২০০৮ সালে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু ইমরুল কায়েসের। ক্যারিয়ারটা বেশ লম্বা হলেও জাতীয় দলে কখনোই অপরিহার্য বিবেচিত হতে পারেননি। দীর্ঘ ১১ বছর জাতীয় দলে আসা-যাওয়ার মধ্য দিয়ে কাটিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দলে থাকলেও ছিলেন না তার আগে কয়েকটি টুর্নামেন্ট ও সিরিজে। জাতীয় লিগে ভালো খেলে জায়গা করে নিয়েছিলেন ভারতের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে। কিন্তু চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ২১ রান। এই ব্যর্থতা টি-টোয়েন্টি লিগ খেলে ঘোচানোর নয়। তবু বঙ্গবন্ধু বিপিএলের প্রথম ম্যাচে সিলেট থান্ডারের বিপক্ষে ৩৮ বলে ৬১ রানের ঝড়ে যেন বলতে চেয়েছেন অতটা খারাপ ব্যাটসম্যান তিনি নন! সব মিলিয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম পর্বে মোটামুটি ভালোই গেছে ইমরুলের।
আজ বিপিএলের তৃতীয় পর্ব শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে ভারত সফরের প্রসঙ্গটি উঠেছে স্বাভাবিকভাবেই। চলমান বিপিএল ওই ব্যর্থতা কাটিয়ে রানে ফেরার একটু স্বস্তি দিয়েছে ইমরুলকে, ‘ভারত সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলিনি এটা মানতেই হবে। শুধুমাত্র আমি না, আমাদের কেউই ভালো ক্রিকেট খেলেনি। ভারতের অংশটা ওখানেই শেষ। ওটা নিয়ে চিন্তা করতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে। ওই সিরিজের ব্যর্থতা আমি ডিলিট করে দিয়েছি। বিপিএলটা নতুন করে শুরু করেছি এবং আলহামদুলিল্লাহ শুরুটা ভালো হয়েছে। সামনেও ভালো খেলার আত্মবিশ্বাসটা আছে। আসলে কখন খারাপ, কখন ভালো খেলেছি এগুলা নিয়ে চিন্তা না করে পরের ম্যাচ নিয়েই আমি ভাবছি।’
ঢাকায় প্রথম পর্বে রান সংগ্রহের দিক দিয়ে শীর্ষে ছিলেন ইমরুল। তবে চট্টগ্রামে চার ম্যাচে দুই বিদেশির দুটি ভালো ইনিংস তাকে পিছিয়ে দিয়েছে। ৭ ম্যাচে ২ হাফসেঞ্চুরিতে ইমরুলের রান ২৩৫। ইমরুলকে পঞ্চম স্থানে ঠেলে দিয়ে বিদেশি চার ক্রিকেটার নিজেদের অবস্থান সংহত করেছেন। ইমরুল অবশ্য পজিশন নিয়ে ভাবছেন না, দলের জয়ে অবদান রাখতে চান, ‘আমি আসলে কত নম্বরে আছি এটা নিয়ে চিন্তা করছি না। চিন্তা করলে হয়তো যে ম্যাচগুলোতে রান করিনি, সে ম্যাচগুলোতে ৫০ বল খেলে নিজের জন্য ৬০-৭০ রান করতে পারতাম। কিন্তু আমি চেষ্টা করছি দলের চাওয়া অনুযায়ী খেলার। এখন আমার রান কত, এটা বড় কিছু না।’
মাহমুদউল্লাহর অবর্তমানে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ইমরুল। শুক্রবার ঢাকা প্লাটুনের বিপক্ষে দিনের প্রথম ম্যাচটিতে খেলতে নামবে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। এই ম্যাচেও মাহমুদউল্লাহর খেলার সম্ভাবনা ক্ষীণই। এ প্রসঙ্গে ইমরুল জানালেন, ‘সামনের ম্যাচে পাওয়া যদি নাও যায় পরের ম্যাচগুলোতে যাবে।’
চট্টগ্রামের উইকেটে ছুটেছে রানের ফুলঝুরি। দুশোর বেশি রান উঠেছে তিনটি ম্যাচে। অন্তত ৮টি ম্যাচে ১৬০-এর বেশি রান উঠেছে। ঢাকাতেও এমন কিছুর আশা বাংলাদেশের বাঁহাতি ওপেনারের, ‘চট্টগ্রামে খুবই ভালো ব্যাটিং উইকেট ছিল। আমরা প্রথম পর্বে ঢাকায় যে ম্যাচগুলো খেলেছি খুবই ভালো উইকেট ছিল। মাঝে লম্বা সময় খেলা হয়নি এখানে। আশা করি উইকেটগুলো আগের মতোই থাকবে এবং এরকম উইকেটে টি-টোয়েন্টি খেলে ভালো লাগে। ব্যাটসম্যান, বোলার এবং দর্শক সবাই মজা পায়। আমি আশা করি আগের চেয়ে আরও ভালো উইকেট হবে।’








