দশ নম্বরে নেমে ২৪ বলে অপরাজিত ২৫ রান, এরপর দুটো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদান রেখে ম্যান অব দ্য ম্যাচ। এর চেয়ে উজ্জ্বল অভিষেক আর কী হতে পারে! দ্বিতীয় ওয়ানডেতে কাইল জেমিসনের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে পরাস্ত ভারত। ২২ রানের জয়ে ২-০তে এগিয়ে রইলো নিউজিল্যান্ড, নিশ্চিত হলো তিন ম্যাচের সিরিজও।
পেটের পীড়া ম্যাচের আগেই কেড়ে নিয়েছে মিচেল স্যান্টনারকে। একই কারণে টিম সাউদির খেলা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। সাউদি অবশ্য মাঠে নেমেছেন শেষ পর্যন্ত, বিরাট কোহলি আর কেদার যাদবের উইকেট নিয়ে দলের জয়ে অবদানও রেখেছেন।
অকল্যান্ডের ইডেন পার্কে টস হেরে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছিল কিউইরা। কিন্তু ৩০তম ওভারে মার্টিন গাপটিল (৭৯) দ্রুত সিঙ্গেল নিতে গিয়ে রান আউট হলে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে স্বাগতিকরা। দেখতে দেখতে ১৫৭/২ থেকে স্কোর হয়ে যায় ১৯৭/৮।
এরপরই জেমিসনকে নিয়ে রস টেলরের পাল্টা আক্রমণ শুরু। আগের ম্যাচে ঝড়ো সেঞ্চুরিতে ৩৪৭ তাড়া করে জয় এনে দেওয়া টেলর আবার নিউজিল্যান্ডের ত্রাতা। জেমিসনের অবদানও কম নয়। তার মতো টেলরকেও আউট করতে পারেনি ভারতীয়রা। কিউইদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ৭৪ বলে অপরাজিত ছিলেন ৭৩ রানে। টেলর-জেমিসনের ৫১ বলে ৭৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি স্বাগতিকদের এনে দিয়েছে লড়াই করার মতো সংগ্রহ।
ভারতের শুরুটা ভালো হয়নি। প্রথম ম্যাচের অন্য সেঞ্চুরিয়ান শ্রেয়াস আইয়ার প্রতিরোধ গড়লেও অন্য প্রান্ত থেকে সহযোগিতা পাননি। একসময় স্কোর হয়ে যায় ৯৬/৫।
রবীন্দ্র জাদেজার সঙ্গে আইয়ার বড় একটা জুটি গড়ার চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। ফিফটি করেই বিদায় নিয়েছেন আইয়ার (৫২), ভেঙে গেছে জাদেজার সঙ্গে তার ৩৩ রানের জুটি। একটু পর শার্দূল ঠাকুর বিদায় নিলে সফরকারীরা পরিণত হয় ৭ উইকেটে ১৫৩ রানে।
কিন্তু জাদেজা হার মানেননি, নবদীপ সাইনিকে নিয়ে আশার দীপ জ্বেলে রেখেছিলেন। দুজনের ৭৬ রানের জুটিতে লড়াইয়ে ছিল ভারত। ৩৬ বলে প্রয়োজন ৫২ রান, ম্যাচে তখন দু দলেরই সমান সুযোগ।
জেমিসনের করা ৪৫তম ওভারে সাইনি ছক্কা মেরে আরও দুশ্চিন্তায় ফেলে দেন কিউইদের। পরের বলেই অবশ্য জেমিসন প্রতিশোধ নিয়েছেন সাইনিকে (৪৫) বোল্ড করে। তবু জাদেজাকে নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিল ভারত। কিন্তু দলকে জয়ের তীরে নিয়ে যেতে পারেননি বাঁহাতি অলরাউন্ডার। ১০ বলে প্রয়োজন ২৩, এমন সমীকরণের সামনে দাঁড়িয়ে ছক্কা মারতে গিয়ে লং-অফে ধরা পড়েছেন জাদেজা। ফিফটি করেও তাকে ফিরতে হয়েছে ম্যাচ আর সিরিজ হারের দুঃখ নিয়ে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ৫০ ওভারে ২৭৩/৮ (গাপটিল ৭৯, নিকোলস ৪১, ব্লান্ডেল ২২, টেলর ৭৩*, ল্যাথাম ৭, নিশাম ৩, গ্র্যান্ডহোম ৫, চ্যাপম্যান ১, সাউদি ৩, জেমিসন ২৫*; চাহাল ৩/৫৮, শার্দূল ২/৬০, জাদেজা ১/৩৫)
ভারত: ৪৮.৩ ওভারে ২৫১ (পৃথ্বী ২৪, আগারওয়াল ৩, কোহলি ১৫, আইয়ার ৫২, রাহুল ৪, যাদব ৯, জাদেজা ৫৫, শার্দূল ১৮, সাইনি ৪৫, চাহাল ১০, বুমরা ০*; সাউদি ২/৪১, জেমিসন ২/৪২, গ্র্যান্ডহোম ২/৫৪, বেনেট ২/৫৮, নিশাম ১/৫২)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: কাইল জেমিসন
ফল: নিউজিল্যান্ড ২২ রানে জয়ী।








