ইতিহাসের সাক্ষী হতে কলকাতায় হাজারো বাংলাদেশি

রবিউল ইসলাম, কলকাতা থেকে
২২ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৫আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৭

কলকাতার গ্যালারি মাতাতে তৈরি বাংলাদেশি সমর্থকরা (ফাইল ছবি) উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো দিবা-রাত্রির টেস্ট। তাও আবার বাংলাদেশের! বেশি দূরে নয়, কলকাতায়। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায় না কেউ। ঐতিহাসিক এই ম্যাচের সাক্ষী হতে বাংলাদেশ থেকে হাজার হাজার ক্রিকেটপ্রেমী এসেছেন কলকাতায়। খেলা দেখতে এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও।

এমনিতেই ভারতের বিপক্ষে ক্রিকেট নিয়ে এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে বাংলাদেশি সমর্থকদের মনে। আর মাঠটা যদি হয় ইডেন গার্ডেনস, তাহলে তো কথাই নেই। তাই তো বহু সমর্থক এরই মধ্যে কলকাতায় পাড়ি দিয়েছেন। কেউ টিকিটি পেয়েছেন, কেউ বা আবার অপেক্ষায় আছেন কালো বাজারে টিকিট পাওয়ার।

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় কথা হয় রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিন বন্ধু সিলেট থেকে এসেছেন খেলা দেখতে। কিন্তু টিকিটের কোনও কূলকিনারা করতে পারেননি, তবে আশায় আছেন। ভারতীয় এক নাগরিক তাকে আশ্বস্ত করেছেন, একটু বেশি খরচ করলে টিকিটের ব্যবস্থা করে দেবেন।

ম্যাচ দেখতে কলকাতায় সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি এসেছেন বৃহস্পতিবার। স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে রাস্তায় অনেক বাংলাদেশি সমর্থককে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। কলকাতার বিভিন্ন হোটেলে বাংলাদেশের মানুষ এসে উঠেছেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের বেশ কিছু সাপোর্টার গ্রুপ এসেছেন। এছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগেও অনেকে এসেছেন গোলাপি বলে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের সাক্ষী হতে। 

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জনের একটি শিক্ষার্থী গ্রুপ খেলা দেখতে এসেছেন বাংলাদেশ থেকে। তারা অবশ্য টিকিট পেয়েছেন। এবার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার পালা। গ্রুপটির একজন শহিদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘প্রথম টেস্ট যেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ, তাতে তো খেলা দেখতেই ইচ্ছে করে না। তবুও কি মন মানে! তাই বন্ধুদের নিয়ে ইতিহাসের সাক্ষী হতে কলকাতায় চলে এলাম। এবার অনেক সমর্থক পাবে বাংলাদেশ। মুশফিকদের উদ্দেশ্যে বলবো, তোমরা মাঠে সেরাটা দাও, আমরা গ্যালারিতে আছি।’

বাংলাদেশি ক্রিকেট ভক্তদের আগমনে নিউমার্কেট, পার্ক স্ট্রিট, মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিটের আশপাশের হোটেলগুলো লোকে লোকারণ্য। বৃহস্পতিবার রাতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিল পরিমাণ জায়গা নেই কোনও হোটেলেই। স্থানীয় এক হোটেলের ম্যানেজার জানালেন, ‘সব সময়ই বাংলাদেশি লোকজনে ভরা থাকে এই জায়গাটা। তবে ইডেনের টেস্টকে কেন্দ্র করে এত যে মানুষ একসঙ্গে, এটা খুব একটা দেখা যায় না। তাদের থাকার ব্যবস্থা করে দিতে হোটেলগুলো সত্যিই হিমশিম খাচ্ছে।’

ভারতীয় ক্রিকেটের খোঁজ সব সময়ই রাখেন সুবীর দত্ত। তিনিও গোলাপি বলের টেস্ট নিয়ে রোমাঞ্চিত। বাঙালি বন্ধু আরিফকে পাশে রেখেই বললেন, ‘এই টেস্টটা স্মরণীয় করে রাখবে বাংলাদেশ, দেখে নিও।’ আরিফের মুখে হাসি ফুটলো। এই হাসিটা শেষ পর্যন্ত থাকবে প্রত্যাশা কোটি কোটি বাংলাদেশির।

/এফএইচএম/
সম্পর্কিত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
এলিসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে সিরিজে সমতা অস্ট্রেলিয়ার
১৫ বলে ফিফটি, পারভেজের রেকর্ডে ভাগ বসালেন হাবিবুর
সর্বশেষ খবর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম