রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে টস হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ। ৫৬ ওভারে ৬ উইকেটে তাদের রান ১৬১। ক্রিজে আছেন মোহাম্মদ মিঠুন ও তাইজুল ইসলাম।
লাঞ্চের পর মাঠে নেমে দুটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১০৭ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে মাহমুদউল্লাহ ফেরার পর লিটন দাস ও মোহাম্মদ মিঠুন প্রতিরোধ গড়েন। পঞ্চাশ রানের জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছিলেন দুই ব্যাটসম্যান। আগের ওভারেই ইয়াসির শাহের বলে ২২ রানে মিঠুনের সহজ ক্যাচ ছাড়া হারিস সোহেল বল হাতে নেন ৫৫তম ওভারে। ওই আক্ষেপ তিনি কাটান প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়ে।
খণ্ডকালীন এ বাঁহাতি স্পিনারের প্রথম ওভারেই ভাঙে প্রতিরোধ গড়া জুটি। লিটন পড়েন এলবিডাব্লিউর ফাঁদে। আম্পায়ার হারিসের আবেদনে সাড়া না দিলেও ম্যাচের দ্বিতীয় রিভিউ নিয়ে সফল হয় স্বাগতিকরা, ভাঙে ৫৪ রানের জুটি। ৪৬ বলে ৭ চারে ৩৩ রান করেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।
আসাদের দুর্দান্ত ক্যাচে মাঠছাড়া মাহমুদউল্লাহ
দ্বিতীয় সেশনের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। নাজমুল হোসেনের পর আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান মাহমুদউল্লাহ ফেরেন প্যাভিলিয়নে। দলীয় স্কোর একশ’র ঘরে নেওয়ার পর আউট তিনি। শাহীনের বলে থার্ড স্লিপে থাকা আসাদ শফিক ডানদিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন। ৪৮ বলে চারটি চারে ২৫ রানে থামেন মাহমুদউল্লাহ।
লাঞ্চের পর নেমেই আউট নাজমুল
নাজমুল হোসেন প্রথম ফিফটি থেকে আর ৬ রান দূরে ছিলেন। ৪৪ রান করে প্রথম সেশন শেষ করেন তিনি। লাঞ্চ বিরতির পর ক্রিজে নেমে আর কোনও রান যোগ করতে পারেননি। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারের শেষ বলে মোহাম্মদ আব্বাসের শিকার হন নাজমুল। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের ইনিংস ছিল ১১০ বলের। মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচ হন তিনি।
প্রথম সেশনের শুরুটা পাকিস্তানের, শেষটা বাংলাদেশের
সাইফ হাসান ও তামিম ইকবাল বিদায় নেন প্রথম ১০ বলেই। ৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন মুমিনুল হক। তাকে উপযুক্ত সঙ্গ দেন নাজমুল হোসেন। মুমিনুল ফিরে গেলেও নাজমুল দাঁত কামড়ে পড়ে ছিলেন ক্রিজে। প্রথম হাফসেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে থাকতে লাঞ্চে যান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ১০৪ বলে ৬ চারে ৪৪ রান ছিল তার। অন্য প্রান্তে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন মাহমুদউল্লাহ।
প্রথম সেশনের শুরুটা ছিল পাকিস্তানের। প্রথম ২ ওভারে তারা বিদায় করে দুই ওপেনারকে। শাহীন শাহ আফ্রিদি বলে আসাদ শফিককে ক্যাচ দেন সাইফ হাসান। মাত্র ২ বল খেলে ‘ডাক’ মারেন তিনি। অথচ ম্যাচটা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ছিল। পরের ওভারে তামিমও আউট হন। মোহাম্মদ আব্বাসের এলবিডাব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার নাইজেল ডি লং সাড়া না দিলে পাকিস্তান রিভিউ নেয়। গত সপ্তাহে পূর্বাঞ্চলের হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে অপরাজিত ৩৩৪ রান করা তামিম মাত্র ৩ রানে বিদায় নেন।
দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশকে উদ্ধার করেন মুমিনুল ও নাজমুল। পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল সফরকারীরা। কিন্তু শাহীন তাদের বিচ্ছিন্ন করেন। ৫৯ রানের জুটি গড়ে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের ক্যাচ হন মুমিনুল। ৫৯ বলে ৫ চারে ৩০ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এরপর নাজমুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যান মাহমুদউল্লাহ। ৩ উইকেটে ৯৫ রানে লাঞ্চে যায় সফরকারীরা। তাতে প্রথম সেশন শেষে ঘুরে দাঁড়ানো বাংলাদেশকে দেখা গেছে।
বাংলাদেশ: মুমিনুল হক (অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন, মোহাম্মদ মিঠুন, মাহমুদউল্লাহ, লিটন দাস (উইকেটকিপার), তাইজুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ, ইবাদত হোসেন।
পাকিস্তান: আজহার আলী (অধিনায়ক), শান মাসুদ, আবিদ আলী, বাবর আজম, হারিস সোহেল, আসাদ শফিক, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটকিপার), ইয়াসির শাহ, মোহাম্মদ আব্বাস, নাসিম শাহ, শাহীন আফ্রিদি।








