উনিশ বছরে শুরু হয়ে সাতাশেই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ, ভারতীয় ক্রিকেটে বড় এক আক্ষেপ হয়ে থাকবেন ইরফান পাঠান। অবসর ঘোষণার মুহূর্তে কুমার সাঙ্গাকারাকে নিয়ে তার জীবনের এক অজানা অধ্যায় জানিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
ঘটনাটা ২০০৫ সালের ডিসেম্বরের। দিল্লি টেস্টে ভারতের প্রতিপক্ষ ছিল শ্রীলঙ্কা। ম্যাচ চলার সময় সাঙ্গাকারার সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল ইরফানের, একে অন্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন তারা।
সেই ঘটনা নিয়ে ইরফানের স্মৃতিচারণ, ‘(কুমার) সাঙ্গাকারার সঙ্গে একটি ঘটনা মনে পড়ছে। আমরা দিল্লিতে খেলছিলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে আমি ৯৩ রান করেছিলাম। (বীরেন্দর) শেবাগ চোটে পড়ায় আমাকে ওপরে পাঠানো হয়েছিল। সাঙ্গাকারা বুঝতে পারছিলেন ম্যাচটি তাদের হাত থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই তিনি আমাকে খুব নোংরা কথা বলার চেষ্টা করলেন। আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করলেন, আমিও তা করলাম। আমি তার স্ত্রীকে নিয়ে কিছু বলেছিলাম, আর তিনি বলেছিলেন আমার বাবা-মাকে নিয়ে। পরস্পরের প্রতি আমাদের আচরণ ছিল প্রচণ্ড অসহিষ্ণু।’ কথার লড়াই যা-ই হোক, মাঠের লড়াইয়ে ১৮৮ রানের জয় হয়েছিল ভারতের।
অবসরের মুহূর্তে ৩৫ বছরের ইরফানের আক্ষেপ, ‘অনেকের ক্যারিয়ার শুরু হয় সাতাশ-আঠাশে আর পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত খেলে যায় তারা। সাতাশ বছরে ৩০১টি আন্তর্জাতিক উইকেট ছিল আমার। তারপরই শেষ। এটাই আমার একমাত্র আক্ষেপ। আরও খেলতে পারলে হয়তো ৫০০-৬০০ উইকেট পেতাম, আরও রান করতে পারতাম। কিন্তু তা হয়নি।’
টেস্ট-ওয়ানডে-টি-টোয়েন্টি মিলে ২,৮২১ রান করা এই অলরাউন্ডারের বিশ্বাস, আরও সুযোগ প্রাপ্য ছিল তার, ‘ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকা ২৭ বছরের ইরফান পাঠানকে আরও সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। এ নিয়ে আমার কোনও অভিযোগ নেই, কিন্তু পেছনে তাকালে আফসোস তো হয়ই। ২০১৬ সালের পরই বুঝতে পারি (জাতীয় দলে) আর ফিরতে পারবো না। যদিও মুশতাক আলী ট্রফিতে আমিই সবচেয়ে বেশি রান করেছিলাম। নির্বাচকদের সঙ্গে কথাও বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমার বোলিং নিয়ে খুশি ছিলেন না।’








