প্রতিরোধ ভাঙা যাচ্ছিল না। বিশেষ করে, জন ক্যাম্পবেল বেশ চড়াও হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের বোলারদের ওপর। তাতে করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের উদ্বোধনী জুটিতে অস্বস্তি বাড়ছিল। অবশেষে স্বাগতিকদের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
এই স্পিনার একজনকে নয়, ২ ওভারে ফিরিয়েছেন ক্যারিবিয়ানদের দুই ওপেনারকে। ১৭তম ওভারে ক্যাম্পবেলকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে ১৯তম ওভারে বদলি ফিল্ডার ইয়াসির আলীর ক্যাচ বানান ক্রেগ ব্র্যাথওয়েটকে। মিরাজের জোড়া আঘাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪৮ রানে হারায় ২ উইকেট।
চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণার পর বোলিংয়ে নেমে সফরকারীদের উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়ার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। তবে শুরুটা প্রত্যাশামতো হয়নি। কেননা ব্র্যাথওয়েট ও ক্যাম্পবেল মিলে ভালোই পরীক্ষা নিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান-তাইজুল ইসলাম-মিরাজদের। তারা বেশ কয়েকবার ভালো সুযোগ তৈরি করলেও জুটি ভাঙা যাচ্ছিল না।
প্রথম ইনিংসে দারুণ বোলিং করা মিরাজের হাত ধরে আসে প্রথম সাফল্য। তার বল সুইপ করতে গিয়ে পায়ে লাগে ক্যাম্পবেলের। ফিল্ড আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নেন ক্যারিবিয়ান ওপেনার। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ২৩ রান করে এলবিডাব্লিউয়ের শিকার তিনি।
ক্যাম্পবেলকে আগের ওভারে বিদায় করে মিরাজ পরের ওভারেই প্যাভিলিয়নের পথ দেখান ব্র্যাথওয়েটকে। ২০ রান করে সফরকারী অধিনায়ক ফেরেন ইয়াসিরকে ক্যাচ দিয়ে।
৩৯৫ রানের লক্ষ্য দিলো বাংলাদেশ
মেহেদী হাসান মিরাজের আউটের সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করলো বাংলাদেশ। ততক্ষণে স্কোরে জমা হয়েছে ৮ উইকেটে ২২৩ রান। তাতে চট্টগ্রাম টেস্টে স্বাগতিকরা ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টার্গেট দিয়েছে ৩৯৫ রানের।
কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। বিশাল লক্ষ্যে পৌঁছাতে তাদের হাতে আছে দেড় দিনের মতো। বাংলাদেশ ইনিংস ঘোষণার সঙ্গে ৩৯৪ রানের লিডকে যথার্থ মনে করেছে। ব্যাটসম্যানদের পর এখন স্বাগতিক বোলারদের প্রমাণের পালা।
দিনের শুরুতে মুশফিকুর রহিমকে হারিয়ে চাপ তৈরি হলেও মুমিনুল ও লিটন দাসের চমৎকার ব্যাটিংয়ে সেই ধাক্কা কাটিয়ে বড় লিডের পথ তৈরি হয়। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের দশম সেঞ্চুরি। আর লিটন পান লাল বলের ক্রিকেটের ষষ্ঠ হাফসেঞ্চুরি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ঘুরে দাঁড়িয়েছে মুমিনুলের ব্যাট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেওয়া লিটন দাসও পেয়েছেন ফিফটি। যদিও ৬৯ রানে ফিরেছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। লিটনের বিদায়ের কিছুক্ষণ পর আউট হয়ে গেছেন মুমিনুলও। শ্যানন গ্যাব্রিয়েলের বলে কেমার রোচের হাতে ধরা পড়ার আগে খেলেছেন ১১৫ রানের ঝলমলে ইনিংস। ১৮২ বলের ইনিংসটি তিনি সাজান ১০ বাউন্ডারিতে।








