বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সঙ্গে ১৪ বছরের সম্পর্কের ইতি টানলেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম। বাংলাদেশের ক্রিকেটের ‘ফাহিম স্যার’ সোমবার কর্মক্ষেত্র বিসিবিতে কাটালেন শেষ দিন। বিদায়বেলায় তাকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা।
সোমবার দুপুরে জাতীয় টুর্নামেন্ট কমিটির সভা শেষে ফাহিমের হাতে ফুল ও স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেন বিসিবির পরিচালকরা। আগের দিনও তাকে উপহার দিয়েছিল বিসিবি। বোর্ড পরিচালকের কাছ থেকে স্মারক উপহার হিসেবে তিনি পেয়েছিলেন হেলমেট যুক্ত চাবির রিং।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ‘অভিভাবক’ বলা যায় তাকে। সবারই শেষ ভরসার জায়গা ছিলেন ‘ফাহিম স্যার’। বাংলাদেশের ক্রিকেটের অনেক বাঁক পেরিয়ে বিসিবিতে তিনি কাটালেন শেষ কর্মদিবস। ১৪ বছরের রোমাঞ্চকর ভ্রমণ শেষের মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাগাভাগি করেছেন তিনি। সকালে অফিসে গিয়ে তোলা ছবি পোস্ট করে ফাহিম ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘বিসিবি অফিসে আমার শেষ দিন।’
একসময় বয়সভিত্তিক দলের কোচ হিসেবে প্রতিভাবান ক্রিকেটার খুঁজে বেড়ানো ফাহিম পরবর্তীতে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের দায়িত্ব সামলেছেন। যদিও ‘অদ্ভুত’ কারণ দেখিয়ে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মেয়েদের ক্রিকেট দলের দায়িত্ব। এই জায়গাতেও নিজের কাজ ঠিকমতো করতে না পারার হতাশায় পদত্যাগ করেছেন ফাহিম।
যদিও বিদায়বেলায় কোনও আক্ষেপ নেই তার। তবে ‘ফাহিম স্যার’কে মিস করবেন এখনকার বাংলাদেশ পুরুষ কিংবা নারী দলে প্রত্যেক সদস্য। নারী দলের সাবেক অধিনায়ক ও পেসার জাহানারা আলমের কণ্ঠে যেন সবার মনে কথাটাই বেজে উঠলো। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘(ফাহিম) স্যার আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছেন। যখনই সমস্যায় পড়েছি, তার সাহায্য পেয়েছি। তার কাছ থেকে শিখেছি। সত্যিই তাকে আমরা খুব মিস করব।’
একসময় কিউরেটর হিসেবে কাজ করা ফাহিমের হাতেই হয়েছিল বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের উইকেট। বাংলাদেশের ক্রিকেটের এমন আরও অনেক স্মরণীয় মুহূর্তের সঙ্গে জড়িয়ে আছে সবার প্রিয় ‘ফাহিম স্যার’-এর নাম। বিসিবি ছাড়লেও মাঠের বাইরের এই অলরাউন্ডারকে মনে রাখবে বাংলাদেশের ক্রিকেট।








