দুরন্ত সাব্বিরকে থামালেন ধনাঞ্জয়া
লঙ্কান বোলারদের কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছিলেন সাব্বির রহমান। চাপে পড়া বাংলাদেশকে টেনে তুলে উল্টো দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে চাপ সৃষ্টি করেন স্বাগতিকদের ওপর। অবশেষে তাকে থামালেন ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। ৬০ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন সাব্বির।
দলের বিপদে কার্যকরী হাফসেঞ্চুরি করেছেন সাব্বির। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি পূরণ করে বড় ইনিংস খেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ধনাঞ্জয়ায় বল উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিডউইকেটে সহজ ক্যাচ দেন অভিষ্কা ফার্নান্ডোর হাতে। যাতে ৫৬ বলে ৭ বাউন্ডারিতে খেলা ৬০ রানের ইনিংসের ইতি ঘটে। আউট হওয়ার আগে তিনি পঞ্চম উইকেটে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে গড়ে যান ১১১ রানের বড় জুটি।
সাব্বিরের হাফসেঞ্চুরি
দরকারের সময় দারুণ এক ইনিংস খেললেন সাব্বির রহমান। বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিতে না পারলেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দলের বিপদে করলেন কার্যকারী হাফসেঞ্চুরি।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফিফটি পূরণ করলেন সাব্বির। পাঁচ ইনিংস পর ৫০ ছাড়ানো ইনিংস খেললেন তিনি। এ বছরের শুরুতে নিউজিল্যান্ড সফরে ১০২ রানের ইনিংস ছিল সর্বশেষ। পরের সময়টায় কঠিন পরীক্ষা দিয়ে অবশেষে রানে ফিরলেন তিনি। ৪২ বলে পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি, যাতে ছিল ৭ বাউন্ডারির মার।
সাব্বির-মুশফিকের প্রতিরোধ
লাসিথ মালিঙ্গার তোপে খেই হারানো বাংলাদেশকে টেনে তোলার চেষ্টা করছেন মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান। ৩৯ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর কঠিন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে প্রতিরোধ গড়েছেন তারা।
ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট করছেন মুশফিক। তবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে আছেন সাব্বির। ইতিমধ্যে পঞ্চম উইকেটে তারা গড়েছেন ৫০ ছাড়ানো জুটি, যাতে খেলেছেন মাত্র ৪০ বল।
ফিরে গেলেন মাহমুদউল্লাহও
৩৯ রান তুলতে বাংলাদেশের নেই ৪ উইকেট! টপ অর্ডারের চার ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে কঠিন চাপে সফরকারীরা। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।
চাপে পড়া দলকে টেনে তুলতে ক্রিজে এসেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান হিসেবে তার কাছে দলের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সেটা পূরণ তো দূরে থাক, উল্টো দলকে আরও বিপদে ফেলে গেছেন মাত্র ৩ রানে আউট হয়ে। লাহিরু কুমারার শর্ট বল লাফিয়ে উঠে খেলতে গিয়ে ক্যাচ আউট হয়েছেন তিনি থার্ড ম্যানে।
এবার মালিঙ্গার বলে বোল্ড সৌম্য
শেষ ওয়ানডেতে নিজের সেরাটা ঠেলে দিচ্ছেন লাসিথ মালিঙ্গা। এক একটি বল যেন আগুনের গোলা! সেই গোলায় এবার বিধ্বস্ত সৌম্য সরকার। লঙ্কান পেসারের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে গেছেন এই ওপেনার।
মোহাম্মদ মিঠুনের বিদায়ের পরপরই ফিরে গেছেন সৌম্য। মালিঙ্গার আড়াআড়ি ডেলিভারি তার ব্যাট ও পায়ের মধ্যে দিয়ে গিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। আউট হওয়ার আগে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ২২ বলে ১ বাউন্ডারিতে করেন ১৫ রান। সৌম্যর বিদায়ে বাংলাদেশ ৩০ রানে হারায় ৩ উইকেট।
পারলেন না মিঠুন
প্রস্তুতি ম্যাচে সাকিব আল হাসানের তিন নম্বরে পজিশনে আলো ছড়িয়েছিলেন মোহাম্মদ মিঠুন। মূল ম্যাচে তাই তার কাছে প্রত্যাশা ছিল বেশি। যদিও পারলেন না এই ব্যাটসম্যান। ১০ রান করে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরে গেছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা বোর্ড প্রেসিডেন্টস একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মিঠুন খেলেছিলেন ৯১ রানের ইনিংস। তার আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে ছিল ৮৫ রানের একটি ইনিংস। রানে থাকা এই ব্যাটসম্যানের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা বেশি ছিল। কিন্তু নুয়ান প্রদীপের বলে এলবিডাব্লিউ হওয়ার সঙ্গে রিভিউও নষ্ট করে যান মিঠুন।
মালিঙ্গার দুর্দান্ত ইয়র্কারে ঘায়েল তামিম
অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার ওয়ানডেতে নেমেছেন তামিম ইকবাল। অন্যদিকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছেন লাসিথ মালিঙ্গা। দুজনের মুখোমুখি লড়াইয়ে তামিমকে দুঃস্বপ্নে ডুবিয়ে আনন্দে উড়লেন লঙ্কান পেসার। তার দুর্দান্ত ইয়র্কারে কুপোকাত তামিম। রানের খাতা খোলার আগেই প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।
মালিঙ্গার ইয়র্কার ডেলিভারি বুঝেই উঠতে পারেননি তামিম। বল তার ব্যাট ও পায়ের মাঝখান দিয়ে আঘাত করে স্টাম্পে। বল সামলাতে না পেরে ক্রিজে ওপর পড়েই যান তামিম! অধিনায়ক হিসেবে ব্যাট হাতে নেমে পঞ্চম বলেই শেষ তামিমের ইনিংস। তার বিদায়ে ১ রানে বাংলাদেশ হারায় প্রথম উইকেট।
জিততে বাংলাদেশের চাই ৩১৫
ক্যাচ মিসের সঙ্গে চললো বাজে ফিল্ডিংয়ের মহড়া। বাংলাদেশের ‘গা ছাড়া’ মনোভাবের সঙ্গে কুশল পেরেরার অসাধারণ সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কা পেল বড় সংগ্রহ। কলম্বোর প্রথম ওয়ানডেতে পেরেরার ১১১ রানে ভর দিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে করেছে ৩১৪ রান।
কুশল পেরেরা ৯৯ বলে ১৭ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় খেলেন ১১১ রানের ইনিংস। অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ব্যাট থেকে এসেছে দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮ রান। মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ মিসে ‘দ্বিতীয় জীবন’ নিয়ে কুশল মেন্ডিস করেন ৪৩। দিমুথ করুণারত্নে ৩৬, লাহিরু থিরিমানে ২৫, ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ১৮, আর লাসিথ মালিঙ্গা ওয়ানডে ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংসকে অপরাজিত থাকেন ৬ রানে।
লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের সামনে বাংলাদেশের প্রায় সব বোলারকেই দিতে হয়েছে কঠিন পরীক্ষা। এর মধ্যেও সবচেয়ে সফল শফিউল ইসলাম। এই পেসার ৯ ওভারে ৬২ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। ১০ ওভারে ৭৫ রান খরচায় মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার ২ উইকেট। আর একটি করে উইকেট নিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, রুবেল হোসেন ও সৌম্য সরকার।








