বয়সভিত্তিক দলে ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে খেললেও জাতীয় দলে এসে ব্যাটিংয়ে খুব একটা আলো ছড়াতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। আজ সেই মিরাজের অসাধারণ ব্যাটিংয়েই প্রথম টেস্টে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ৪৩০ রানের বড় সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। তাতে ওয়ারিকান-কর্নওয়ালদের অসহায় বানিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সেঞ্চুরি খরাও কেটেছে তার। যা মিরাজের ক্যারিয়ারের ‘প্রথম’। হঠাৎ এমন সাফল্যের পেছনের রহস্য কী? তরুণ এই অলরাউন্ডার অবশ্য দলের দুই সিনিয়র ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন।
এদিন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিংয়ের বিপক্ষে মিরাজের কাভার ড্রাইভ, লেট কাট, সুইপ, রিভার্স সুইপ- কোন কিছুই বাদ ছিল না, যা আদর্শ ব্যাটসম্যানরা করে থাকেন। কখনো কখনো ডাউন দ্য উইকেটে এসেও খেলেছেন। অথচ এমন মিরাজকে আগে কখনো দেখা যায়নি। ঠাণ্ডা মাথায় এমন সাহসী ব্যাটিংয়ের পেছনে যাদের অবদান, দিন শেষে তাদের কথাই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জানালেন মিরাজ।
বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমি সেদিন নেটে ব্যাটিং করছিলাম, তখন তামিম ভাই আমাকে ২-১টা পরামর্শ দিচ্ছিলেন। এর আগে মুশফিক ভাইও অনেক পরামর্শ দিয়েছিলেন। উনি (মুশফিক) যখন অনুশীলনে একা একা আসতেন, আমাকে নিয়ে আসতেন। উনিও ব্যাটিং করতেন, আমাকেও ব্যাটিং করাতেন। শেষ এক সপ্তাহ আগেও আমি তার (মুশফিক) সঙ্গে ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করেছি। এক সপ্তাহ আগে মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে যে ট্রেনিং করেছি, তখন মুশফিক ভাই বলেছিলেন সোজা খেলতে হবে এবং বাইরের বলে যেন খোঁচা না দেই, এটা যেন ছেড়ে দেই। পাশাপাশি সবসময় যেন মনোযোগ ধরে রাখি এবং বল টু বল খেলার চেষ্টা।’
শুধু তাই নয় ফিটনেস নিয়েও মুশফিকের সঙ্গে কাজ করেছেন মিরাজ, ‘আমাদের জুনিয়রদের অভিজ্ঞদের দেখে শেখা উচিত। আমি নিজেও শিখি। ভালো খেলার জন্য তারা যে কষ্ট করেছে, আমি তাদের দেখে পরিশ্রম করার আত্মবিশ্বাসটা পাই। আমি মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে ব্যাটিং, ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি। তার কাছ থেকে অনেক টিপসও নিচ্ছি।’
তামিমের পরামর্শ প্রসঙ্গে মিরাজ বলেছেন, ‘গতিময় বলগুলো কীভাবে খেলতে হবে, সে ব্যাপারে তামিম ভাই আমাকে পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, শরীরের দিকে আসা বলগুলো সোজা খেলার জন্য। আজকে এটা প্রয়োগ করেছি। গ্যাব্রিয়েল যখন আমাকে শরীর বরাবল বল করেছে, যতটা সম্ভব সোজা খেলার চেষ্টা করেছি এবং লিভ করেছি। দু’জনের পরামর্শই অনেক কাজে লেগেছে।’
দ্বিতীয় দিন সকালে লিটন আউট হওয়ার পরই ক্রিজে নামেন মিরাজ। ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা নার্ভাস ছিলেন। তবে সাকিবের পরামর্শে সেই নার্ভাসনেস কাটিয়ে পেয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। সাকিবের ভূমিকার কথা জানাতে গিয়ে মিরাজ বলেছেন, ‘আমি যখন উইকেটে এসেছি, তখন একটু নার্ভাস ছিলাম। সাকিব ভাইয়ের সঙ্গে আমি কথা বলছিলাম যে, কী করলে ভালো হয়। সাকিব ভাই নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে বলেছেন। মাঝখানে আমি চাপমুক্ত হতে একটা স্লগ সুইপ চেষ্টা করেছিলাম। তখন সাকিব ভাই আমাকে বলেন যে, এখানে স্লগ সুইপের চেয়ে প্যাডল সুইপ করলে ভালো।’
মেহেদী হাসান আরও যোগ করে বলেছেন, ‘‘ক্রিজে নামার আগে মুশফিক ভাই বলেছিলেন, ‘এ উইকেটে অনেক সুযোগ আছে, ভালো কিছু যেমন ৭০ রানে নটআউট থাকতে পারবি’- ড্রেসিংরুমে সিনিয়র প্লেয়াররা যখন এ বিষয়গুলো জুনিয়র প্লেয়ারদের বলে, তখন কিন্তু আমাদের বুক অনেক বড় হয়ে যায়। পাশাপাশি ভালো করতে নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করা যায়।’








