সাংবাদিকদের বিসিবি সভাপতি যা বললেন (সম্পূর্ণ)

স্পোর্টস ডেস্ক
০৭ জুলাই ২০১৪, ১৭:৩৯আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০১৯, ১৭:৪২

papon20150309145518_244322 ক্যারিবিয়ান ক্রিকেট লিগ খেলতে যাওয়ার পূর্বে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না নেওয়ার অপরাধে সাকিব আল হাসানকে ৬ মাস সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সোমবার বোর্ডসভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বিসিবি সভাপতি নাজমুল ইসলাম পাপন।
বাংলা ট্রিবিউনের পাঠকদের সুবিধার্থে বিসিবি সভাপতির সম্পূর্ণ বিবৃতি হুবহু তুলে ধরা হলো-
সাকিবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আমাদের (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের) বিশদ আলোচনা হয়। আমরা ইনডিভিজুয়ালি প্রত্যেকের মতামত জানার জন্য সময় দেওয়ার চেষ্টা করেছি। যাতে করে সবার অভিমতটাই আমরা জানতে পারি। আপনারা জানেন যে সাকিব আজকে আমার সাথে দেখা করেছিল। আমার সাথে সাকিব বসেছিল, কথা বলেছিল। ও আমাকে বলছে যে, ভেবেছে লন্ডনে গেলে সে এনওসি পেয়ে যাবে। যেহেতু সুজন (নিজাম উদ্দীন চৌধুরী) ছিল না- আমাদের অ্যাক্টিং সিইও। সবসময় সুজনের কাছ থেকেই নেয়। এটা তো আপনারাও জানেন কার কাছ থেকে নিতে হয়। এর আগে যতবার গিয়েছে ততবারই সুজনের কাছ থেকেই নিয়েছে। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি যে ও ভেবেছিল ওর কাছে এনওসি আছে। ওর যে এনওসি নাই এটা সে আগের দিন রাতে জানতে পেরেছে। তো তখন সে তাড়াহুড়ো করে কিছুই করতে পারেনি। সে আকরামকে (আকরাম খান) জানিয়েছে। আকরাম তখন ওকে বলেছে তার পার্সোনাল সমস্যা নাই। কিন্তু তোমাকেতো সিইওর কাছ থেকেই নিতে হবে। সো সে ওভাবেই চলে গেছে। সে ভেবেছিলো সে গেলেই পেয়ে যাবে।

কিন্তু সে পরে তার ভুল বুঝতে পেরেছে যে তার এভাবে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। দ্বিতীয়ত সে যেটা বলেছে যে, সে কোচের সাথে দুর্ব্যবহার করেছে। সেটা সে আমার কাছে ক্লিয়ারলিই স্বীকার করেছে এবং এজন্য সে অনুতপ্ত এবং সে লন্ডনে নেমে ফোন করে অ্যাপোলোজি চেয়েছে। যে তার ভুল হয়ে গেছে। তার এ রকম করা ঠিক হয়নি এছাড়া যে সমস্ত বিষয়গুলো পত্রপত্রিকায় এসেছে সেগুলো বলা উচিত হয়নি, এটাই ও আমাকে বলেছে।

সো এই বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনার পেছনে কারণটা ছিল যেটা বোর্ডের অভিমত। এখানে সকলের কথাবার্তা শুনে যেটা মনে হয়, আপনারা সম্ভবত দুই-তিনটা পয়েন্ট যেটা শুনেছেন, আমি যেটা দেখেছি কিন্তু উই হ্যাভ সিরিজ অব অ্যালিগ্যাশনস অ্যান্ড রিপোর্টস, যে ওর সিভিয়ার অ্যাটিচুড সমস্যা আছে। তার এই অ্যাটিচুড সমস্যাটা এতই প্রকট যে, এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন কাউকে পাইনি। এখানে যারা ছিল সবাই বলেছে, আমরা এত অ্যাটিচুড প্রব্লেম আগে পাইনি।

এখন যেটা বিষয় হচ্ছে অ্যাটিচুড প্রব্লেম যদি তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতো বা একজন দুজনের মধ্যে থাকতো তাহলে সমস্যা ছিল না। কিন্তু আমরা যতই আলোচনা করতে লাগলাম এবং এই কয়েক দিনে আপনারা জেনে থাকবেন যে, আমরা কিন্তু খেলোয়াড়দের সাথে কথা বলেছি। খেলোয়াড়দের বিভিন্ন লেভেলে কথা বলেছি জানার জন্য যে, সমস্যাটা কোথায়?

আপনারা সবাই জানেন যে কনটিনিউয়াস নন পার্ফম্যান্স টিমের যে টিমের মধ্যে টিমওয়ার্ক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং টিম ম্যানেজার্স রিপোর্টও আপনারা কেউ কেউ পড়েছেন। সেখানে ক্লিয়ারলি লেখা আছে যে, টিমওয়ার্কটা একেবারেই অ্যাবসেন্ট।

কোচের সাথেও কথা বলেছি। আমরা যে জিনিসটা দেখেছি যে, অত ডিটেইলস যেতে চাই না। এটা এমন নয় যে, সে একটা এনওসি অথবা আইন ভঙ্গ করে উপরে চলে গেলো কেন তা নয়। ইটস অ্যা মালটিপল ইস্যুজ। সব দেখে আমাদের মনে হয়েছে যে, ওর বিহেভিয়ারটা এমন যেটা নাকি আমাদের দলকে সরাসরি ইমপ্যাক্ট করছে। শুধুমাত্র টিম কমবিনেশানে নয়, টিম পার্ফম্যান্সেও। তার চাইতেও অ্যালার্মিং বিষয় হচ্ছে- দেয়ার আর সাম আদার্স যারা নাকি ওর মতো করা শুরু করেছে। যদি এটা চলতে থাকে তাহলে এটা আমাদের ক্রিকেটের জন্য সর্বনাশ ডেকে নিয়ে আসছে।

কাজেই আমরা মনে করি যে, অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত। এটা হচ্ছে বোর্ডের অভিমত।

এখানে একটা কথা যেটা অস্বীকার করার উপায় নাই। এদেরকে যে পুরোপুরি দোষ দিবো হান্ড্রেড পার্সেন্ট তাও অবশ্য দেওয়া যায় না, কারণ এই জিনিসগুলো কিন্তু ওরা একমাস দুই মাস ধরে করছে না। ওরা সব সময়েই করে আসছে। যেহেতু তারা অত্যন্ত জনপ্রিয়, ভালো এবং আমাদের সবার অত্যন্ত প্রিয় মূল্যবান খেলোয়াড়, সেইজন্য অনেক কিছুই কিন্তু আমরা ইগনর করে যাই, অনেকেই, অ্যাট ডিফারেন্ট লেভেলস। এভাবে ছোটখাটো করতে করতে এখন বোর্ড মনে করছে আর কিছুদিন গেলে ওরা কাউকেই মানুষ মনে করবে না। এরা কন্ট্রোলের বাহিরে চলে যাচ্ছে। কোচের কথা শুনে না। ক্যাপ্টেনের কথা শুনে না। কারও কথাই কেউ শুনে না। সো এই অবস্থাতে আমরা যেটা মনে করি যে, ডিসিপ্লিন ইজ অ্যা মাস্ট।

খেলাধুলাতেই কিন্তু একটা ডিসিপ্লিনের বিষয় এখানে নিয়মকানুন মেনেই চলতে হয়। যেখানে একজন রোল মডেল, যদি এমন হতো যে একটা ম্যাচ খেলেছে কেউ চিনে না জানে না সেটা এক জিনিস কিন্তু সাকিব হলো আমাদের রোল মডেল। আমাদের দেশের অ্যাম্বাসেডারের মতো। বাংলাদেশকে অনেকে চিনেই সাকিবের মাধ্যমে। এই জন্য আমরা মনে করি, এই ধরনের ব্যক্তিত্বদের জন্য উপরে উঠা, সুনাম অর্জন করা, ভালোবাসা পাওয়া যেমন সহজ তেমনি এটা মেন্টেইন করার জন্য তাদেরকেও বেশ পরিশ্রম করতে হবে এবং সেইজন্য আমাদের বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ছয় মাসের জন্য সকল প্রকার কমপিটেটিভ ক্রিকেট থেকে সে সাসপেন্ডেড- জাতীয় ও আন্তর্জাতিক। এবং ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত যে কোনও বাহিরের টুর্নামেন্টে সে আর এনওসি পাবে না। বাহিরের সমস্ত টুর্নামেন্ট খেলা বন্ধ।

আমি আপনাদেরকে কয়েকটা কথা বলি। এখানে সমস্যা অনেক। সব কথা আপনাদেরকে আমরা বলতে পারছি না। আপনাদেরকে একটা উদাহরণ দেই তাহলে আপনারা হয়তো বুঝতে পারবেন। মানে আমি বেশি কথা দর্শকদের সামনে বলতে চাই না। আসলে আমি কারও বিরুদ্ধেই কোনও কথা বলতে চাই না। আপনারা জানেন যে, সেদিন একটা ঘটনা ঘটেছিলো ড্রেসিং রুমে। লেখালেখি হয়েছিলো পত্রপত্রিকায়। আমাদের কাছে প্রত্যক্ষদর্শী যারা ছিল, যারা নাকি সিকিউরিটি গার্ড ছিল, সেখানে যারা ওই ছেলেকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে, ওর কাছ থেকে তাদের রিপোর্ট আছে যে, সে ওই ছেলেকে মেরেছে। সে নিজেও সবার কাছে বলছে, টিম ম্যানেজার থেকে শুরু করে সবাইকে বলেছে যে সে মেরেছে। অথচ যেদিন আমরা তাকে হিয়ারিং এর জন্য ডাকলাম সেদিন ও এসেছে এবং বলে গেলো অকপটে যে না আমি মারিনি।

তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে, তুমি উপরে গেলে কেন? বললো আমি নিয়ম জানি না। এখানে আসা যে যায় না, সে জানে না। এগুলো আমরা যতভাবে দেখি না কেন বোর্ড মনে করছে এগুলো আরও বেশি অবজ্ঞা। ড্যাম কেয়ার একটা ভাব তার মধ্যে। এসব আর প্রশ্রয় দেওয়া যায় না।

আমার সাথে সাকিবের যখন দেখা হয়েছে তখন আমার মনে হয়েছে যে আমি ওকে এখুনি ক্ষমা করে দিই। আমাকে যদি আপনি জিজ্ঞাসা করেন আর কী। আসলে ওকে যখন দেখি, যখন বলে আমার ভুল হয়ে গেছে... যে কাউকে তো আমরা মাফ করতেই চাই। কিন্তু ক্রিকেট... আজকে বোর্ড যেটা বলেছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেটটা সাকিবের জন্য না, সাকিব এই বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষের জন্য। এই জিনিসটাই আমাদের সবাইকে মাথায় রেখে কাজ করতে হবে। সেজন্য অত্যন্ত কঠিন, আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক ও কষ্টকর কিন্তু আমরা বাধ্য হয়েছি এই শাস্তিটা দিতে। এমনকি এর পরবর্তীতে এর পুনরাবৃত্তি ঘটলে সারাজীবন ব্যান হতে পারে যে কোনও প্লেয়ারের। আমরা এই ম্যাসেজটাই আপনাদের সবাইকে দিতে চাই। ডিসিপ্লিনের ব্যাপারে কখনও কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। জিরো টলারেন্স।

বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পাপন বলেন, এটা নিয়ে কথা হয়েছে। বেতন পাবে কি পাবে না এটা দেখতে হবে সাসপেনশানের নিয়মটা কি। আমাদের পঞ্চাশ ভাগ একটা স্যালারি হয়ত পায় ডিউরিং সাসপেনশান এটা শুনলাম। সো যেটা নিয়ম আছে সেই নিয়ম অনুযায়ীই পাবে।

ম্যানেজম্যান্টের পরিবর্তন আনার বিষয়ে পাপন বলেন, ম্যাসিভ চেঞ্জ আসবে বিভিন্ন জায়গাতে। কিন্তু আজকে আসলে হয়েছে কি, এই একটা ইস্যু এত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, সো ডেলিকেট, সো টাচিং এত কষ্টকর যে, এটার পরে আর অন্যান্য জিনিস নিয়ে আলাপ করতে ইচ্ছা করেনি।

তার বিষয়ে যেসব অভিযোগ শুনেছি যেগুলো আমি বলব না কোনওদিন আপনাদের কাছে, কতগুলো ঘটনা এত অমানবিক মনে হয়েছে যে আমরা ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম ওখানে যে কিভাবে একটা মানুষ এরকম করতে পারে।

সাকিব প্র্যাক্টিস করতে পারবে কী না?

প্র্যাক্টিস করতে পারবে। একটা কথা বলে রাখি কমপিটেটিভ ক্রিকেট থেকে বাদ কিন্তু সে টিমের সাথে প্র্যাক্টিস থেকে শুরু করে যা যা করার সেগুলো করতে পারবে। কোচ যদি চায় করতে পারবে।

ন্যাশনাল টিমের সাথে না। আলাদা করবে। এখন কোচ ওকে আদৌ করাবে কী না। করালে কীভাবে করাবে সেটা আমি কীভাবে বলবো?

আরেকটা বিষয়। আরও দুইটা এনওসি দেওয়া আছে সেগুলো উইড্রো করা হবে।

আরও একটা বিষয় যে, চিঠি চলে যাচ্ছে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের নিকট যে, এখন থেকে প্রতিটা বিজ্ঞাপন করার পূর্বে বিসিবির কোনও কনট্রাক্টচুয়াল প্লেয়ার তাদের বিসিবিকে জানাতে হবে এবং বিসিবির অনুমতি নিতে হবে। বাকী সব ক্ষেত্রে সব জায়গায় তাদের অনুমতি লাগবে না। ডিপেন্ডিং অন কোন অকেশানে যাচ্ছে, তাদেরকে অনুমতি নিতে হবে।

/এমএমআর/
সম্পর্কিত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
এলিসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে সিরিজে সমতা অস্ট্রেলিয়ার
১৫ বলে ফিফটি, পারভেজের রেকর্ডে ভাগ বসালেন হাবিবুর
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম