ভেস্তে গেছে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর। কোয়ারেন্টিন জটিলতায় লম্বা আলোচনার পর স্থগিত হয়ে যায় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে চাইলেও দ্বীপ দেশটির কড়া ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এখন নতুন করে আশায় বুক বাঁধছে তারা আগামী বছরকে লক্ষ্য বানিয়ে। ইংল্যান্ডকে আতিথ্য দিতে চায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। দলটির কোচ মিকি আর্থার জানিয়েছেন, ইংলিশদের বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজ আয়োজনে প্রস্তুত শ্রীলঙ্কা।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লঙ্কানদের সিরিজটি হওয়ার কথা ছিল গত মার্চে। জো রুটরা শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার পরও করোনাভাইরাসের কারণে সেটি স্থগিত হয়ে যায়। নতুন করে সামনের বছরের জানুয়ারিতে ইংল্যান্ডকে দেশে আনার পরিকল্পনা এসএলসির। তেমনটাই জানিয়েছেন কোচ আর্থার। ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর শেষ করে জানুয়ারিতে দেশের মাটিতে খেলতে চায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
বার্তা সংস্থা পিএকে আর্থার বলেছেন, ‘আশা করছি, ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার (মাঠের) সিরিজ এবং এখানে (শ্রীলঙ্কা) ইংল্যান্ড সিরিজ দিয়ে ২০২১ সালের ব্যস্ত সূচি শুরু করতে পারবো। আমি সত্যি ইতিবাচক। আমাদের এখন ক্রিকেটে ফেরাটা জরুরি। এখানে শ্রীলঙ্কায় খেলা চালিয়ে নিতে শক্তিশালী ব্যবস্থা রয়েছে।’
শ্রীলঙ্কা সরকারের প্রশংসাও ঝরেছে দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের কণ্ঠে, ‘সরকার দারুণ কাজ করেছে। এখন আমরা বাইরে যেতে পারছি, রেস্টুরেন্টে খেতে পারছি। শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই।’
আবার সরকারের কড়াকড়ির কারণেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরতে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফর করার কথা ছিল। এমনকি প্রথম টেস্টের সূচিও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ১৪ দিন কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করার সঙ্গে মুমিনুল-মুশফিকদের অনুশীলনের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল শ্রীলঙ্কা সরকার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কঠিন এই শর্তে রাজি না হয়ে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি।
যদিও ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) একই ধরনের শর্ত দেওয়ার সম্ভাবনা কম। স্কাই স্পোর্টসের খবর, শর্ত শিথিল করে ডাম্বুলায় দুই সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে ‘রিমোট স্টেডিয়ামের’ ব্যবস্থার মাধ্যমে জো রুটদের অনুশীলনের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
লম্বা সময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইরে শ্রীলঙ্কা। ৬ মার্চ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলা টি-টোয়েন্টি তাদের সর্বশেষ ম্যাচ। অন্যদিকে জৈব সুরক্ষার মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের পুরোটা শেষ করেছে ইংল্যান্ড। এই সময়ে ইসিবি আতিথ্য দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, আয়ারল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়াকে।
শ্রীলঙ্কায় করোনা পরিস্থিতি ভালো থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে পারেনি। অনেকদিন ধরে ক্রিকেটাররা অনুশীলনেও আছেন। আশা ছিল, বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে ২২ গজে নামতে পারবেন তারা। শেষ পর্যন্ত সিরিজটি আরেক দফা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় হতাশ আর্থার, ‘বাংলাদেশের সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ায় আমরা সত্যি খুব হতাশ হয়েছি। আমরা চার মাস ধরে অনুশীলন করছি, খেলোয়াড়রাও সবাই প্রস্তুত।’








