বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আনন্দে যেন আত্মহারা হয়ে উঠেছে পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম নগরডাঙ্গা। বিশ্বকাপজয়ী দলের বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামের বাড়ি এই গ্রামেই। কালকের খেলায় জয়ী হওয়ার পর থেকে এলাকাবাসীর আনন্দে শামিল হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন। দিনভর চলছে মিষ্টিমুখ আর আনন্দ-উল্লাস।
আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রত্যয় হাসান, দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল মালেক চিশতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক চেয়ারম্যান হাসনাৎজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা আবু বক্কর ছিদ্দিকসহ বিশিষ্টজনেরা শরিফুলদের বাড়িতে যান। তারা শরিফুলের বাবা-মা, পরিবারের সদস্যসহ এলাকাবাসীকে মিষ্টিমুখ করান। বাংলাদেশ দলের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবর পেয়ে সকাল থেকে লোকজন ভিড় করছেন।
পেসার শরিফুলের বাবা দুলাল মিয়া জানান, আর্থিক সংকটের কারণে এক সময় সপরিবারে ঢাকার সাভারের জিরানী বাজারে চলে যান। ওখানে রিক্সা চালাতেন। শরিফুল জিরানীবাজার গোহালবাড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে। ২০১০ সালের দিকে গ্রামে ফিরে আসেন। শরিফুল ছোটবেলা থেকেই স্কুল ফাঁকি দিয়ে এখানে সেখানে ক্রিকেট খেলতো। ক্রিকেটের প্রতি তার খুবই ঝোঁক ছিল। শরিফুলের বড় ভাই আশরাফুল গ্রামে গরুর খামার দিয়েছেন। বড় বোন দুলালী দেবীগঞ্জ মহিলা কলেজে এইচএসসি পড়ছেন। ছোট বোন শম্পা কালিগঞ্জ এমপি উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে পড়ে।
শরিফুলের বোন দুলালী জানান, তার ক্রিকেট পাগল ভাই লেখাপড়ার চেয়ে বেশি ক্রিকেট খেলতো বেশি।
শরিফুলের মা বুলবুলি বেগম জানান, আমাদের সাড়ে ১৯ শতক জমি ছাড়া আর কিছুই নেই। ছেলে আমার ক্রিকেট খেলে যা আয় করতো তার সবই অসহায় পরিবারের জন্য ব্যয় করতো। বিপিএলের সাড়ে ৫ লাখ, শাইন পুকুরের সাড়ে ৭ লাখ টাকা দিয়ে বাড়ি ও একটি খামার তৈরি করে দেন। এই খামার দিয়েই আমাদের সংসার চলছে। দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন বিজয় চত্বরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের খেলা দেখার ব্যবস্থা করে। দর্শকেরা খেলা উপভোগ করেন এবং বিজয়োল্লাস করেন।








