তামিম ইকবাল বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ওপেনার। বড় ভাই নাফিস ইকবালও জাতীয় দলে খেলেছেন সুনামের সঙ্গে। কিন্তু দুই ভাইয়ের একসঙ্গে খেলা হয়নি কোনও আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এই দুজনকেই খুব কাছ থেকে দেখেছেন সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। সোমবার মধ্যরাতের আড্ডায় বড় ভাইয়ের অবদানের কথা তামিমকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মাশরাফি।
বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নাফিসের সঙ্গে খেলা মাশরাফি আন্তর্জাতিক আঙিনাতেও বেশ কিছু ম্যাচ খেলেছেন একসঙ্গে। খুব কাছ থেকেই মাশরাফি দেখেছেন নাফিসকে। ছোট ভাই তামিমের প্রতি কতটা ভালোবাসা ছিল নাফিসের, সেটাই রাতের আড্ডাতে উঠে এসেছে।
মাশরাফির কাছে তামিমের প্রশ্ন ছিল, ‘আপনি আমাকে প্রথম কবে দেখেছিলেন, মনে আছে?’ খুব সহজেই মাশরাফি জানিয়ে দিলেন সেই দিনের কথাগুলো। প্রসঙ্গক্রমে উঠে এলো নাফিসের অবদানের কথাও।
মাশরাফি বলেছেন, ‘তোর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা, তুই হাফ প্যান্ট আর স্যান্ডো গেঞ্জি পরা। আমি আর তোর ভাই নাফিস (ইকবাল) তো বন্ধু, চট্টগ্রামে টেস্ট ম্যাচের সময় গিয়েছিলাম। দেখলাম তুই আরও দুই-তিনজন বন্ধুর সঙ্গে গাড়ি নিয়ে খেলছিস। আমার-তোর বাচ্চারা এখন যেমন খেলে গাড়ি নিয়ে।’
একটু থেমে মাশরাফি বলে চলেন, ‘‘আমি বললাম, ‘ভাইয়া তুমি ভালো আছো?’, তুই বললি, ‘জ্বি ভাইয়া’, সেটা বলতেও লজ্জা পাচ্ছিলি। সেই তামিম এখন বাংলাদেশের অধিনায়ক... নাইস টু সি!”
খানিক পড়েই মাশরাফি নিজ থেকেই নাফিসের অবদানের কথা তুলে ধরলেন, ‘একটা কথা বলি, তোর আজকে এই পর্যায়ে আসার পেছনে তোর ভাইয়ের অবদান সবচেয়ে বেশি। তোর বাবা তো অন্যরকম মানুষ ছিলেন, তোর মা, চাচারা, যে যেটাই বলুক, তোর ভাইকে তো আমি কাছ থেকে দেখেছি, নাফিস তোর জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা অবিশ্বাস্য।”
তামিম-নাফিসের বাবা ইকবাল খান মারা যান ২০০০ সালে। ১৫ বছর বয়সী নাফিসের কাঁধেই দায়িত্ব পড়ে। বাবার অনুপস্থিতিতে ভাইকে কতটা আগলে রাখতেন নাফিস সেটাই জানালেন মাশরাফি, “বাবা মারা যাওয়ার পর তোর মা সংসার সামলেছে। কিন্তু তোর জন্য তোর ভাই যা করেছে, আমরা জানি। মনে আছে, এক পেন্সের বার্গার খেতো নাফিস। আমি একদিন ওকে বলেছিলাম, ‘তুই যদি শরীরে না দিস, তাহলে বাঁচবি কিভাবে আর খেলবি কিভাবে?’ ও কিন্তু তোর জন্যই সব করতো। তুই যেন একটা ভালো ব্যাট দিয়ে খেলতে পারিস।”








