গতিময় বোলিংয়ে অন্যরকম একটা পরিচিতি ছিল তার। তাই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগেই আলাদা নজর কেড়েছিলেন শরিফুল ইসলাম। বিপিএলে খুলনা টাইটানসের জার্সিতেও এক মৌসুম খেলেছিলেন এই পেসার। অন্যদিকে পারভেজ হোসেন ইমন যুব বিশ্বকাপের পর ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলে নির্বাচকদের নজরে পড়েছেন।
সোমবার শরিফুল ও ইমন- দুজনই সুযোগ পেয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডের প্রাথমিক দলে। ২৪ জনের দলে সুযোগ পাওয়া শরিফুল ও ইমনের প্রশংসায় পঞ্চমুখ দুই নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু ও হাবিবুল বাশার।
শরিফুল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন ২০২০ সালের শুরুতে। ছিলেন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার। এরপর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ১০ ম্যাচে তার শিকার ১৬ উইকেট। এই ধারাবাহিকতা তাকে জায়গা করে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ওয়ানডে সিরিজের প্রাথমিক দলে। সুযোগ পেয়ে দারুণ রোমাঞ্চিত শরিফুল। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেছেন, ‘ওয়ানডের প্রাথমিক দলে জায়গা পেয়ে খুবই ভালো লাগছে। এটা ভালো লাগার মতোই অনুভূতি।’
পঞ্চগড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষক বাবার সন্তান শরিফুল। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতায় এরকম পরিবারের সন্তানদের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা একটু বাড়াবাড়িই। তারপরও স্বপ্নটা দেখেছিলেন দীর্ঘদেহী শরিফুল। ২০১৫ সালে মোস্তাফিজুর রহমান যখন মিরপুরে ভারতের বিপক্ষে একের পর এক উইকেট নিয়ে নিস্তব্ধ করে দিচ্ছিলেন প্রতিবেশী দেশের শতকোটি ক্রিকেটপ্রেমীকে, শরিফুলের চোখ তখন ছিল টেলিভিশনের পর্দায়। মোস্তাফিজের বোলিং-বীরত্ব তার রক্তে তোলে নাচন- 'হতে হবে তার মতো পেসার'। গ্রামে বিদ্যুৎ নেই, টেলিভিশন নেই। মোস্তাফিজের সেই বোলিং-বীরত্ব শরিফুল দেখেছিলেন বাড়ি থেকে ২০ মিনিট দূরের মউমারি বাজারের এক দোকানে।
জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে শরিফুলের মনে পড়ে যায় পুরনো সেই দিনগুলোর কথা, ‘যার জন্য এত কষ্ট করে এসেছি, সেখানে প্রথম সুযোগ পাওয়া। সেটি তো বিশেষ অর্জনই। সব মিলিয়ে দারুণ এক অনুভূতি কাজ করছে। সবারই লক্ষ্য থাকে। আমার স্বপ্ন ছিল ভালো করে জাতীয় দলে যাব, ক্যাম্পে ডাক পাবো। তো ডাক পেয়েছি। চেষ্টা করবো যেন এখান থেকে ঝরে না যাই।’
বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ভালো খেলার পরই আশায় ছিলেন এমন সুযোগ আসলেও আসতে পারে। শরিফুল বলে যান, ‘দুটি টুর্নামেন্টে ভালো বোলিং করার পর কিছুটা আশায় ছিলাম যে ডাক পেতে পারি। দুটি টুর্নামেন্টে আমার ভালো যাওয়ার কারণেই ডাক পেলাম বলে মনে হচ্ছে। কারণ অনূর্ধ্ব-১৯ ভিন্ন পর্যায়ের ক্রিকেট ছিল। আর এই ক্রিকেট আলাদা। তো এখানে পারফর্ম করলে ডাক পাওয়া যায়। আমার ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে।’
এদিকে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে ফরচুন বরিশালের হয়ে মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহীর বিপক্ষে অনবদ্য সেঞ্চুরি করে আলোড়ন তোলেন ইমন। ওই টুর্নামেন্টে খুলনার বিপক্ষে একটি ম্যাচে হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছিলেন তরুণ এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। যুব বিশ্বকাপেও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। তবে তার পথটাও সহজ ছিল না।
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত যুব এশিয়া কাপে সুযোগ পাননি ইমন। পরের শ্রীলঙ্কা সফরেও সুযোগ মেলেনি। পর পর দুটি সিরিজে সুযোগ হারিয়ে হতাশায় ভেঙে পড়েন এই ওপেনার। তখন তার পাশে এসে দাঁড়ান বিকেএসপির কোচ আসাদুল হক টুটুল। তাকে জোর করে অনুশীলন করান, অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটের একটি টুর্নামেন্টেও খেলতে বাধ্য করেন। ওই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ৯৬ রানের ইনিংসই নতুন জীবন দেয় ইমনকে।
বদলে যাওয়া জীবনে নতুন করে আরও একটি আনন্দের খবরে শিহরিত ইমন, ‘খুবই ভালো লাগছে যে প্রাথমিক স্কোয়াডে ডাক পেয়েছি। তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এটা খুবই বড় একটা ধাপ। এই সময়ে এমন খবরে খুবই রোমাঞ্চ কাজ করে, আমার ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে। সব মিলিয়ে ভালো একটা অনুভূতি কাজ করছে।’
জাতীয় দলের প্রাথমিক ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ইমন অবশ্য কল্পনাও করেননি এত দ্রুত তিনি সুযোগ পেয়ে যাবেন, ‘আমি স্কোয়াডে আমরা নাম দেখে খুবই অবাক হয়েছি, বিস্ময় কাজ করছিল। এটা অনেকটাই অপ্রত্যাশিত ছিল। ভাবিনি এত দ্রুত ডাক আসবে। এখন যা হয়েছে, এখানে ভালো করতে হবে। এর বাইরে কিছু ভাবছি না।’
তরুণ ইমন বড়দের মতো করেই ভাবছেন। জাতীয় দলের বাইরে গিয়ে তার ভাবনা দুটি প্রস্তুতি ম্যাচকে ঘিরে, ‘প্রাথমিক দলে ডাক পেলাম, এরপর কী হবে, চূড়ান্ত দলে থাকব কিনা- এসব নিয়ে ভাবছি না। দুটি অনুশীলন ম্যাচ থাকবে। আপাতত আমি এই দুটি ম্যাচের দিকে মনোযোগ রাখছি। এখানে ভালো করতে হবে।’









