গত বিশ্বকাপ থেকেই তামিমের ব্যাটিং নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হচ্ছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের পর ১২ ইনিংসে ৬৭.৭৯ গড়ে ব্যাটিং করেছেন তামিম। রান যাই করুন না কেন, দর্শকের চোখে খারাপ লাগছে তার ব্যাটিংয়ের ধরন। ৫৫.৫৫ স্ট্রাইরেটে ব্যাটিং করেছেন তামিম। আধুনিক ক্রিকেটের সঙ্গে যা বেশ বেমানান। তবে ব্যাটিং কোচ নিল ম্যাকেঞ্জি তামিমকে ‘ব্যর্থ’ বলতে নারাজ।
রবিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ২৪ রানের ইনিংস খেলে দৃষ্টিকটুভাবে আউট হয়েছেন তামিম। কিন্তু ম্যাকেঞ্জি তামিমের কোনও দায় দেখেন না।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দলের ঐচ্ছিক অনুশীলন শুরুর আগে আজ সোমবার ম্যাকেঞ্জি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি না, সে (তামিম) দিনের পর দিন ব্যর্থ হয়ে আসছে। সে একজন ক্লাস প্লেয়ার এটা জানতে আপনাকে ওর রেকর্ডের দিকে তাকাতে হবে। আপনারা বলছেন দিনের পর দিনও ব্যর্থ হচ্ছে এটি ঠিক নয়। আমরা জানি সে কত রান করেছে। কয়েকটি ম্যাচে সে খেলার বাইরে ছিল। তার মধ্যে রানের ক্ষুধা দেখেছি আমি। তামিমকে নিয়ে আমি চিন্তিত নই।’
ছন্দে ফিরতে তামিমের খুব বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করেন ম্যাকেঞ্জি, ‘তার (তামিম) কোয়ালিটির একজন ব্যাটসম্যানের জন্য রানে ফেরাটা সময়ের ব্যাপার মাত্র। ম্যাচের বাইরে সে কিছু সময় কাটিয়েছে। সে এখন দারুণভাবে ফিরেছে। তার মানসিক অবস্থাও এখন বেশ ভালো। অনুশীলনে দুর্দান্ত সময় কাটাচ্ছে। তামিমকে নিয়ে সত্যি বলতে আমার কোনও চিন্তা নেই।’
বাজে পারফরম্যান্স করলে সংবাদমাধ্যম খেলোয়াড়দের সমালোচনা করবেই। তবে এই সমালোচনাই নাকি বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেরা পারফরম্যান্স বের করে আনার ক্ষেত্রে। ম্যাকেঞ্জির মতে, ‘খেলোয়াড়দের বাজে পারফরম্যান্সের পেছনে মিডিয়া ভূমিকা রাখছে। মিডিয়ার কারণেই তারা চাপে থাকে। বাংলাদেশে মিডিয়া অসংখ্য যারা কিনা প্লেয়ারদের চাপে রাখে। ফলে পারফরম্যান্স যেমন হওয়ার কথা, তারা করতে পারে না। আপনি তামিমের রেকর্ডের দিকে তাকান এবং তাকে খেলতে দিন।’
তামিমকে সেরা ছন্দে পেতে সমালোচনা বাদ দিয়ে আরও সুযোগ দেওয়ার পক্ষে ম্যাকেঞ্জি, ‘কখনও কখনও একজন খেলোয়াড়কে বেনিফিট অব ডাউট দেয়া উচিত। আপনারা রেকর্ড দেখুন, বুঝতে পারবেন সে (তামিম) বাংলাদেশের জন্য কত ভালো একজন ব্যাটসম্যান। তাকে খেলতে দিন।’
তামিমের ব্যাটিংয়ের ধরন নিয়ে প্রশ্নটাই বেশি। এমন এক প্রশ্নের জবাবে ম্যাকেঞ্জি বলেছেন, ‘আমরা শিক্ষক নই যে সবাইকে ধরে ধরে দেখাতে হবে। সে (তামিম) তার ম্যাচের পরিকল্পনা ভালো করেই জানে। আমরা এখানে স্কুলের শিক্ষক নই। আমরা কাউকে বলে দিতে পারি না তাকে কী করতে হবে। আমরা মতামত দিই, উপদেশ দিই এবং একটি ভাবনা দিয়ে দিই। এরপর সবকিছুই খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করে। আমরা কোনও তরুণ ক্রিকেটার নিয়ে কথা বলছি না, কথা বলছি একজন সিনিয়র খেলোয়াড়কে নিয়ে।’








