তরুণ দল নিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের শুরুটা দারুণ করেছিল মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী। টানা দুই ম্যাচ জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যাওয়া রাজশাহীর ভাগ্য এখন ঝুলছে সুতোয়। প্লে-অফ খেলতে ফরচুন বরিশালের হার প্রার্থনা করা ছাড়া কোনও পথ নেই নাজমুল হোসেন শান্তদের। আজ (শনিবার) গাজী গ্রুপ চট্টগ্রামের বিপক্ষে ৩৬ রানে হেরে সমীকরণ কঠিন করে তুলেছে রাজশাহী। অথচ জিতলেই তারা চলে যেত প্লে-অফে।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সৌম্য সরকার ও লিটন দাসের ব্যাটে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় চট্টগ্রাম। জবাবে নাহিদুল ইসলামের ঘূর্ণির সামনে ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩৯ রান করতে পারে রাজশাহী। ৮ ম্যাচ শেষে তারা ৪ পয়েন্ট নিয়ে আছেনৎ পঞ্চম স্থানে। বরিশালের সমান পয়েন্ট থাকলেও নেট রানরেটে এগিয়ে থেকে রয়েছে চতুর্থ স্থানে। এখন তামিম ইকবালরা শেষ ম্যাচে বাজেভাবে হারলেই কেবল প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনা জাগবে রাজশাহীর।
ম্যাচ জিততে যেমন শুরুর প্রয়োজন ছিল, তেমনটা করতে পারেনি রাজশাহী। দলীয় ২৩ রানে দুই ওপেনার বিদায় নিলে চাপে পড়ে রাজশাহী। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান শান্ত ১১ রানে বিদায় নেন। সঙ্গীকে হারিয়ে ফিরে যান আনিসুল ইসলামও (৫)। তৃতীয় উইকেটে রনি তালুকদার ও ফজলে মাহমুদ মিলে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা চালান। কিন্তু নাহিদুলের ঘূর্ণিতে রনি ১৪ বলে ১৬ রান তুলে ফিরে যান। এরপর নুরুল হাসানকে নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যান ফজলে মাহমুদ। ২ চারে ২০ বলে ১৯ রান করা ফজলে মাহমুদ আরেক স্পিনার রাকিবুলের শিকারে পরিণত হলে হারের শঙ্কা জেগে উঠে রাজশাহী শিবিরে।
পঞ্চম উইকেটে মেহেদী ও নুরুল মিলে ৩৪ রানের জুটি গড়ে শেষ চেষ্টা চালান। কিন্তু শরিফুলের বলে ডিপ এক্সট্রা কভারে নাহিদুলের দারুণ ক্যাচে ১৭ বলে ২৬ রানে সাজঘরে ফেরেন মেহেদী। এরপর দ্রুত সাইফউদ্দিন (৯) ও নুরুলকে (২৮) ফেরান যথাক্রমে জিয়াউর রহমান ও মোস্তাফিজুর রহমান। তাদের বিদায়ের পর রাজশাহীর হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত ১৩৯ রানে থামে রাজশাহীর ইনিংস।
চট্টগ্রামের বোলারদের মধ্যে ১৯ রান খরচায় নাহিদুল নিয়েছেন ৩ উইকেট। জিয়াউর রহমান ১৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট। এছাড়া শরিফুল, রাকিবুল ও মোস্তাফিজ নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু পায় চট্টগ্রাম। সৌম্য-লিটনের জোড়া হাফসেঞ্চুরিতে কোনও উইকেট না হারিয়ে ১২২ রান স্কোরবোর্ডে জমা হয়। ৪৮ বলে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় সৌম্য ৬৩ রানের ইনিংস খেলে আনিসুলের শিকার হন। আগের ম্যাচে বিশ্রাম পাওয়া লিটন ততক্ষণে টুর্নামেন্টের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন। সৌম্যর বিদায়ের পরের ওভারেই রেজাউলের বলে বোল্ড হন লিটন। তার আগে ৫ চার ও ১ ছক্কায় খেলেছেন ৫৫ রানের ইনিংস।
লিটনের বিদায়ের পর দ্রুত বিদায় নেন অধিনায়ক মিঠুন (২)। আগের ম্যাচের নায়ক শামসুর রহমান এই ম্যাচেও ছিলেন ভয়ঙ্কর। ১৮ বলে ১ চার ও ৩ ছক্কায় ৩০ রানের ইনিংস খেলে দলের স্কোরকে সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখেন তিনি।
রাজশাহীর সফল বোলার আনিসুল ২১ রানে ২ উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া রেজাউল ও সাইফউদ্দিন একটি করে উইকেট নিয়েছেন।







