টি-টোয়েন্টি যুগ শুরুর পর ‘টাই’ ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ওয়ানডেতেও এই ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালই তো জলজ্যান্ত উদাহরণ। কিন্তু প্রথম শ্রেণির ম্যাচ, তাও আবার শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল ‘টাই’- ক্রিকেট ইতিহাসে এই নজির ছিল না। তবে এবারের কায়েদ-ই-আজম ট্রফির ফাইনালের পর ইতিহাস পাল্টে গেল। পাকিস্তানের প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতার ফাইনাল দিয়ে প্রথমবার ‘টাই’ দেখলো ক্রিকেট বিশ্ব।
কায়েদ-ই-আজম ট্রফির ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল খাইবার পাখতুনখোয়া ও সেন্ট্রাল পাঞ্জাব। এই ম্যাচটি শেষ হয়েছে ঐতিহাসিক ‘টাই’য়ের সাক্ষী হয়ে। বৃথা গেছে পাকিস্তানি পেসার হাসান আলীর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরি। তিনি আবার পাঞ্জাবের অধিনায়কও। নিশ্চিত হারতে যাওয়া ম্যাচ হাসানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে নতুন করে ধরা দিলেও তীরে এসে তরী ডুবেছে। ৩৫৬ রানের লক্ষ্যে পাঞ্জাব অলআউট হয় ৩৫৫ রানে। স্কোর সমান হওয়ায় প্রথমবার কোনও ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ফাইনাল শেষ হয় টাইয়ে।
সেঞ্চুরিয়ান হাসান টিকে থাকলেও ১ রানের হিসাব মেলাতে পারেনননি ওয়াকাস মাকসুদ। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তিনি আউট হওয়াতে হারতে বসা ম্যাচ টাইয়ে শেষ করে পাখতুনখোয়া। সেটি জয়ের চেয়ে কোনও অংশে কম নয় তাদের জন্য। কেননা ফাইনাল ‘টাই’ হওয়ায় দুই দল যৌথভাবে হয়েছে চ্যাম্পিয়ন।
পাখতুনখোয়া প্রথম ইনিংসে ৩০০ রান করার পর পাঞ্জাব তাদের প্রথম ইনিংস ৯ উইকেটে ২৫৭ রানে ঘোষণা করে। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে কামরান গুলামের (১০৮) সেঞ্চুরিতে ৩১২ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় পাখতুনখোয়া। তাতে পাঞ্জাবের লক্ষ্য ঠিক হয় ৩৫৬ রানের।
কঠিন লক্ষ্যে খেলতে নেমে ২৪৯ রানে ৮ উইকেট হারানো পাঞ্জাবকে হার চোখ রাঙাচ্ছিল। কিন্তু পেসার হাসান হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যান। টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাট করে পূরণ করেন প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্রথম সেঞ্চুরি। ৬১ বলে ১০ চার ও ৭ ছক্কায় ১০৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়ের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু অন্যপ্রান্তে থাকা মাকসুদের (১৫ বলে ৪) বিদায়ে জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও ডুবতে হয়েছে হতাশার সাগরে।
অবশ্য তাদের হতাশার ম্যাচ দিয়ে ক্রিকেট বিশ্ব পেয়ে যায় ‘টাই’ হওয়া প্রথম কোনও প্রথম শ্রেণির ফাইনাল।









