বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টিতে চলছিল বোলারদের দাপট। কুড়ি ওভারের ফরম্যাটে ব্যাটসম্যানরা ব্যর্থ হওয়ায় প্রতিযোগিতাটি সেভাবে আকর্ষণ করতে পারছিল না দর্শকদের। সব আয়োজন জমা ছিল সম্ভবত ফরচুন বরিশাল-মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী ম্যাচে। এক ম্যাচেই যে দেখা মিললো দুই সেঞ্চুরির! প্রতিযোগিতাটির প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তাতেও অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি রাজশাহীর। পারভেজ হোসেন ইমনের বিধ্বংসী ইনিংসে ম্লান শান্তর ইনিংস। যুব বিশ্বকাপজয়ী ব্যাটসম্যানের সেঞ্চুরিতে বরিশাল পেয়েছে ৮ উইকেটের বিশাল জয়।
অবিশ্বাস্য, অসাধারণ এক জয়। শান্তর ৫৫ বলে খেলা ১০৯ রানের ঝড়ো ইনিংসে রাজশাহী ৭ উইকেট হারিয়ে স্কোরে ২২০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। কঠিন এই লক্ষ্য ইমনের ৪২ বলে হার না মানা ১০০ রানের টর্নেডো ইনিংসে ১১ বল হাতে রেখে ২ উইকেট হারিয়ে টপকে যায় বরিশাল। ৮ উইকেটের অসাধারণ জয়ের পরও ৪ পয়েন্ট নিয়ে এখনও তালিকার তলানিতে তামিমরা।
আজ (মঙ্গলবার) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে ২২০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল রাজশাহী। জবাবে শুরুটা দারুণ করে বরিশালের দুই ওপেনার। দলীয় ৪৪ রানে ফিরে যান সাইফ হাসান। যাওয়ার আগে ১৫ বলে ২৭ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। দ্বিতীয় উইকেটে ইমনকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক তামিম ঝড় তোলেন। ৩৭ বলে ৫৩ রান করে তামিমের ঝড় থামলেও থামেননি ইমন। দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হওয়ার আগে তামিম ৫ চার ও ১ ছক্কায় নিজের ইনিংসটি সাজান।
অন্যদিকে আফিফকে সঙ্গী করে ইমনের ঝড় চলতেই থাকে। ইনিংসের ১১ বল আগে ইমনের হাত থেকেই জয়সূচক রান আসে বরিশালের। ততক্ষণে ইমন ৪২ বলে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরির জায়গাটি দখলে নেন। ৯ চার ও ৭ ছক্কায় অপরাজিত ১০০ রানে ইমন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি সাজিয়েছেন। অন্যপ্রান্তে ১৬ বলে ২৬ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ হোসেন।
রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে ৪০ রান খরচায় ১ উইকেট নিয়েছেন সাইফউদ্দিন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিং করা রাজশাহী দুর্দান্ত শুরু করেছিল। দুই ওপেনার আনিসুল ইসমান ইমন ও শান্তর দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে বরিশালের বিপক্ষে ২২০ রানের স্কোর গড়ে রাজশাহী। দুই ওপেনারের দারুণ শুরুতে ১২ ওভারেই ১৩১ রান জমা করে স্কোরবোর্ডে। ৩৯ বলে ৬৯ রান করার পথে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরির দেখা পান আনিসুল। ৭ চার ও ৩ ছক্কায় আনিসুল নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন।
তার বিদায়ের পর তিন নম্বরে নামা রনি তালুকদার শুরু থেকেই ছিলেন আক্রমণাত্মক। ১২ বলে ২ ছক্কায় ১৮ রান করে আউট হন তিনি। রনির বিদায়ের পর দ্রুত ফিরে যান মোহাম্মদ আশরাফুলের জায়গায় ব্যাটিং করা মেহেদী হাসান। আগের ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে সব আলো নিজের দিকে টেনে নেন নাজমুল।
টুর্নামেন্টের প্রথম সেঞ্চুরি এসেছে বাঁহাতি এই ওপেনারের ব্যাট থেকে। ৫২ বলে ৪ চার ও ১০ ছক্কায় নাজমুল টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ১১ ছক্কা ও ৪ বাউন্ডারিতে থামেন ১০৯ রানে। কামরুল ইসলামের বলে কভারে তামিমের তালুবন্দী হন তিনি।
বরিশালের কামরুল ইসমলাম ৯ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে ৪ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন এই পেসার। এছাড়া ৪৩ রান খরচায় সুমন খান নেন ২ উইকেট।








