২ বল আগে ফিরে গেছেন তামিম ইকবাল। প্যাভিলিয়নে থাকা অবস্থাতেই নিশ্চয় সৌম্য সরকার দেখছিলেন ট্রেন্ট বোল্টের বলে বেশ ভুগতে হচ্ছিল তামিমকে। তাছাড়া বাঁহাতি এই পেসারের বলেই ফিরেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। কিন্তু পরিস্থিতির দাবি না মিটিয়ে ‘আত্মঘাতী’ হয়ে উইকেট বিলিয়ে এলেন সৌম্য।
দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের বিপদ বাড়িয়ে আসেন ওয়ান ডাউনে নামা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। এক সাক্ষাৎকারে সৌম্য জানিয়েছিলেন, অন্য সব ব্যাটসম্যানের কাছে বোল্ট কঠিন বোলার হলেও তার কাছে খুব সহজ মনে হয় তাকে খেলা। অতিআত্মবিশ্বাসী হয়তো এবার কাল হলো তার! মুখোমুখি হওয়া তৃতীয় বলেই বাউন্ডারি চাইলেন সৌম্য, কিন্তু ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক না হওয়ায় কভারে ধরা পড়েন অভিষিক্ত ডেভন কনওয়ের হাতে।
একটু আগে তামিম ফিরেছেন, তার পরপরই সৌম্যর বিদায়ে চাপ বাড়ে বাংলাদেশের। যদিও ওপেনার লিটন দাস ও চার নম্বরে নামা মুশফিকুর রহিম আশা দেখাচ্ছিলেন। কিন্তু লিটনের বিদায়ে আবার সব এলোমেলো। ঠাণ্ডা মাথায় ব্যাট করতে থাকা লিটন সফট ডিসমিসালের শিকার। জিমি নিশামের হঠাৎ লাফিয়ে ওঠা বল তার ব্যাটে লেগে জমা পড়ে বোল্টের হাতে। আউট হওয়ার আগে এই ওপেনার ৩৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে করেন ১৯ রান।
লিটনের বিদায়ের পর বাংলাদেশের স্কোর ১৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৪২ রান।
বোল্টের বল বুঝতে পারলেন না তামিম!
বল পিচ করে আউট সুইংয়ে বেরিয়ে যাচ্ছিল। বাঁহাতি তামিম ইকবাল তো একবার চমকেই উঠলেন ট্রেন্ট বোল্টের সুইংয়ে। উইকেট বরাবর বল পড়ে চোখের পলকে অফ স্টাম্পের বাইরে দিয়ে বেরিয়ে গেল! সেই বোল্টের ডেলিভারিতেই শেষ হলো তামিমের ইনিংস। এলবিডাব্লিউ হয়ে ফেরা বাংলাদেশ অধিনায়ক বলটি বুঝতেই পারেননি!
যেভাবে বাঁহাতি তামিমের বিপক্ষে আউট সুইং পাচ্ছিলেন বোল্ট, বাংলাদেশ ওপেনার ভেবেছিলেন এই বলটিও হয়তো সুইং করবে। কিন্তু বোল্টের ডেলিভারিতে কোনও সুইং হলো না। তামিম রক্ষণাত্মকভাবে ডান পা বাড়িয়ে ব্যাট পেতে রাখলেন, কিন্তু বল উইকেটে পিচ করে সরাসরি গিয়ে আঘাত করলো তার পায়ে। ব্যাট ও পায়ের গ্যাপ ছিল বেশ খানিকটা। তামিম যেটি মোটেও প্রত্যাশা করেননি। করার কথাও নয়, আগের প্রায় সব ডেলিভারিই যেহেতু আউট সুইং হয়েছে।
‘বোকা’ বনে যাওয়া তামিম ভালো শুরু পেয়েও তাই বিদায় নিলেন ১৩ রান করে। ১৫ বলের ইনিংসটি বাঁহাতি ওপেনার সাজান ১ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায়।
তার বিদায়ের পরপরই ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার। ওই বোল্টের বলেই রানের খাতা খোলার আগে আউট হয়ে গেছেন তিনি। তাদের বিদায়ের পর বাংলাদেশের স্কোর ৬ ওভারে ২ উইকেটে ২৫।
নিউজিল্যান্ডের কঠিন কন্ডিশনে এখনও জয়ের দেখা নেই বাংলাদেশের। এবার তামিম ইকবালরা গেছেন অতীতের ব্যর্থতা ঘোচাতে। সেই মিশনে আজ (শনিবার) প্রথম ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিং পেয়েছে বাংলাদেশ। ডানেডিনের কন্ডিশন মাথায় রেখে টস জিতে বোলিং নিতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথাম।
টস হেরে কিছুটা হতাশই হয়তো তামিম। কেননা টস পরবর্তী বক্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক জানালেন, টস জিতলে তিনিও ব্যাটিং নিতেন। তামিম এবারের সফরে সবচেয়ে বেশি আস্থা রাখছেন তার পেসারদের ওপর। তাই একাদশে রয়েছেন তিন পেসার। মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে আছেন তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদ।
সুযোগ হয়নি অভিজ্ঞ রুবেল হোসেনের। পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের খেলার কথা শোনা গেলেও তিনিও একাদশে জায়গা পাননি। তবে অভিষেক হয়ে গেছে স্পিনার মেহেদী হাসানের। আরেক মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তিনি স্পিন বিভাগ সামলাবেন।
নিউজিল্যান্ড আগেই জানিয়ে রেখেছিল, ডানেডিনে অভিষেক হবে তাদের তিন ক্রিকেটারের। সেই কথা অনুযায়ী, বাংলাদেশের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ক্রিকেটে প্রথমবার নেমেছেন দুই ব্যাটসম্যান ডেভন কনওয়ে ও উইল ইয়াংয়ের সঙ্গে অলরাউন্ডার ড্যারিল মিচেল।
নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এবার ইতিহাস পাল্টানোর মিশন নিয়েই নামছে সফরকারীরা। কারণ কিউইদের মাটিতে কখনোই জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ! তিন সংস্করণ মিলিয়ে ম্যাচ খেলেছে ২৬টি। অথচ একটি ম্যাচেও বিন্দুমাত্র প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। অদেখা সেই জয় পেতেই এবার মরিয়া বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল (অধিনায়ক), লিটন দাস, সৌম্য সরকার, মোহাম্মদ মিঠুন, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ, মেহেদী হাসান মিরাজ, মেহেদী হাসান, হাসান মাহমুদ, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ।
নিউজিল্যান্ড একাদশ: মার্টিন গাপটিল, হেনরি নিকোলস, ডেভন কনওয়ে, টম ল্যাথাম (অধিনায়ক ও উইকেটকিপার), উইল ইয়াং, জেমি নিশাম, ড্যারিল মিচেল, মিচেল স্যান্টনার, ম্যাট হেনরি, কাইল জেমিসন, ট্রেন্ট বোল্ট।









