২০১৬ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগসহ (বিপিএল) একাধিক ম্যাচ ফিক্সিংয়ের চেষ্টায় পাকিস্তানের এক সাবেক ক্রিকেটারসহ তিনজনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের আদালত।
ব্রিটেনের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির (এনসিএ) তদন্তে সব দোষ স্বীকার করেছেন ৩৩ বছর বয়সী সাবেক খেলোয়াড় নাসির জামশেদ এবং দুই ব্রিটিশ ইউসুফ আনোয়ার ও মোহাম্মদ ইজাজ। ম্যানচেস্টার ক্রাউন কোর্ট জামশেদকে ১৭ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন। আনোয়ারের কারাদণ্ড হয়েছে ৩ বছর ৪ মাস এবং ইজাজের আড়াই বছরের।
এনসিএর সিনিয়র তদন্ত কর্মকর্তা ইয়ান ম্যাককোনেল বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পেশাদারিত্বের সুযোগ নিয়ে এই লোকগুলো খেলাকে কলঙ্কিত করতে চেয়েছিল। এই তদন্তে সমর্থন দেওয়ার জন্য ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল, গ্যাম্বলিং কমিশন ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই।’
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০১৬ সালের বিপিএল টি-টোয়েন্টিতে একটি চক্র ম্যাচ পাতানোর চেষ্টা করেছিল। ওই ম্যাচে জামশেদের দুটি ডট বল খেলার কথা থাকলেও কোনও কারণে সেটা বাতিল হয়। এছাড়া ম্যাচ ফিক্সিংয়ে রাজি করানোর মতো একজন খেলোয়াড়কে খুঁজছিলেন আনোয়ার ও ইজাজ, যিনি ম্যাচ পাতানোর সংকেত দেবেন খেলার শুরুতেই। প্রত্যেক ফিক্সিংয়ের জন্য ৩০ হাজার গ্রেট ব্রিটেন পাউন্ড ধরা হয়েছিল, যার অর্ধেক পাওয়ার কথা ছিল খেলোয়াড়ের।
পরের বছর ওই তিনজন পাকিস্তান সুপার লিগেও (পিএসএল) ম্যাচ পাতানোর পরিকল্পনা করে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনোয়ার দুবাইতে গিয়ে দেখা করেন ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের দুই খেলোয়াড় খালিদ লতিফ ও শারজিল খানের সঙ্গে। জামশেদের প্ররোচনায় তারা ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সম্মতি দেন।
তাদের সঙ্গে দেখা করার আগে সিসিটিভিতে সেন্ট আলবানসের একটি পাইকারী বাজার থেকে ২৮টি ভিন্ন রঙয়ের ক্রিকেট ব্যাটের হ্যান্ডেল গ্রিপ কিনতে দেখা যায় আনোয়ারকে। মূল্যতালিকায় ইজাজের নাম ও ঠিকানা দেন তিনি। ম্যাচ পাতানো নিশ্চিতের সংকেত দিতে ওই গ্রিপগুলো কেনা হয়।
দুবাইয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি পেশাওয়ার জালমির সঙ্গে ইসলামাবাদের ম্যাচের দিন শারজিল পরিকল্পনামতো সংকেত দেন, ফিক্সিং হবে। কথামতো দ্বিতীয় ওভারের প্রথম দুই বল ডট দেন, এরপর তৃতীয় বলে এলবিডাব্লিউ হন তিনি।
চার দিন পর বার্মিংহামের বাসা থেকে জামশেদকে গ্রেফতার করেন এনসিএ কর্মকর্তারা। দুবাই থেকে ফিরে হিথ্রো বিমানবন্দরে আটক হন আনোয়ার। ১০ দিন পর শেফিল্ডের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় ইজাজকে। ২০১৮ সালে ট্রাইব্যুনালে শুনানি শেষে জামশেদ, লতিফ, শারজিল ও মোহাম্মদ ইরফানকে নিষিদ্ধ করে পিসিবি। দুর্নীতি দমন ইউনিটের তদন্ত শেষে জামশেদকে ১০ বছরের জন্য ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়। শারজিলের নিষেধাজ্ঞা ৫ বছরের।








