তামিমের ট্রিপল সেঞ্চুরিতে ৫৫৫ রানের সুউচ্চ পাহাড় চূড়ায় উঠে দাঁড়িয়েছিল ইসলামী ব্যাংক পূর্বাঞ্চল তৃতীয় দিনেই। ওই পাহাড় টপকে জয়ের আশা বাতুলতা। ইনিংস পরাজয়টা এড়ানোও কম চ্যালেঞ্জ ছিল না ওয়ালটন মধ্যাঞ্চলের জন্য। পূর্বাঞ্চলকে আবারও ব্যাটিংয়ে পাঠাতে অর্থাৎ ইনিংস হার বাঁচাতে আজ চতুর্থদিনে আরও ২২৭ রান করতে হতো মধ্যাঞ্চলকে। সেটি পারেনি তারা। মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তারা ৩৩৩ রানে অলআউট হয়ে হার মেনে নিয়েছে ইনিংস ও ৯ রানের ব্যবধানে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের(বিসিএল) প্রথম রাউন্ডটা এবার খুব গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হচ্ছিল পাকিস্তানে টেস্ট সফরে যাওয়ার কেবলই আগে বলে। টেস্ট দলের খেলোয়াড়দের প্রস্তুতির জন্যি এটি যে ছিল মূল্যবান। তা প্রস্তুতি ভালোই হলো খেলোয়াড়দের। তামিম ইকবাল প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পেয়েছেন তার প্রথম ট্রিপল সেঞ্চুরি। যা বাংলাদেশের মাটিতেই শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস (৩৩৪*) হয়ে গেছে। তামিমের পূর্বাঞ্চল সতীর্থ আর বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়ক মুমিনুল হক সেঞ্চুরি পেয়েছেন। আর ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছেন পূর্বাঞ্চল ও জাতীয় দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসান। সব মিলিয়েই দারুণ ব্যাপার।
৩ উইকেটে ১১৫ রানে চতুর্থদিনের খেলা শুরু করে আর ২১৮ রান তুলে অলআউট হয়েছে ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল। তাদের মূল ঘাতক নাঈম। আগের দিন ২ উইকেট ছিল নাঈমের, আজ তুলে নিয়েছেন আরও ৪ উইকেট। আজ তার প্রথম উইকেট মোহাম্মদ মিঠুন, যিনি মধ্যাঞ্চলের দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন সর্বোচ্চ ৮৩ রানের ইনিংস। এরপর মোস্তাফিজুর রহমানকে মিঠুনের মতোই ইয়াসির আলীর হাতের ক্যাচ বানিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট পেয়ে যান নাঈম। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২ রান করা তাইবুর তার ষষ্ঠ শিকার। ২৯ ওভার বোলিং করে ৮৫ রান খরচায় ৬ উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশ দলের দীর্ঘদেহী অফস্পিনার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মধ্যাঞ্চল: ২১৩ (সাইফ ৫৮, তাইবুর ৪৬; জায়েদ ২/৩৮, নাঈম ২/৪২, তাইজুল ৫/৫৮) ও ৩৩৩ (সাইফ ৩৩, নাজমুল ৫৪, মিঠুন ৮৩, তাইবুর ৬২; জায়েদ ১/৬৭, তাইজুল ২/৮২, নাঈম ৬/৮৫)
পূর্বাঞ্চল: ৫৫৫/২ ডিক্লে. (তামিম ৩৩৪*, মুমিনুল ১১১)।
ফল: পূর্বাঞ্চল ইনিংস ও ৯ রানে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: তামিম ইকবাল।








