শেষ ১০ ওভারে কী ঝড়টাই না তুলেছিলেন নিকোলাস পুরান আর কাইরন পোলার্ড! আর তাতেই কটকে ওয়ানডে সিরিজ নির্ধারণী শেষ ম্যাচে ভারতকে ৩১৬ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দিতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু রান তাড়ায় দুর্ধর্ষ ভারতের সঙ্গে তারা পেরে ওঠেনি। পারবে কী করে? ভারতের তিন ‘রান মেশিনকে’ যে আটকে রাখা যায়নি। রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল ছিলেন চেনা ছন্দে, সঙ্গে জ্বলে ওঠেন আগের দুই ম্যাচে হতাশ করা বিরাট কোহলি। তাতে ৮ বল হাতে রেখে ৪ উইকেটে জেতে ভারত, তিন ম্যাচের সিরিজটাও জিতে ২-১ ব্যবধানে।
আজ রবিবার তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেটে ৩১৫ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পুরান ও পোলার্ডের ফিফটিতে লড়াই করার মতো স্কোর হয়েছিল তাদের। কিন্তু রোহিত, রাহুল ও কোহলির ফিফটিতে তা তাড়া করে ফেলে ভারত। অবশ্য ৪৭তম ওভারের প্রথম বলে কোহলি কিমো পলের বলে প্লেড অন হলে একটু অস্বস্তি তৈরি হয় ভারতীয় ড্রেসিংরুমে। তবে শার্দুল ঠাকুরকে নিয়ে ৪৮.৪ ওভারে সমাপ্তিরেখা ছুঁয়ে ফেলেন রবীন্দ্র জাদেজা।সিরিজে প্রথম ম্যাচটি জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভারতের মাটিতে বিরল এক সিরিজ জয়ের হুমকি দিয়েছিল ভারতকে।কিন্তু সতর্ক কোহলির দল তাদের সম্মানে আঁচড় পড়তে দেয়নি।
উইন্ডিজের হয়ে প্রথম উইকেটে ৫৭ রান যোগ করেন এভিন লুইস (২১) ও শাই হোপ (৪২)। লুইস ফেরার কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন হোপ। আরেকটি পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি তৈরি হয় রোস্টন চেজ ও শিমরন হেটমায়ারের ব্যাটে। ৬২ রানের এই জুটি ভাঙে হেটমায়ারের (৩৭) বিদায়ে। ইনিংসের দ্বিতীয় সেরা জুটির আরেক কারিগর চেজও (৩৮) বিদায় নেন ১২ রানের ব্যবধানে। টানা দুই ওভারে তাদের ফেরান নবদীপ সাইনি।
উইকেটে পোলার্ড ও পুরান একসঙ্গে হতেই বদলে যায় ম্যাচ। ৯৮ বলে ১৩৫ রানের ঝড়ো জুটি গড়েন তারা। ৪৩ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে পাওয়া ফিফটিকে তিন অঙ্কের ঘরে নিতে পারেননি পুরান। ৬৪ বলে ১০ চার ও ৩ ছয়ে ইনিংস সেরা ৮৯ রানে আউট হন ৪৮তম ওভারে।
৪৪ বলে হাফসেঞ্চুরি করা পোলার্ড অপরাজিত থাকেন ৭৪ রানে, তার ৫১ বলের ইনিংস সাজানো ছিল ৩ চার ও ৭ ছয়। পোলার্ড-পুরান ঝড়ে শেষ ১০ ওভারে ১১৮ রান স্কোরবোর্ডে জমা করেছিল উইন্ডিজ।
লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা দারুণ হয় ভারতের। দুই ওপেনারের ফিফটিতে ১২২ রানের জুটি গড়ে তারা। ৬৩ বলে ৮ চার ও ১ ছয়ে রোহিতকে ৬৩ রানে ফিরিয়ে এই শক্ত জুটি ভাঙেন জেসন হোল্ডার। আরেক ওপেনার রাহুল হাফসেঞ্চুরি করলেও কোহলিকে বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি। ৮৯ বলে তিনি ৭৭ রানে আউট হলে কিছুটা নড়বড়ে হয়ে পড়ে স্বাগতিকদের ব্যাটিং।
তবে একপ্রান্ত আগলে ঠিকই দলকে পথে রাখেন কোহলি। অধিনায়কের সঙ্গে রবীন্দ্র জাদেজার ৫৮ রানের জুটিটাই স্বস্তি ফেরায়। আগের দুই ম্যাচে ০ ও ৪ রান করা কোহলি ৫১ বলে ৫০ করার পর সেঞ্চুরির আভাস দিচ্ছিলেন। কিন্তু পলের বলে বোল্ড হন ৮৫ রানে, তার ৮১ বলের ইনিংসে ছিল ৯ চার।
অধিনায়ককে হারানোর পর জাদেজা ও শার্দুলের ৩০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতেই লক্ষ্য পূরণ হয় স্বাগতিকদের। ৩১ বলে ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন জাদেজা, ১৭ রানে শার্দুল।








