‘পাকিস্তান সিরিজের ব্যাপারে কাউকে জোর করা হবে না’- ঘোষণা দিয়েছিলেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। এর পরই আবার গত ২৯ জানুয়ারি প্রকাশ্যে পাকিস্তানে মুশফিকুর রহিমের না-যাওয়ার সিদ্ধান্তে তার সমালোচনা করেন নাজমুল হাসান! দুইদিন আগে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন চোটে ভোগা মুশফিককে ফিটনেস পরীক্ষা দিয়েই ফিরতে হবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে! তাহলে ব্যাপারটা এরকম দাঁড়াচ্ছে, বাংলাদেশের ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিক আর ‘অটোমেটিক চয়েস’ নন! মুশফিক কি তাহলে বোর্ডের রোষানলে পড়ে গেলেন, প্রশ্নটা উঠছেই।
ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে একমাত্র টেস্টে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রধান নির্বাচকের কথা অনুযায়ী মুশফিককে খেলতে হলে ফিটনেস টেস্ট দিতে হবে। দুইদিন আগে প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘মুশফিক ইনজুরিতে। ফিটনেস দিয়েই তাকে আসতে হবে। শুধু সেটাই নয়, মুশফিক পাকিস্তানে না যাওয়াতে কম্বিনেশনে ধারাবাহিকতা থাকে না। ফলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিককে রাখা নাও হতে পারে।’
অথচ বিসিবি সভাপতি বরাবরই দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যান হিসেবে মুশফিকের নাম করে এসেছেন। হঠাৎ করেই মুশফিক নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনার পাত্র হয়ে গেলেন পাকিস্তান সিরিজ না যাওয়ার কারণেই কি? ২৯ জানুয়ারি বোর্ড সভাপতির কথায় তো সেই ইঙ্গিতই পাওয়া গেছে, ‘সাকিব নিউজিল্যান্ড সফরে যায়নি। এরপরে দেখলাম তামিম দুই সিরিজ গেল না। এখন দেখলাম মুশফিক। এরকম হঠাৎ করে যদি জানি, তাহলে আমাদের জন্য দল গঠনে সমস্যা। পাকিস্তান সফরে মুশফিক যায়নি, ও তো (মুশফিক) আমাদের মূল প্লেয়ার, ওদের বিকল্প তো আমাদের তৈরি করতে হবে। তৈরি করার সুযোগ দিতে হবে। ওদের অবর্তমানেই আমাদের দলটা থিতু হতে পারছে না।’
নির্বাচক ও বিসিবি সভাপতির সঙ্গে এই একটি জায়গায় কোচ রাসেল ডমিঙ্গো একমত। তবে মুশফিককে ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে টেস্টে নেওয়ার ব্যাপারে তার কণ্ঠে আবার কূটনৈতিক উত্তর, ‘এটি (বর্তমানেরটি) একটি টেস্টের স্কোয়াড। পাকিস্তানে টেস্ট ম্যাচ খেলে এসে আমরা পর্যালোচনা করবো। আমাদের মনে রাখতে হবে মুশফিক শেষ টেস্টে (ভারতে) রান পেয়েছিলো। সেই সঙ্গে আমাদের এটাও মনে রাখতে হবে ব্যাটিংয়ে লাইনআপ বাছাই করা, একটি টেস্টের পর আবার পরিবর্তন করা, ফের তৃতীয় টেস্টেও বদলানো বেশ কষ্টের। আমি ছেলেদের নিয়মিত সুযোগ দিতে চাই। তবে আমাদের এটাও বিবেচনা করা উচিত মুশফিক ভারতে সেরা খেলোয়াড় ছিল।’
সবাই যখন দলীয় সমন্বয়ের দোহাই দিয়ে মুশফিককে জিম্বাবুয়ে টেস্টের দল থেকে বাদ রাখতে চাইছে, ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মুমিনুলকে তখন মুশফিকের পাশে, ‘মুশফিক ভাই দলের সেরা খেলোয়াড়। ফিট থাকলে তাকে দলে না রাখার তো কোনও কারণ নেই। উনি তো অটোমেটিক চয়েস। পাকিস্তান সফরে আমরা তাকে মিস করবো।’
সাকিব আল হাসানের অবর্তমানে তার পাঁচ নম্বর পজিশনে এতদিন ব্যাট করে এসেছেন মুশফিক। রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে তিনিও না থাকায় এই পজিশনে দেখা যাবে মোহাম্মদ মিঠুনকে। বিসিএলে মধ্যাঞ্চলের হয়ে শেষদিন ৮৩ রানের ইনিংস খেলেছেন। সব মিলিয়ে যদিও খুব ভালো ফর্মে নেই এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান, তবুও তার ওপর আস্থা রাখছেন ডমিঙ্গো, ‘আমি বলবো না সে খারাপ ফর্মে আছে। আমরা নির্বাচনের ধারাবাহিকতা রাখতে চাই। মিঠুন ভারতে আমাদের শেষ টেস্ট সিরিজ খেলেছে, কঠিন কন্ডিশনে সে খেলেছে। ২-১ টেস্টের পর কাউকে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। মিঠুন আরও কিছু ম্যাচ সুযোগ পাবে এবং আশা করি পাকিস্তানে ভালো ক্রিকেট খেলবে।’








