নতুন বছরের জন্য ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বিসিবির সভায়। কেন্দ্রীয় চুক্তি ঘোষণা না করা হলেও মাশরাফি যে চুক্তিতে থাকছেন না সেটি নিশ্চিত করেছে বিসিবি। মূলত ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির অনুরোধেই তাকে রাখা হচ্ছে না কেন্দ্রীয় চুক্তিতে।
রবিবার (১২ জানুয়ারি) বোর্ড সভা শেষে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মাশরাফির সঙ্গে কথা হয়েছে। সে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তাকে না রাখতে অনুরোধ করেছে। মাশরাফি বলছিলো, আমি তো খেলার মধ্যেই আছি। আমার মতে যারা খেলছে, তাদের কাউকে এই চুক্তিতে রাখাটাই ভালো হবে।’ মাশরাফির কথা বিসিবি মেনেও নিয়েছে।
দুদিন আগে মাশরাফি সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের পারফরম্যান্স নিয়েই অসন্তোষ ব্যক্ত করেছিলেন, ‘সত্যি কথা বলতে বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচে ১ উইকেট পাওয়ার পর তো আমি দলে জায়গা প্রত্যাশা করতে পারি না! জাতীয় দলে খেলার জন্য নির্বাচনও তো একটা ব্যাপার। নির্বাচকদের সিদ্ধান্ত। নির্বাচকেরা যদি মনে করেন আমাকে সুযোগ দেবেন, আমি আমার সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। এই মুহূর্তে আমি ৮ ম্যাচে (বিশ্বকাপ) ১ উইকেট পেয়ে কীভাবে বলি আমি জাতীয় দলে সুযোগ পাবো? অন্য কেউ হলে অবশ্যই আরও আগে বাদ হতো।’
গত বছর ১২ ক্রিকেটার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকলেও এবার সংখ্যাটা বাড়তে পারে। বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আগামী ১৫ জানুয়ারি আরও একবার বোর্ডের সভা হবে। গতবার ‘এ’ প্লাস ক্যাটাগরিতে ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ। ‘এ’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন ও ইমরুল কায়েস। ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ছিলেন মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম ও লিটন দাস। এর বাইরে রুকি ক্যাটাগরিতে ছিলেন আবু হায়দার, আবু জায়েদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, নাঈম হাসান ও খালেদ আহমেদ। নিষেধাজ্ঞার জন্য সাকিব এবার চুক্তিতে নেই এবং নিজ থেকেই মাশরাফি নাম প্রত্যাহার করে নিলেন। এ অবস্থায় আরও দুজন ক্রিকেটারের এমনিতেই কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আসার কথা।
আগের নামগুলোর সঙ্গে আজ নতুন কিছু নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘আমরা আজকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তালিকায় বেশ কিছু নতুন নাম এসেছে। পুরনো নামও আছে। আমরা তালিকাটি মূল্যায়ন করে দ্রুতই এ ব্যাপারে জানাতে পারবো।’
এদিকে জাতীয় দলের ক্রিকেটাদের ম্যাচ ফি বাড়ানো হয়েছে। গত নভেম্বরে ক্রিকেটারদের ১৩ দফা আন্দোলনের একটি ছিলো এটি। ধীরে ধীরে সবগুলো দাবিই বাস্তবায়ন করছে বিসিবি।
টেস্ট ক্রিকেটে আগে ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ছিলো চার লাখ টাকা। এটা বেড়ে হলো ৬ লাখ। অন্যদিকে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে সাকিব-তামিমদের ম্যাচ ফি ছিলো দুই লাখ। এক লাখ টাকা বাড়িয়ে সেটি করা হয়েছে তিন লাখ টাকা। ক্রিকেটের সবেচেয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণে টি-টোয়েন্টির ফি বাড়ানো হয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। আগে ম্যাচ ফি ছিলো ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এখন থেকে ক্রিকেটাররা পাবেন ২ লাখ টাকা করে।








