বঙ্গবন্ধু বিপিএলে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জোর্সের হয়ে ছন্দময় বোলিংয়ে মাঠ মাতিয়েছিলেন মেহেদী হাসান রানা। একটা সময় উইকেট শিকারের তালিকার শীর্ষে ছিলেন বাঁহাতি পেসার। দল বাদ না পড়লে আরও কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ হতো। শেষ পর্যন্ত ১০ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিয়ে ছয় নম্বরে ছিলেন মেহেদী। সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি মোস্তাফিজুর রহমানের চেয়ে ছিল মাত্র ২ উইকেট কম। বিপিএলের পর প্রিমিয়ার লিগের একটি মাত্র ম্যাচ খেলে ৫৫ রানে নেন ৪ উইকেট। এমন ফর্মে থাকার পর ক্রিকেটের বাইরে থাকাটা যেকোনও ক্রিকেটারের জন্যই দুর্ভাগ্য।
মেহেদী অবশ্য হতাশ নন। অতীত নিয়ে না ভেবে ভবিষ্যতে চোখ রাখছেন এই পেসার। লম্বা সময় ঘরবন্দি থেকে কয়েক সপ্তাহ আগে ফিরেছেন মাঠে। কঠোর অনুশীলন করছেন মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। দীর্ঘ বিরতি কিছুটা ব্যাঘাত ঘটালেও মেহেদী তা পুষিয়ে নিতে চান, ‘লকডাউনে খেলা ছিল না, বাসায় যতটুকু পেরেছি করেছি। এখন মাঠে এসে নিজেকে ফিরে পেতে যতটুকু কাজ করার করছি। আর ফিটনেসটা এখন আল্লাহর রহমতে ভালো অবস্থানে আছে, সামনে আরও কয়েকটা সেশন করলে আরও উন্নতি হবে। যা চলে গেছে, সেটা নিয়ে হতাশ হয়ে লাভ নেই। প্রস্তুতিটা ভালো নিতে পারলে আবারও ভালো করা সম্ভব।’
লম্বা বিরতির পর ভেরিয়েশন ও সুইং নিয়েই বেশি কাজ করছেন মেহেদী, ‘বিপিএলের পরে অনেক বড় একটা ব্রেক ছিল। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ফিটনেস ফিরে পাওয়ার কাজ চলছে, বোলিং নিয়েও কাজ করছি। সাদা বলেও করছি, লাল বলেও করছি। সাদা বলে ভেরিয়েশন, সুইং নিয়ে কাজ করছি। সবকিছু আল্লাহর রহমতে ভালো হচ্ছে।’
বিপিএল ও প্রিমিয়ার লিগে যেভাবে বোলিং করেছিলেন, সেই ছন্দ ফিরে আসছে বলেও জানালেন এই পেসার, ‘ব্যাটসম্যানদের প্রতিদিনই বল করছি সেন্টার উইকেটে। আবার আগের ছন্দে ফিরে আসছে। আমি নিজেও উন্নতি করছি; মোস্তাফিজ, শফিউল ভাই সিনিয়র যারা আছেন, তাদের সবারই উন্নতি হচ্ছে।’
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে মোস্তাফিজের বিকল্প ভাবা হয় মেহেদীকে। মোস্তাফিজের মতো কার্যকরী ‘কাটার’ আছে তার বোলিংয়ে। অবশ্য সাদা ও লাল বলের মধ্যে মেহেদীর বিশেষ কোনও পছন্দ নেই। সব ফরম্যাটের জন্যই তৈরি হচ্ছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সামনে। এই সিরিজে সুযোগ না হলেও ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন মেহেদী, ‘সাদা বল, লাল বল ফ্যাক্ট না। যেখানেই সুযোগ পাই... দুই জায়গাতেই একইভাবে ভালো করার চেষ্টা থাকবে। যদি এখানে (শ্রীলঙ্কা সফর) সুযোগ না হয়, সামনে যেকোনও খেলায়- প্রথম শ্রেণি বা অন্য কিছু বিসিবি আয়োজন করে, সেজন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখছি।’








