অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো বরিশালের শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামের। নির্মাণের ৫৩ বছর পর স্টেডিয়ামটিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোনও খেলা অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ও শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের চার দিনের ম্যাচ দিয়ে।
দুটি ইয়ুথ টেস্ট ও পাঁচটি ৫০ ওভারের ম্যাচ খেলতে বাংলাদেশ সফরে এসেছে শ্রীলঙ্কা যুব দল। বরিশালের এই ম্যাচ দিয়েই শুরু হয়েছে সিরিজ। যদিও দুই দিন অপেক্ষার পর শুরু হয়েছে চার দিনের এই ম্যাচ। বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে মাঠেই নামা যাচ্ছিল না। তাতে অপেক্ষাও বাড়ছিল বরিশালের দর্শকদের।
অবশেষে সোমবার দুপুরে তৃতীয় দিনে এসে খেলা শুরু হয়। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা শ্রীলঙ্কা দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ৩ উইকেটে করেছে ১৫৫ রান। বাংলাদেশের যুবাদের শুরুটা দারুণ হলেও সফরকারী ব্যাটসম্যানদের ঘুরে দাঁড়ানো পারফরম্যান্সে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে তারা।
মাত্র ৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। ওপেনার থাভিস্কা কাহাদুবরাচ্চি ১ রানে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর ওয়ান ডাউনে নামা রাভিন্দু রসনথা আউট হয়ে যান ২১ রানে। আরেক ওপেনার অহন বিক্রমাসিংহে করেন ৪৫ রান। দিন শেষ অপরাজিত আছেন সোনাল দিনুশা (৪৬*) ও অধিনায়ক নিপুন ধনাঞ্জয়া (১৮*)।
বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল বোলার আসাদউল্লাহ গালিব। এই পেসার ২৯ রান দিয়ে পেয়েছেন ২ উইকেট। আর অন্য উইকেটটি নিয়েছেন নোমান চৌধুরী।
সোমবার দুপুর আড়াইটায় শুরু হয় খেলা। এর আগে ম্যাচের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ।
যুব দলের ম্যাচটির ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে পেরে আনন্দিত বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি এসএম অজিয়র রহমান। এই ম্যাচ আয়োজনের সাফল্যে আগামীতে আরও বড় পরিসরের আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের কথা জানিয়েছেন তিনি।
বরিশাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা যুব দলের চার দিনের ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল গত শনিবার। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে আউট ফিল্ড ভেজা থাকায় প্রথম দুই দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। সোমবার তৃতীয় দিন সকাল থেকে দফায় দফায় মাঠ পরিদর্শন শেষে দুপুর ২টার পর খেলা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
১৯৬৬ সালে বরিশালের এই স্টেডিয়াম নির্মাণে পর কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়নি। যে কারণে যুব দলের ম্যাচ ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা ছিল বরিশালবাসীর মাঝে।








