মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার সুমনের নির্বাচক প্যানেলের চুক্তি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত নবায়ন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। আগামী বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখেই খেলোয়াড়দের ওপর নজর থাকবে তাদের। কিন্তু প্রধান নির্বাচক নান্নু মনোনিবেশ করতে চান টেস্ট ক্রিকেটে। তার মতে, লংগার ভার্সনে ভালো করতে পারলে অন্য ফরম্যাটেও সফল হবে ক্রিকেটাররা।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চোখ রেখে নান্নু বলেছেন, ‘সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে, এখানে আমরা সবসময় পিছিয়ে। এই ফরম্যাটে আমাদের দেশে বিপিএল ছাড়া কোনও খেলা নেই। তাই ছোট এই ফরম্যাটের জন্য ক্রিকেটার পাওয়া একটু মুশকিল। এই জায়গায় আমাদের অনেক খাটতে হবে। দেশীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পরিকল্পনা চলছে। সেটা করতে পারলে আশা করি, ভালো ক্রিকেটারদের পাবো।’
এরপরই প্রধান নির্বাচক জানালেন, কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ভালো করতে হলেও সবার আগে টেস্টকে প্রাধান্য দিতে হবে। নান্নু বলেছেন, ‘আমরা যে শুধু টি-টোয়েন্টিতেই ফোকাস করবো তা নয়। সবার আগে আমাদের ফোকাস থাকবে টেস্ট ক্রিকেটে। একজন ক্রিকেটারের জন্য সেরা ফরম্যাট হলো টেস্ট, তারপর ওয়ানডে, এরপর টি-টোয়েন্টি। আসলে লংগার ভার্সনে ভালো খেললে আপনি যে কোনও ফরম্যাটে সফল হবেন।’
বয়সভিত্তিক ক্রিকেট নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা আছে সাবেক এই ক্রিকেটারের, ‘বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের জন্য ৬০ জন খেলোয়াড় খেলা নিয়ে ব্যস্ত আছে। এতগুলো ক্রিকেটারকে এক মাসের মধ্যে একসঙ্গে করা কখনোই হয়নি। ঈদের পর দেখতে পাবেন বয়সভিত্তিক দলগুলোও খেলার সুযোগ পাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে খেলোয়াড় নিয়ে একটা জায়গায় আমরা দাঁড়াতে পারবো আশা করি।’
জাতীয় দলের বাইরে ঘরোয়া ক্রিকেটেও নজর রাখা চালিয়ে যাবেন নান্নু, ‘জাতীয় দলের বাইরেও নির্বাচকদের অনেক কাজ থাকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে নজর দিতে হয়, বিভিন্ন ঘরোয়া টুর্নামেন্টেও। আবার বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটেও চোখ রাখি আমরা। আপনারা হয়তো জানেন না, গতবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৮০ ওভারে যে নতুন বল পরিবর্তন, এটা নির্বাচক প্যানেল থেকেই আসছে। অনেক টেকনিক্যাল বিষয়ও আমরা দেখি। ডেভলপমেন্ট বা পয়েন্ট সিস্টেম কি হবে এসবও।’
এখনই তিন ফরম্যাটের জন্য আলাদা দল তৈরি করা সম্ভব নয় জানালেন প্রধান নির্বাচক। এই প্রক্রিয়া বেশ সময়সাপেক্ষ বললেন নান্নু, ‘এখন আলাদা দল তৈরি করা সম্ভব নয়। এখনও প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করেই চলতে হয় আমাদের। এখন ওয়ানডে বেশি খেলছি বলে এই ফরম্যাটে বেশি ক্রিকেটার পাচ্ছি। কিন্তু টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি এত বেশি খেলছি না, তাই এখানে ঘাটতি। আশা করি টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি বেশি খেললে এই দুই ফরম্যাটেও আমরা বেশি খেলোয়াড় পাবো। টি-টোয়েন্টিতে দেশীয় লিগ চালু হলে আমরা ভালো ফল পাবো আশাবাদী।’
নিউজিল্যান্ড সফরে পাওয়া চোট নিয়েই বিশ্বকাপ খেলেন মাহমুদউল্লাহ। ইংল্যান্ডে বল করতে পারেননি তিনি। ব্যাট হাতে রান করাতেও ছিলেন অনিয়মিত। বিশ্বকাপ শেষে দেশে ফিরে আবার দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কা সফরে গেছেন তিনি। প্রথম দুই ম্যাচেও তার ব্যাটে নেই রান। খেলোয়াড়রা চোট লুকিয়ে খেলছেন এমন দাবিতে নান্নুর প্রতিক্রিয়া, ‘আমাদের কাছে ফিজিও যে রিপোর্ট দেয়, সেটা দেখেই খেলোয়াড়দের দলে রাখি। যদি কোনও খেলোয়াড় সম্পর্কে নেতিবাচক রিপোর্ট থাকে, তাহলে তাকে দলে নেওয়া হয় না। মাহমুদউল্লাহর ব্যাপারেও একই প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। ফিজিওর রিপোর্ট দেখেই মাঠে নেওয়া হয়েছে তাকে। এখন সে যদি আবার চোট পায় সেটা ফিজিও দেখবে।’








