সুপার ওভার খেলবে, আর হারবে— এটাই যেন নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ডের। বুধবার ভারতের কাছে ৬ বলের লটারিতে হারের পর বিষাদে ছেয়ে গেছে কিউই ভক্তদের মন। ‘অভিশপ্ত’ হয়ে ওঠা সুপার ওভারের জন্য তারা কাঠগড়ায় তুলতে পারেন এক ধারাভাষ্যকারকে। সুপার ওভারে তিনি ধারাভাষ্য দিলেই যে হারছে নিউজিল্যান্ড!
সত্যি তাই। সাবেক কিউই উইকেটরক্ষক ইয়ান স্মিথ অবসরের পর ধারাভাষ্যকার হিসেবে শুরু করেন নতুন ক্যারিয়ার। গত সাত মাসে নিউজিল্যান্ডের হারা তিনটি সুপার ওভারেই ধারাভাষ্য কক্ষে ছিলেন ৬২ বছর বয়সী স্মিথ। তাকে ‘কুফা’ মনে করতেই পারেন কিউই সমর্থকরা। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৬৩ টেস্ট ও ৯৮ ওয়ানডে খেলা স্মিথ নিজেও বিষয়টি আর নিতে পারছেন না। ভারতের বিপক্ষে সুপার ওভার শুরুর আগে ধারাভাষ্যে হুমকিও দিয়ে রেখেছিলেন, ৬ বলের লড়াইও ‘টাই’ হলে অবসরে যাবেন ধারাভাষ্য থেকে।
‘টাই’ হয়নি সুপার ওভার। তবে দেশের হার দেখেছেন আরেকবার। নিউজিল্যান্ডের টানা তিনটি সুপার ওভারে ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে স্মিথ নিজেও ভুগেছেন প্রচণ্ড স্নায়ুচাপে। এই অবস্থা থেকে তার মুক্তি মিলছে না। সাত মাসের বিভীষিকাময় যাত্রার শুরুটা হয়েছিল স্মিথের ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল দিয়ে। ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ হয়ে থাকা লর্ডসের ফাইনালে সুপার ওভারও হয়েছিল ‘টাই’। তবে বেশি বাউন্ডারি মারার সুবিধা নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ইংল্যান্ড।
মাসকয়েক পর সেই ইংল্যান্ডের কাছেই অকল্যান্ডের টি-টোয়েন্টিতে সুপার ওভারে হারে কিউইরা। আবারও ধারাভাষ্য কক্ষে স্মিথ! আর সবশেষ বুধবার ভারতের কাছে হারা সুপার ওভারেও মাইক্রোফোন হাতে ছিলেন সাবেক কিউই উইকেটরক্ষক। ধারাভাষ্যে থাকা স্মিথের সঙ্গে ‘কমন’ আরও তিনটি মুখ- মার্টিন গাপটিল, রস টেলর ও মিচেল স্যান্টনার।
হ্যামিল্টনের সুপার ওভার শুরুর আগে স্মিথ জানান, শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির কারণে কয়েক বছর আয়ু কমে গেছে তার। কেন উইলিয়ামসনদের কারণে আর জীবনের সময় কমাতে চান না তিনি। মাইক্রোফোন হাতে বলেছিলেন, ‘এই সুপার ওভার যদি টাই হয়, তাহলে আমি অবসরে চলে যাব। তারা আমার কয়েক বছরের আয়ু কমিয়ে দিয়েছে। যদিও এটা আমার পছন্দের। সত্যিই পরিস্থিতিটা আমি উপভোগ করি।’








