নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশন এমনিতেই পেসারদের স্বর্গরাজ্য। এর ওপর আবার উইকেট সবুজে ছেয়ে রাখায় ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন পরীক্ষার মঞ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভাল। বিরুদ্ধ কন্ডিশনে সেই জায়গাতেই নিজের ‘ক্লাস’ দেখালেন কেন উইলিয়ামসন। টেস্টে ব্যাটিং কীভাবে করতে হয়, কন্ডিশন ও পরিস্থিতির দাবি মিলিয়ে কীভাবে ধৈর্য ধরতে হয়- সবই পাওয়া গেল নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের ব্যাটিংয়ে। তাই পেস-সহায়ক উইকেটেও সুবিধা করতে পারলো না পাকিস্তান। ৩ উইকেটে ২২২ রান তুলে ফেলায় প্রথম দিনটা কিউইদেরই বলা যায়।
মন্থর ব্যাটিং বলতে যা বোঝায়, বে ওভালে উইলিয়ামসন সেটিই করলেন। সে কারণেই নিউজিল্যান্ডের উইকেট সংখ্যা বাড়েনি। অবশ্য তাতে পাকিস্তানের দুর্ভাগ্য ও বাজে ফিল্ডিংও দায়ী। এক উইলিয়ামসনই বেঁচেছেন কয়েকবার। নতুন ‘জীবন’ পেয়ে বিশুদ্ধ টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করেছেন প্রথম দিন। তাই দিন শেষে ২৪৩ বল খেলে ফেললেও তার রানের ঘরে জমা ৯৪*।
শুধু তিনি নন, অভিজ্ঞ রস টেলর ও হেনরি নিকোলসও পরিস্থিতির দাবি মিলিয়ে অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন। বিপদের সময় টেলর খেলে যান ৭০ রানের চমৎকার ইনিংস। আর নিকোলস অপরাজিত ৪২ রানে।
সবুজ উইকেটে টস জিতে বোলিং নেওয়ার সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগায় পাকিস্তান। শাহীন আফ্রিদির তোপে মাত্র ১৩ রানে দুই ওপেনারকে হারায় নিউজিল্যান্ড। ৪ রান করে বিদায় নেন টম ল্যাথাম, আর টম ব্লান্ডেল করেন ৫ রান।
দ্রুত ২ উইকেট হারানোর পর জুটি গড়েন উইলিয়ামসন ও টেলর। দারুণ ব্যাটিংয়ে দলের রান বাড়িয়ে নেন অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার। তৃতীয় উইকেটে গড়েন তারা ১২০ রানের জুটি। এই জুটিও ভেঙেছেন শাহীন আফ্রিদি। ১৫১ বলে ৭০ রানের সময়োপযোগী ইনিংস খেলে বিদায় নেন টেলর।
দিনের বাকি সময়টা নিকোলসকে সঙ্গী করে পার করে দিয়েছেন উইলিয়ামসন। সবুজ উইকেটে তাদের টিকে থাকাই ছিল বড় লক্ষ্য। ভালো বল সমীহ করেছেন, খারাপ বলে সদ্ব্যবহার করেছেন। এবং তাতে তারা পুরোপুরি সফল। বিশেষ করে উইলিয়ামসন। সবুজ উইকেটে ২৪৩ বল খেলা চাট্টিখানি কথা নয়। যদিও কয়েক দফা বেঁচে যাওয়াটাও ভূমিকা রেখেছে।
প্রথম দিনে স্বাগতিকদের হারানো ৩টি উইকেটই নিয়েছেন শাহীন আফ্রিদি।








