সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে মাহমুদউল্লাহকে টেস্ট অধিনায়কের ভূমিকায় দেখা গেছে কয়েকবার। তবে এই অলরাউন্ডারের নিষেধাজ্ঞায় ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে মুমিনুল হকে। ‘আচমকা’ অধিনায়কত্ব পাওয়ার ঘোর এখনও কাটছে না এই ব্যাটসম্যানের।
জুয়াড়ির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি ‘গোপন’ করায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দুই বছর নিষিদ্ধ করেছে সাকিবকে, যেখানে এক বছরের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। সাকিব শুধু দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ই নন, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অধিনায়কও। ভারত সিরিজের আগে তাই নতুন অধিনায়ক খুঁজতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)। কুড়ি ওভারের সিরিজে দায়িত্ব দেওয়া হয় মাহমুদউল্লাহকে, আর টেস্টের অধিনায়ক করা হয়েছে মুমিনুলকে।
হঠাৎ পাওয়া দায়িত্বের ঘোর এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। আজ (বুধবার) মিরপুরে সংবাদ মাধ্যমের সামনে তার কথাতেই তা ফুটে উঠলো, ‘কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলাম না, পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত এটা (অধিনায়কত্ব)। কোনও সময়ই চিন্তা করিনি বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক হবো কিংবা টেস্ট দলের অধিনায়ক হবো। এমন কিছু স্বপ্নেও ছিল না। যাইহোক পেয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ্।’
সাকিবের নিষেধাজ্ঞায় তাকেই কেন অধিনায়ক বেছে নেওয়া হলো? এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য জানা নেই মুমিনুলের, ‘কঠিন একটা প্রশ্ন, উত্তর দেওয়াও কঠিন। কারণ এটা তো ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত। সত্যি কথা বলতে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না।’
প্রথমবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করতে যাচ্ছেন মুমিনুল, তাও আবার ভারতের বিপক্ষে। চাপ অনুভব করা স্বাভাবিক। যদিও এই ব্যাটসম্যানের ভাবনা অন্যরকম, ‘কখনোই এভাবে চিন্তা করিনি অধিনায়কত্ব অতিরিক্ত চাপ কিংবা দায়িত্ব। এভাবে চিন্তা করলে বাড়তি চাপ হয়ে যায়। আগে যেভাবে খেলেছি রান করার জন্য, দলের জন্য সেভাবেই খেলব।’
ঘরের মাঠে টেস্টে অপ্রতিরোধ্য দল হয়ে উঠেছে ভারত। সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করেছে তারা। সেই দলটির বিপক্ষে খেলা কতটা চ্যালেঞ্জিং? মুমিনুলের বক্তব্য, ‘আমার কাছে মনে হয়, জীবনে যেখানেই ক্রিকেট খেলি, সেটাই চ্যালেঞ্জিং। ভারতে হয়তো সে চ্যালেঞ্জটা একটু বেশি থাকবে। আমাদের সবাইকে সেভাবেই প্রস্তুত হয়ে চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, চ্যালেঞ্জটা নেওয়ার জন্য সবাই প্রস্তুত আছে। আমিও ওভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
চ্যালেঞ্জিং এই সিরিজে বাংলাদেশ পাচ্ছে না সাকিব ও তামিম ইকবালকে। দলের দুই সেরা খেলোয়াড়ের অভাব মাঠে নামার আগেই টের পাচ্ছেন মুমিনুল। যদিও একই সঙ্গে তরুণদের দারুণ সুযোগ দেখছেন তিনি, ‘সাকিব ভাই নেই, এদিকে আবার তামিম ভাইও নেই। তাদের মতো সিনিয়র দুজন ক্রিকেটারের না থাকা দলকে প্রভাবিত করবে। তবে নতুন যারা এসেছে দলে, তাদের জন্য হয়তো বড় একটা সুযোগ।’








